ছাব্বিশে বিধানসভা নির্বাচন। হাতে মেরেকেটে আর একটা বছর। এই ভোটযুদ্ধের আগে আবার নতুন রূপে ময়দানে নেমে পড়লেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রে খবর, আগামী ২৩ মার্চ ভোটের রণকৌশল ঠিক করতে বৈঠকে বসছে তৃণমূলের সোশ্যাল মিডিয়া সৈনিকরা। তবে তার আগেই দক্ষিণ কলকাতা ছেয়ে গেল পোস্টার ও পতাকায়। আর সেখানেই নতুন ফর্মে তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পতাকায় ফুটে উঠল ‘অধিনায়ক অভিষেক’। জোড়াফুল শিবির সূত্রে এ খবরও মিলছে. রবিবার ছাব্বিশের ভোটের জন্য তৃণমূলের সোশ্যাল মিডিয়া রণকৌশল তৈরিতে গাঙ্গুলিবাগান এলাকায় হবে এই বৈঠক। এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের আইটি সেলের প্রধান দেবাংশু ভট্টাচার্য জানান, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় তৃণমূলের যতগুলি সমর্থক গ্রুপ রয়েছে তার মধ্যে অধিনায়ক অভিষেক ওদেরই সংগঠনেরই একটি শাখা। তারই এই পতাকা।’
এখানে আরও একটি ঘটনা উল্লেখ না করলেই নয়, মাস কয়েক আগে তৃণমূলের দুই হাইকমান্ডের ‘বিড়ম্বনা’ নিয়ে দলের মধ্য়ে তৈরি হয়েছিল জল্পনা। সংগঠনের মূল ধারা থেকে অভিষেক দূরত্ব তৈরি করলে দলের অন্দরে দুই নেতৃত্বের সম্পর্কের রসায়ন নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি করতে শুরু করে একাংশ। কিন্তু সেই জল্পনাকেই রীতিমতো ফুৎকার দিয়ে উড়িয়ে দেন মমতা। দুই মাথার মধ্যে সম্পর্কে যে কোনও টানাপোড়েন নেই, সেই বিষয়টা ভাল করেই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।
এরপর থেকেই পুনরায় ময়দানে নেমে পড়তে দেখা গিয়েছে অভিষেককে। সামনেই নির্বাচন। তাই আরও ‘কর্পোরেট’ আকারে ভোটের ময়দানে আসর বেঁধেছে তৃণমূল। এমনকি, হাজার বিতর্কের পরেও আগামী নির্বাচনেও তাদের কৌশলী যে আইপ্যাক হতে চলেছে তাও স্পষ্ট করেছে তারা। একাংশের দাবি, ভোটের এই সব কৌশলই তৈরি করছেন অভিষেকই। দলে যে তিনি অধিনায়ক তা বুঝিয়ে দিচ্ছেন ভালয়-ভালয়।
প্রসঙ্গত, মমতার পর দলে অভিষেকই সেকেন্ড-ইন-কমান্ড, তা সম্প্রতি একটি বৈঠক থেকে ইঙ্গিতে স্বীকার করতেও শোনা যায় তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিকে। অভিষেককে ‘আমাদের সম্বোধন’ করতে দেখা যায় তাঁকে। এমনকি, বৃহস্পতিবার বিদেশ যাওয়ার আগে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতাও কার্যত পরিষ্কার করে দিয়েছেন, তাঁর অনুপস্থিতিতে কার হাতে থাকবে দলের রাশ। বিদেশ সফরকালীন সময়ে দলের কাজকর্ম যে সুব্রত-অভিষেকের‘যৌথ নেতৃত্ব’-এ চলবে তারও স্পষ্ট বার্তা দিয়ে গেছেন মমতা।