রাজ্যে শিল্পায়নের পালে নতুন করে হাওয়া লাগাতে বড়সড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। কলকাতার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত রাজ্য সরকারের ‘শিল্পের জন্য জমি বিলি’ (অ্যালোটমেন্ট অফ ল্যান্ড ফর ইন্ডাস্ট্রি) অনুষ্ঠানে পুরুলিয়ায় একটি বৃহৎ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন কেন্দ্র গড়ার জন্য জমি দেওয়া হল বেসরকারি সংস্থাকে। এই অত্যাধুনিক মেগা প্রকল্পের জন্য ‘জুপিটার ডিফেন্স প্রাইভেট লিমিটেড’-কে প্রায় ২৫৬ একর জমি বরাদ্দ করল রাজ্যের শিল্প, বাণিজ্য ও উদ্যোগ দপ্তর। এটিই হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের বুকে প্রথম বৃহৎ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাণ বা ‘ডিফেন্স ম্যানুফ্যাকচারিং’ ইউনিট।
২৩ সেপ্টেম্বর আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের শিল্প, বাণিজ্য ও উদ্যোগ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী শ্রী তাপস রায় এবং ওই দপ্তরেরই রাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রীমতী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র। তাঁদের উপস্থিতিতেই এদিন জুপিটার কর্তৃপক্ষের হাতে জমির ছাড়পত্র তুলে দেওয়া হয়। জানা গিয়েছে, পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরে অবস্থিত ‘জঙ্গল সুন্দরী কর্মনগরী’ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের দ্বিতীয় পর্যায়ে (ফেজ-২) এই বিশাল কারখানাটি গড়ে উঠবে। জঙ্গলমহলে শিল্পের প্রসারে এবং আগামী দিনে ব্যাপক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপকে এক যুগান্তকারী উদ্যোগ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
রাজ্য সরকারের এই শিল্পবান্ধব উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছে জুপিটার ওয়াগনস লিমিটেড। সংস্থার এমেরিটাস চেয়ারম্যা মুরারি লাল লোহিয়া শিল্পায়নের প্রতি রাজ্য সরকারের এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং সার্বিক সহযোগিতার জন্য রাজ্য প্রশাসনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
এই নয়া উদ্যোগ প্রসঙ্গে জুপিটার ওয়াগনস লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর বিবেক লোহিয়া বলেন, “এই মেগা প্রকল্পের জন্য জমি বরাদ্দ এবং ক্রমাগত উৎসাহ দেওয়ার জন্য আমরা পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য সরকারের কাছে গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। পাশাপাশি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদিজি এবং ভারত সরকারকেও আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গড়ার অবিচল সংকল্প দেশের উৎপাদন ও প্রতিরক্ষা পরিকাঠামোকে প্রতিনিয়ত শক্তিশালী করে চলেছে।”
তিনি আরও জানান, এই বিপুল পরিমাণ জমি বরাদ্দ রাজ্যের শিল্পবান্ধব পরিবেশ এবং শিল্পায়নের প্রতি সরকারের ইতিবাচক অঙ্গীকারেরই জ্বলন্ত প্রমাণ। পশ্চিমবঙ্গে শিল্পের যে এক উল্লেখযোগ্য রূপান্তর ঘটছে, এই ঘটনা তারই প্রতিফলন। সংস্থা আশাবাদী যে, এই কারখানাটি পুরোদমে চালু হলে একদিকে যেমন ভারতের নিজস্ব প্রতিরক্ষা পরিকাঠামো ও সরঞ্জাম উৎপাদন ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে, তেমনই স্থানীয় স্তরে আনুষঙ্গিক ব্যবসা–বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে এবং ওই অঞ্চলে বিপুল কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। একটি শিল্পোন্নত ও সমৃদ্ধ পশ্চিমবঙ্গ এবং শক্তিশালী ভারত গড়তে আগামী দিনে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে তাঁরা বদ্ধপরিকর বলেও জানান বিবেকবাবু।

