আরজি কর ঘটনার তদন্তে ৪ নার্স হাজিরা দিলেন সিজিওতে

আরজি কর কাণ্ডের তদন্তে চারজন নার্সকে  তলব করা হয়েছিল সিবিআইয়ের তরফ থেকে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সেই নির্দেশ অনুসারে বৃহস্পতিবার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিলেন তাঁরা।  এঁদের মধ্যে একজন হলেন শম্পা দাস। এই শম্পা দাসের মোবাইলের একটি ভিডিয়ো নিয়েই বিস্তর জল্পনা তৈরি হয়। সিবিআই সূত্রে খবর, ঘটনার দিন হাসপাতালের এমারজেন্সি রুমে কর্মরত সাতজন নার্সকেই ডেকে পাঠানো হয় সিবিআই-এর তরফে। যার মধ্যে ৪ জন মেডিসিন বিভাগের। এঁদের বৃহস্পতি-শুক্র এই দু’দিন হাজিরা দেওয়ার কথা। সিজিও কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার হাজিরা দেওয়ার পর ওই চার জন নার্সকে বেশ খানিকক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আরজি কর ঘটনার তদন্তে এই নার্সদের বয়ান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকেরা।

এদিকে আবার সিবিআই তদন্ত শুরু হওয়ার কিছুদিন পর থেকেই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করতে থাকে নির্যাতিতার পরিবার। ঠিকভাবে তদন্ত হচ্ছে না বলে দাবি ছিল নিহত চিকিৎসকের বাবা-মা। সেই কারণে আরও তদন্ত চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন তাঁরা। এদিকে সুপ্রিম কোর্টেও আরজি কর মামলার শুনানি চলছিল। তাই হাইকোর্ট জানিয়েছিল, শীর্ষ আদালতের নির্দেশ না আসা পর্যন্ত শুনানি হবে না। এদিকে সুপ্রিম কোর্টে নির্যাতিতার বাবা-মা যে আবেদন করেছিলেন তা বিতর্কিত বলে মন্তব্য করেছিল আদালত। সেই প্রেক্ষিতে তাঁদের নতুন করে আবেদন করতে বলা হয়। পাশাপাশি কলকাতা হাইকোর্টে মামলা বিচারাধীন, তাহলে এই মামলার শুনানি কি বন্ধ করে দেওয়া হবে, এই প্রশ্ন নির্যাতিতার পরিবারকে করেছিল শীর্ষ আদালত। পরবর্তী সময়ে তাঁরা জানান, কলকাতা হাইকোর্টেই মামলা ফেরত চান। গত সোমবার সেই মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দেয়, নির্যাতিতার পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্টের একক বেঞ্চ মামলা শুনতে পারবে।

প্রসঙ্গত, গত ৯ অগাস্ট আরজি কর হাসপাতালে কর্তব্যরত অবস্থায় মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুন করা হয়। সেই ঘটনার প্রতিবাদে দীর্ঘ দিন অনশন এবং কর্মবিরতি চালান জুনিয়র ডাক্তারেরা। অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয় নিম্ন আদালত। তবে নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার নেপথ্যে আরও অনেকে রয়েছে। এখন দেখার নার্সদের জিজ্ঞাসাবাদ করে কোন নতুন তথ্য উঠে আসে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × 5 =