সাউথ সিটি মলে বাংলার নারী ‘সৃজনী’দের সম্মান জানাল তানিষ্ক

Featured Video Play Icon

টাটা হাউসের ভারতের বৃহত্তম গহনা খুচরা বিক্রেতা ব্র্যান্ড  তানিষ্ক সম্প্রতি দক্ষিণ কলকাতার সাউথ সিটি মলে এক বিশেষ সন্ধ্যার আয়োজন করেছিল, যা উৎসর্গ করা হয়েছিল বাংলার নারীদের—’সৃজনী’দের—উদ্দেশ্যে। এই নারীরাই প্রতিদিন তাঁদের সৃজনশীলতা, সাহস এবং অনুপ্রেরণার মাধ্যমে বাঙালি সংস্কৃতিকে নতুনভাবে রূপ দেন, অনুপ্রাণিত করার পাশাপাশি সংজ্ঞায়িতও করেন। প্রতিটি গল্প প্রতিটি সৃষ্টি আর প্রতিটি পদক্ষেপে ‘সৃজনী’রা এগিয় নিয়ে যাচ্ছেন আমাদের ‘নতুন বাঙালিয়ানা’ এর যাত্রা এবং তানিষ্ক তাদের সাথে উদযাপন করছে প্রতিটি মুহূর্ত।

এই অনুষ্ঠানে প্রায় ২০০ জনেরও বেশি দর্শনার্থী উপস্থিত ছিলেন, যাঁরা তাঁদের জীবনের এই অসাধারণ নারীদের সম্মান জানাতে একত্রিত হয়েছিলেন। যাঁরা মা, পথপ্রদর্শক, বন্ধু কিংবা সহকর্মী হিসেবে তাঁদের অনুপ্রাণিত করেছেন।সন্ধ্যাটি  একটি প্রাণবন্ত সমাবেশে পরিণত হয়েছিল, যেখানে দর্শনার্থীরা একে অপরকে উৎসাহিত ও করতালি দিয়ে প্রশংসা ও ক্ষমতায়নের এক সম্মিলিত মুহূর্ত তৈরি করেন।    

 ‘নতুন বাঙালিয়ানার সৃজনীরা এই ট্যাগলাইনে  মলের  দর্শনার্থীদের মধ্যে আলোচনার  সূত্রপাত ঘটায়। আর এই আলোচনার মধ্য দিয়ে প্রাণবন্ত ও অনুপ্রেরণাদায়ী নারীদের কথা পুরুষেরা তুলে ধরেন  যাঁরা তাঁদের জীবনে কোনও না কোনও ভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছেন কখনও তাঁর মা, কখনও পথপ্রদর্শক আবার কখনও বা বন্ধু কিংবা সহকর্মী হিসেবে।

তবে এদিনের এই অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল বড় এলইডি পর্দায় প্রদর্শিত সৃজনী চলচ্চিত্র। এই চলচ্চিত্র দর্শকদের মনে করিয়ে দেয়, কীভাবে নারীরা প্রতিদিন তাঁদের শক্তি, যত্ন এবং সৃজনশীলতার মাধ্যমে নতুন বাঙালিয়ানাকে গড়ে তুলছেন। আরজে নীলঞ্জনার সঞ্চালনায় দর্শকরা নিজেদের জীবনের অনুপ্রেরণাদায়ী নারীদের গল্প শেয়ার করেন, যা অনুষ্ঠানকে আরও আন্তরিক ও ইন্টারেক্টিভ করে তোলে।

অভিনেত্রী শাঁওলি চট্টোপাধ্যায়ের আবৃত্তি পরিবেশনা ছিল আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। যা সৃজনীর চেতনায় অনুপ্রাণিত। এই পরিবেশনাটি উদযাপন করেছিল সেই নীরব সাহস, সহনশীলতা এবং ব্যক্তিগত মর্যাদাকে, যা বাঙালি নারীরা প্রতিদিন ধারণ করেন – সেই নারীরাই, যাঁরা তাঁদের শক্তি, যত্ন এবং সৃজনশীলতার দৈনন্দিন কাজের মাধ্যমে বাংলার সংস্কৃতিকে সৃষ্টি ও নতুন করে সংজ্ঞায়িত করে নতুন বাঙালিয়ানাকে গড়ে তোলেন ও লালন করেন।  একইসঙ্গে তাঁর কণ্ঠে ফুটে ওঠে বাঙালি নারীর নীরব সাহস, সহনশীলতা এবং ব্যক্তিগত মর্যাদা। এই পরিবেশনা যেন প্রতিদিনের জীবনে নারীর অবদানকে শিল্পিতভাবে উদযাপন করল।

সব মিলিয়ে তানিষ্কের এদিনের এই আয়োজন হয়ে উঠেছিল এক আন্তরিক উৎসব, যেখানে নারীর বহুমাত্রিক শক্তিকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এই প্রেক্ষাপটে এটাও স্পষ্ট যে, আধুনিক ব্র্যান্ডিং কেবল পণ্য বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের আবেগ, সংস্কৃতি এবং সামাজিক মূল্যবোধকে সম্মান জানানোই আসল শক্তি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fifteen + 16 =