হিন্দিভাষী ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হলে ভোটাধিকারের স্পষ্ট লংঘন হবেঃ অর্জুন সিং

২০১১ সালের ক্ষমতায় আসার পর ৬টি  ভাষাকে সংখ্যালঘু তকমা দেওয়া হয়েছিল। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে।  আর এই তকমা দেওয়া হয় ২০১১-র ২৭ জুন। তখন সরকারের তরফ থেকে এও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল এই ভাষাভাষীদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া হবে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে। আদতে তা করা হয়নি বলেই অভিযোগ বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারির।  একইসঙ্গে তিনি এও জানান, এই ভাষাভাষীদের ওপর বিশেষ কোনও নজর না দেওয়ায় তারা সরকারের প্রতি ভরসাও হারিয়েছেন। এদিকে সামনেই ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন। আর এই নির্বাচনের আগে চলছে ভোটার লিস্ট তৈরির কাজ। এই ভোটার লিস্ট তৈরির সময়েই শাসকদলের কোপে পড়ছেন এই ৬ ভাষাভাষীর লোকেরা। কারণ, শাসকদল বিলক্ষণ জানে যে ২০২৬-এর নির্বাচনে এই ৬ ভাষাভাষী গোষ্ঠীর লোকেদের ভোট তাদের পক্ষে যাবে না। আর সেই কারণেই ভোটার লিস্ট থেকে এই ছয় ভাষাভাষী সম্প্রদায়ের লোককে বাদ দেওয়ার অভিযোগও সামনে এনেছেন বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারি।  এমন অভিযোগ জানিয়ে সোমবার বিজেপির এক প্রতিনিধি দল তাঁদের অভিযোগ জানাতে যান  ইলেকশন কমিশন অফিসে।  বিজেপির তরফে এই প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিংও।

এদিন এই প্রসঙ্গে জিতেন্দ্র তিওয়ারি এও জানান, বিজেপির তরফ থেকে ইলেকশন কমিশনের কাছে এ অভিযোগও জানানো হয়েছে যে এই ছয় ভাষাভাষীর মানুষে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের ৬৫ টি বিধানসভা কেন্দ্রে। এই তালিকায় যেমন রয়েছে আসানসোল উত্তর এবং দক্ষিণ, ঠিক তেমনই রয়েছে ব্যারাকপুর, ভাটপাড়া, জগদ্দল, কামারহাটি, নৈহাটি, বীজপুর, কুলটি, রানিগঞ্জ পাণ্ডবেশ্বরের মতো জায়গাও। এই তালিকায় রয়েছে খোদ কলকাতার বরাহনগর, বেলগাছিয়া, কাশীপুর, জোড়াসাঁকো, ভবানীপুর, মানিকতলার মতো এলাকাও। রয়েছে হাওড়া, বালি, শিবপুরের মতো এলাকাও। খুব স্পষ্ট কথায় এগুলি প্রত্যেকটিই বিজেপি সমর্থক অধ্যূষিত এলাকা বলেই গত কয়েক বছরে পরিচিতিও পাচ্ছে বঙ্গ রাজনীতিতে। আর এখানেই ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে এই ছয় ভাষাভাষীর ভোটারকে বাদ দেওয়ারও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে বঙ্গ বিজেপির তরফ থেকে।

এদিকে এদিন ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিং জানান, পশ্চিমবঙ্গ ভাষাগত সংখ্যালঘু সমিতির পক্ষ থেকে, রাজ্যের ভারপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে রাজ্যের ভোটার তালিকা থেকে জাল, মৃত ভোটারদের নাম মুছে ফেলার দাবিতে একটি স্মারকলিপি পেশ করা হয়। সেই সঙ্গে শাসকদলের ভুল অভিযোগ ও নির্দেশে হিন্দিভাষী ভোটারদের নাম যাতে কাটা না যায় সে বিষয়েও দাবি জানানো হয়। প্রায় ৬৫ টি বিধানসভা আসনের কথা উল্লেখ করে, কমিশনকে বলা হয়েছে যে সঠিক তদন্ত ছাড়াই কোনও হিন্দিভাষী ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হলে তা তাদের ভোটাধিকারের স্পষ্ট লংঘন হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eleven + 7 =