মাদ্রাসায় যোগ্যদের নিয়োগ আটকাতে কারচুপি ওএমআর শিটে। আর এই তথ্য মিলছে সিএফএসএল-এর রিপোর্টে। যার জেরে কার্যত প্রশ্নের মুখে পড়েছে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন। সঙ্গে এটাও স্পষ্ট যে যোগ্যদের আটকে জায়গা পাচ্ছেন অযোগ্যরাই।
আদালত সূত্রে খবর, অভিযোগ উঠছে, মাদ্রাসা নিয়োগে যোগ্য প্রার্থীদের নম্বর কমিয়ে অযোগ্যদের ঠাঁই দিচ্ছেন একাংশের পরীক্ষকরা। ইতিমধ্যে আদালতে এ ব্যাপারে একটি রিপোর্ট পেশ করেছে সেন্ট্রাল ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি বা সিএফএসএল। সঙ্গে এও জানা যাচ্ছে, সেন্ট্রাল ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির এই রিপোর্টে তুলে ধরা হয়েছে, কীভাবে একজন যোগ্য় প্রার্থীকে রাতারাতি অযোগ্য করে দিয়েছেন মাদ্রাসার একাংশের পরীক্ষকরা। সেই রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, পরীক্ষার্থী ওএমআর শিটে দাগিয়েছিলেন একটি নির্দিষ্ট অপশনে। কিন্তু পরীক্ষার্থীর নম্বর কমানোর জন্য পরবর্তীতে সেই একই সেটের অন্য একটি অপশনে কালির দাগ জুড়ে দেওয়া হয়। আর তাতেই ওএমআর স্ক্যানের সময় কম্পিউটার নিজে থেকেই পরীক্ষার্থীর সেই উত্তর ভুল বলে দাগিয়ে নেগেটিভ মার্কিং করে।
এই ঘটনা সামনে আসতেই যোগ্য প্রার্থীদের অযোগ্য বানাচ্ছে কারা তা নিয়ে। এই নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্নের মুখে পড়েছে মাদ্রাসা কমিশন। এক পরীক্ষার্থীর কমিশনে জমা দেওয়া চিঠিতে দেখা গিয়েছে, পরীক্ষার্থীর দাবি করছেন, ‘আমি অপশন ‘বি’তে দাগ দিয়েছিলাম। কিন্তু তার সঙ্গে কীভাবে অপশন সি-তে দাগ এল? আপনারা ইচ্ছাকৃত ভাবে এই ধরণের কাজ করেছেন।’
উল্লেখ্য, এই একই রকমের অভিযোগ উঠেছিল রাজ্যের স্কুল সার্ভিস কমিশনের বিরুদ্ধেও। ওএমআর দুর্নীতির অভিযোগে প্রশ্নের মুখে পড়েছিল এস বসু রায় অ্যান্ড কোম্পানি। সেবারেও দেখা গিয়েছিল, ওএমআর স্ক্যানের পরই ‘যোগ্য’ প্রার্থী কীভাবে ‘অযোগ্য’ হয়ে উঠছেন। সেই নিয়ে মামলা এখনও ঝুলে আদালতে। আর তা নিষ্পত্তির আগেই এবার কাঠগড়ায় দাঁড়াল মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন। তবে কি টাকার বিনিময়ে সেখানেও শুরু হয়েছে দেদারে নিয়োগ।