বোমাবাজি মামলায় সাময়িক স্বস্তিতে অর্জুন সিং। বাড়ির সামনে বোমা বাজি সংক্রান্ত মামলায় আপাতত গ্রেফতার করা যাবে না প্রাক্তন সাংসদকে, এমনই নির্দেশ বিচারপতি জয় সেনগুপ্তর। সঙ্গে এও জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার মামলার শুনানির আগে পর্যন্ত বিজেপির প্রাক্তন সাংসদের বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না, এই বিষয়েই এমনই মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্যকে।
এই মামলাতেই, মঙ্গলবার অর্জুন সিংয়ের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে নিম্ন আদালত। এরপরেই সে বিষয়ে বুধবার প্রাক্তন সাংসদকে রক্ষাকবচ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট।
প্রসঙ্গত, গত ২৬ মার্চ প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিংয়ের বাড়ির সামনে ব্যাপক বোমাবাজির ঘটনা ঘটে। পুলিশসূত্রে খবর, ওই বাড়ির সামনে মোট সাত রাউন্ড গুলি চালানো হয়। বাড়ির সামনে এই বোমাবাজির ঘটনায় অর্জুন সিং এর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। এরপরেই গত ২৭ মার্চ জগদ্দল থানার পুলিশ অর্জুনের বাড়ি আসে। এর আগে পুলিশ ডাকলেও তিনি হাজিরা দেননি। তিনি জানিয়েছিলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য আপাতত তিনি বাইরে আছেন। এরপরেই তিনি রক্ষাকবচ চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ। সেই মামলাতেই মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয় আদালতের।
এই প্রসঙ্গে অর্জুন সিংয়ের আইনজীবী বলেন, ‘অর্জুনের আইনজীবী দাবি করেছেন, অর্জুন হাজিরা না দেওয়ার কারণে বাড়ি এসে পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। ২৬ মার্চের পরেও ২৭ মার্চেও দুপুরে ফের বোমা পড়ার ঘটনা ঘটে ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের আট চালা বস্তিতে।’
পুলিশের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে এর আগে অর্জুন জানিয়েছিলেন, ‘রুস্তম ঘুমটির দিক থেকে বোমা ছোড়ে দুষ্কৃতীরা। এলাকার মানুষকে আতঙ্কিত করার জন্য এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে। আমি এতে ভিত নই। পুলিশের এত সিসি ক্যামেরা রয়েছে সেগুলো দেখছে না আমাকে পর পর নোটিশ পাঠাচ্ছে।’
গ্রেফতারি প্রসঙ্গে পুলিশকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি বলেছিলেন, ‘ আমি স্পষ্ট করেছি সিসিটিভি ফুটেজ কোর্টে জমা দিয়ে বলতে হবে যে আমি গুলি চালিয়েছি। মুখের কথাতে হবে না। পুলিশকে বলেছি পালাবার সময় গুলি চলেছে। সাদ্দাম হুসেন ওখানে পড়েছিলেন। পা ভাঙা ছিল। কী ভাবে হয়েছে জানি না। প্রতিটি বিষয় কোর্টে বলুক পুলিশ। মেঘনা মিলের সামনের ফুটেজ প্রকাশ করুক। আমি যখন পৌঁছেছি তখন পুলিশ ছাড়া কেউ ছিল না।’