রামনবমী উপলক্ষে কলকাতা শহর জুড়ে লাগানো হয়েছে পোস্টার। সেখানে নরেন্দ্র মোদি এবং শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি অযোধ্যার রাম মন্দিরের ছবি রয়েছে ৷ আর সেখানে বাংলায় লেখা, ‘রাম নবমী পালন করুন’ ৷ শুধু পোস্টার নয়, হোর্ডিং ও ফ্লেক্সও লাগানো হয়েছে ৷ শ্যামবাজার, হাতিবাগান, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, ধর্মতলা-সহ উত্তর কলকাতার একাধিক জায়গায় এই পোস্টার, ব্যানার ও ফ্লেক্স পড়েছে ৷
মূলত রবিবার রাতেই সেগুলি লাগানো হয়েছে ৷ সোমবার সকাল হতেই পোস্টারগুলি স্থানীয়দের নজরে আসে ৷ তবে, এই রামনবমী পালনের আহ্বানকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা ৷ আগেই শুভেন্দু অধিকারী সকলকে রামনবমী পালনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। এমনকি ওইদিন এক কোটিরও বেশি হিন্দু রাস্তায় নেমে মিছিল করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি ৷উত্তর কলকাতার একাধিক জায়গায় পড়েছে পোস্টার। রামনবমীর এমনই এক পোস্টার ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। এই বিষয়টিকে ইস্যু করেছে শাসকদল। শাসকমন্ত্রী তথা মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘এখন দেখছি, ওরা একটা নতুন ইস্যু তৈরি করছে। সাম্প্রদায়িকতার ইস্যু। কিন্তু এখন এটাতে খুব বেশি লাভ হবে না। এভাবে ভোট পাওয়া যায় না।’
যদিও বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘এটা কোনও রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নয়। আমি একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। আমি যদি কারোর বিয়েতে যাই, তাহলে সেটা রাজনৈতিক অনুষ্ঠান হতে পারে না। আমাকে যদি ডাকে রামনবমীর মিছিলে হাঁটতে। তাহলে অবশ্যই হাঁটব। একজন হিন্দু হিসাবে অবশ্যই হাঁটব। আমরা যে ‘জয় শ্রী রাম’ বলি, এটা কোনও ধার্মিক স্লোগান নয়। ভুল করে ওরা।’ তবে এরই পাশাপাশি দিলীপ ঘোষ এও জানান, এই রামনবমীর মিছিলে অস্ত্রহাতে লোকজনের নামার সম্ভাবনা রয়েছে ৷ যা নিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেছেন, ‘অস্ত্র নিয়ে মিছিল নতুন নয় ৷ মহরমে যদি অস্ত্র বেরোতে পারে, তাহলে রামনবমীতে বেরবে না কেন ? মিছিলের সুরক্ষার জন্য অস্ত্র নিয়ে বেরনোর প্রয়োজন রয়েছে ৷’
নিজের যুক্তির সপক্ষে পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ করেছেন দিলীপ ৷ তাঁর বক্তব্য, ‘পুলিশের উপর কোনও ভরসা নেই ৷ পুলিশ সুরক্ষা দিচ্ছে না ৷ পুলিশের কোনও সুরক্ষা নেই ৷ মোথাবাড়িতে থানা ভেঙে দেওয়া হচ্ছে ৷ কালিয়াচকেও ওই একই ঘটনা হয়েছে ৷ কে সুরক্ষা দেবে ! হিন্দুরা তাহলে ধর্ম-কর্ম বন্ধ করে দেবে ! শোভাযাত্রা পুজোপাঠ করবে না ৷ কারণ, এসব হলেই হামলা হবে ৷ যেটা জায়গায়-জায়গায় হচ্ছে ৷ তাই হিন্দুদের নিজের সুরক্ষার জন্য, নিজেদের ব্যবস্থা করতে হবে ৷’
এই প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাজ্যে বিধানসভা ভোটের দিকে নজর রেখে হিন্দুত্বের সুর চড়িয়েই চলেছে বিজেপি। পাল্টা প্ররোচনার অভিযোগে সরব শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা হলেও শুভেন্দু আগেই জানিয়েছেন, তিনি শুধু হিন্দু ভোটে জিতেছেন। সঙ্গে এও জানান, তিনি সকলের নন, তিনি শুধু হিন্দুদেরই বিধায়ক। ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে বিজেপির হিন্দুত্বের ইস্যুতে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়াচ্ছে এমন ভাবেই। এবার রামনবমীর পোস্টার ঘির বিতর্ক দানা বাঁধল।