১২ শতাংশ সুদ-সহ বেতন ফেরত দিতে হবে চিহ্নিত অযোগ্য চাকরি প্রাপকদের, নির্দেশ আদালতের

সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চও জানিয়ে দিয়েছে, কারা যোগ্য, কারা অযোগ্য এটা বাছাই করা সম্ভব নয়। তাই ২০১৬ সালের এসএসসির গোটা প্যানেলই বাতিল করার হাইকোর্টের নির্দেশ বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট ৷ পাশাপাশি এসেছে একগুচ্ছ নির্দেশও ৷ সুপ্রিম রায়ে জানানো হয়েছে, কাদের গত বছরের বেতন সুদসহ ফেরত দিতে হবে, আর কাদের নয় ৷ জানানো হয়েছে, চাকরি বাতিল হওয়া প্রায় ২৫,৩০০ জন রাজ্য সরকারের অন্যান্য দফতরে আবেদন জানাতে পারবেন ৷ সেক্ষেত্রে, তাঁদের বয়ঃসীমায় ছাড় দেওয়া হবে। যে সমস্ত চাকুরিজীবীরা নিজেদের পূর্বতন সরকারি চাকরি ছেড়ে এই চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন, তাঁরা তাঁদের পুরনো চাকরিতে ফিরে যাওয়ার আবেদন করতে পারবেন। আগামী তিন মাসের মধ‍্যে তাঁদের পূর্বতন কাজে ফেরত পাঠাতে হবে বলে রায় সুপ্রিম কোর্টের ৷ পাশাপাশি নতুন করে নিয়োগ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে৷

প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খন্না এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ জানায়, ২০১৬ সালের এসএসসিতে চাকরি পাওয়া ১৮ জন দৃষ্টিহীনেরও চাকরি বাতিল হয়েছে। মূল মামলাকারীদের আইনজীবী সুদীপ্ত দাশগুপ্ত বলেন, ‘শুধুমাত্র ইনসার্ভিস শিক্ষকেরা স্বস্তি পেয়েছে। বেতন ফেরত দিতে হবে চিহ্নিত অযোগ্য চাকরি প্রাপকদের। তা ফেরৎ দিতে হবে ১২ শতাংশ সুদসহ।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের এসএসসির মোট নিয়োগপত্র ছিল ২৫,৮৪৪৷ মোট নিয়োগ ২৫,৭৫৩৷ ক্যানসার রোগী সোমা দাসের চাকরি বহাল রয়েছে। ইনসার্ভিস প্রায়  ৪২৫ জন ফিরবেন তাঁদের পুরনো কর্মস্থলে। সর্বমোট চাকরি বাতিল তাই ২৫,৩২৭ জনের ৷

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, যাঁরা চিহ্নিত অযোগ্য, তাঁদের বেতনের টাকা ফেরত দিতে হবে। এই প্রসঙ্গে আইনজীবী ফিরদৌস শামিম জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের তরফে তিনটে ক্যাটাগরি করে দেওয়া হয়েছে। কারা কারা ব্ল্যাঙ্ক ওএমআর শিট জমা দিয়েছিল, তাঁদের নামের তালিকা ইতিমধ্যেই তৈরি করা রয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টে সেই তালিকা জমা পড়ে। তাঁদেরকে ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে। এতদিন তাঁরা যে বেতন পেয়ে এসেছেন, অর্থাৎ ২০১৬ সাল থেকে, তার ১২ শতাংশ সুদের হারে টাকা ফেরত দিতে হবে। ফ্রেশ সিলেকশন প্রসেসে তাঁরা বসতে পারবেন না।

ফলে এই বেতন ফেরত দেওয়ার তালিকার মধ্যে এসসিসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী,  সংখ্যাটা ৫ হাজার ৪৮৫ জন।  প্যানেলে নাম না থাকা সত্ত্বেও যারা চাকরি পেয়েছেন, যারা সাদা খাতা জমা দিয়ে কিংবা ওএমআর শিটে নম্বর জালিয়াতি করে চাকরি পেয়েছেন, তাঁদের সমস্ত বেতন ফেরত দিতে হবে। সঙ্গে গুনতে হবে সুদের টাকাও। সব মিলিয়ে তা মোটা অঙ্ক দাঁড়াবে। তবে উল্লেখ্য, এই তালিকা কেবল এসসিসির তরফে দেওয়া হয়েছে। এরপর বোর্ড ও রাজ্যের তরফেও আলাদা আলাদা করে তালিকা দেওয়া হয়েছে। তাই সংখ্যাটা কত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সেক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনামা সামনে আসলে সংখ্যাটা স্পষ্ট হবে। তবে বিশিষ্ট আইনজীবীরা জানাচ্ছেন, সংখ্যাটা পাঁচ হাজারের কম হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 × three =