রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর বেহাল ছবি প্রকাশ্যে, বরাদ্দ টাকা খরচ করতে পারল না সিএমসি

ফের প্রকাশ্যে রাজ্যে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর দুর্দশার ছবি। সূত্রে খবর, জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনে বরাদ্দ টাকা খরচই করতে পারল না কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। এদিকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের বিরুদ্ধে রোগী পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে না পেয়ে ওষুধ, চিকিৎসার সামগ্রী কিনতে হচ্ছে তাঁদের। তবে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনে ৮৭ লক্ষ ২৯ হাজার ৪০১ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। ৩০ টি খাতে এই টাকা মঞ্জুর করেছিল স্বাস্থ্য ভবন। ২০২৪ সালের ২৪ মে নির্দেশিকা জারি করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জন্য বরাদ্দ হয় সেই টাকা। কিন্তু সেই টাকা খরচই করতে পারেনি কলকাতা মেডিক্যাল। ফলে ফেরত গেল সেই টাকা।

একইসঙ্গে এ তথ্যও মিলছে, জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনে বরাদ্দ টাকা দিয়ে জননী সুরক্ষা কার্যক্রমে সদ্যোজাতদের ওষুধ কেনা যেত, যাঁরা হাসপাতালের অন্য বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছে, তাঁদের জন্য ওষুধ কেনা যেত। রোগীর পরিজনরা স্পষ্টই অভিযোগ করছেন, তাঁদের সব কিছুই বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। ওষুধ তো বটেই, ডায়াগনিস্টিক, রক্ত পরীক্ষা, এক্স-রে-সবই বাইরে থেকে করতে হচ্ছে।

এই প্রসঙ্গে রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা জানাচ্ছেন, ‘ সরকারি হাসপাতালে যখন এসেছি, তখন তো জানি, আমার টাকা পয়সা লাগবে না, সুস্থ হয়ে ফিরে যাব। কিন্তু সবই বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। কী করব! প্রাণসংশয় হয়ে যাবে না হলে।’ আরেক রোগীর আত্মীয়র কথায়, ‘সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হলেও প্রচুর টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে। এক-একটা পরীক্ষা ১২০০ টাকা, এরকম অনেকগুলো পরীক্ষা করতে দিচ্ছে। সব মিলিয়ে খরচ বেসরকারি হাসপাতালের মতোই।’

এই প্রসঙ্গে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের এমএসভিপি অঞ্জন অধিকারী জানান, ‘আমাদের সর্বতোভাবে চেষ্টা করেছিলাম, যাতে কোনও টাকা পয়সা ফেরত না যায়। আমাদের দুর্ভাগ্য যে আমাদের অ্যাকাউন্টসকে বোঝাতে পারিনি, টাকা পুরোটাই খরচ করা উচিত। আমাকে অ্যাকাউন্টস থেকে বোঝানো হয়, এখানে বেশ কিছু ক্ষেত্রে নাকি ট্রেজারিও অবজেকশন দেবে।’

প্এরায় কই সুর কলকাতা মেডিক্যালের অধ্যক্ষ ইন্দ্রনীল বিশ্বাসের গলাতেও। তিনি বলেন, ‘কিছু ফিনান্সিয়াল প্রসেস রয়েছে। ভেন্ডারকে অর্ডার করতে হয়,নন ক্যাট হলে একটা টেন্ডার করতে হয়। ভেন্ডারকে মেটারিয়াল সাবমিট করতে হবে, বিল সাবমিট করতে হবে, তারপর সেটা অ্যাকাউন্ট সেকশনে যাবে, ট্রেজারিতে যাবে, তারপর পাস হয়। টাকা আসা ইয়ার এন্ডিং, এর মাঝের সময়টা যদি খুব কম হয়, তখন পুরোটা টাকাটা ব্যবহার করা যায় না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 × two =