দীর্ঘ আইসিইউ চিকিৎসার পর বিরল, প্রাণঘাতী মস্তিষ্কের রোগে আক্রান্ত ৭ বছরের শিশুকে সুস্থ করল  ফর্টিস আনন্দপুর

ফর্টিস হাসপাতাল, আনন্দপুরে একটি অত্যন্ত জটিল ও প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত ৭ বছরের এক শিশুর সফল চিকিৎসা হল। সংস্থার তরফ থেকে জানানো হয়েছে, শিশুটির Acute Necrotizing Encephalopathy of Childhood (ANEC) নামে একটি বিরল স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত ছিল, যা মস্তিষ্কে মারাত্মক প্রদাহ সৃষ্টি করে। ডা. ঋতিকা ঘোষ দস্তিদার, কনসালট্যান্ট পেডিয়াট্রিশিয়ান ও পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভিস্ট-এর নেতৃত্বে চিকিৎসক দল উন্নত লাইফ সাপোর্ট ও বহু-বিভাগীয় চিকিৎসার মাধ্যমে শিশুটিকে সফলভাবে সুস্থ করে তোলে, যার ফলে ধীরে ধীরে তার অবস্থার উন্নতি হয়। এই প্রসঙ্গে বলে রাখা শ্রেয়, বিশ্বজুড়ে চিকিৎসা সাহিত্যে এ ধরনের মাত্র কয়েকশ’ কেসই নথিভুক্ত হয়েছে।

একই সঙ্গে ফর্টিস আনন্দপুরের তরফ থেকে এও জানানো হয় যে, ভর্তি হওয়ার সময় শিশুটি খিঁচুনি ও অস্বাভাবিক শারীরিক ভঙ্গিতে ভুগছিল। প্রাথমিক পরীক্ষায় মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাঁধা, লিভারের কার্যকারিতার সমস্যা এবং শরীরে অত্যন্ত উচ্চ মাত্রার প্রদাহ ধরা পড়ে। ব্রেন স্ক্যানে Acute Necrotizing Encephalopathy নিশ্চিত হয়—এটি একটি বিরল এবং দ্রুত অবনতি ঘটানো মস্তিষ্কের রোগ, যা সময়মতো চিকিৎসা না হলে প্রাণঘাতী হতে পারত। রোগের অগ্রগতির সঙ্গে শিশুটির কিডনিও সঠিকভাবে কাজ করা বন্ধ করে দেয়, ফলে শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করতে ও প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে উন্নত ডায়ালিসিসের প্রয়োজন হয়।

চিকিৎসার সময় শিশুটি গুরুতর সংক্রমণে আক্রান্ত হয়, যার ফলে তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় এবং রক্তচাপ ও হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা বজায় রাখতে নিবিড় চিকিৎসা সহায়তা প্রয়োজন হয়। দুই সপ্তাহ ভেন্টিলেশনে থাকার পর দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসপ্রশ্বাসের সহায়তার জন্য ট্র্যাকিওস্টোমি (শ্বাসনালিতে একটি ছোট অস্ত্রোপচারজনিত ছিদ্র) করা হয়। চিকিৎসার সময় হঠাৎ হঠাৎ হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপের ওঠানামার মতো জটিলতা দেখা দেয়, যার জন্য নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও উন্নত ক্রিটিক্যাল কেয়ার ম্যানেজমেন্ট প্রয়োজন হয়।

প্রায় দুই মাস আইসিইউ-তে থাকার পর শিশুটির অবস্থার স্থির উন্নতি দেখা যায়। ছাড়পত্র দেওয়ার সময় পুনরায় ব্রেন ইমেজিংয়ে উন্নতির প্রমাণ মেলে। শিশুটি ট্র্যাকিওস্টোমির মাধ্যমে নিজে শ্বাস নিতে সক্ষম হয়, ফিডিং টিউবের মাধ্যমে পুষ্টি গ্রহণ করতে পারে এবং ধীরে ধীরে স্নায়বিক উন্নতির লক্ষণ দেখা যায়।

এই প্রসঙ্গে ডা. ঋতিকা ঘোষ দস্তিদার, কনসালট্যান্ট পেডিয়াট্রিশিয়ান ও পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভিস্ট, ফর্টিস হাসপাতাল আনন্দপুর বলেন, “ANEC শিশুদের মধ্যে একটি অত্যন্ত বিরল এবং আক্রমণাত্মক মস্তিষ্কের রোগ, যা খুব দ্রুত অবনতি ঘটাতে পারে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। এ ধরনের রোগের চিকিৎসায় শুধু উন্নত চিকিৎসা পদ্ধতিই নয়, ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ এবং বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ বিভাগের ঘনিষ্ঠ সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। চিকিৎসার সময় একাধিক প্রাণঘাতী জটিলতার সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও শিশুটি অসাধারণ মানসিক শক্তি প্রদর্শন করেছে। আমরা আশা করছি, নিয়মিত পুনর্বাসন ও ফলো-আপ চিকিৎসার মাধ্যমে আগামী মাসগুলিতে তার আরও উন্নতি হবে।”

পাশাপাশি ফর্টিস হাসপাতাল ফ্যাসিলিটি ডিরেক্টর আনন্দপুরের আশিস মুখোপাধ্যায় জানান, “এই ঘটনাটি ফর্টিস হাসপাতাল আনন্দপুরে শিশুদের জন্য ক্রিটিক্যাল কেয়ারের সক্ষমতাকে তুলে ধরে, যেখানে উন্নত প্রযুক্তি, চিকিৎসা দক্ষতা এবং সমন্বিত বহুবিভাগীয় চিকিৎসা একত্রিত হয়ে জটিলতম রোগের সফল মোকাবিলা করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

12 + ten =