• ধানের প্রধান পোকা স্টেম বোরার ও লিফ ফোল্ডারের বিরুদ্ধে কার্যকর
• ভুট্টা, সয়াবিন ও সবজি ফসলের বিভিন্ন পোকার বিরুদ্ধেও সমান কার্যকর
• আইএসকে জাপান-এর সাইক্লাপ্রিন™ প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ
ভারতের অন্যতম শীর্ষ বহুমুখী কৃষি-ব্যবসায়িক সংস্থা- গোদরেজ অ্যাগ্রোভেট লিমিটেড, লঞ্চ করেছে নতুন মাল্টি-ক্রপ কীটনাশক ‘তাকাই’। মূলত কৃষকদের ক্ষমতায়ন ও বাংলার কৃষি অর্থনীতি শক্তিশালী করতে এই উদ্যোগ। আইএসকে জাপান-এর উন্নত সাইক্লাপ্রিন™ প্রযুক্তি দ্বারা চালিত এই টাকাই প্রধানত লেপিডপ্টেরান বা ‘শুঁয়োপোকা-জাতীয়’ পোকামাকড় যা ফসলের ক্ষতি করে, তার বিরুদ্ধে দ্রুত নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা প্রদান করে। এর ফলে কৃষকরা সামগ্রিকভাবে ফসলের স্বাস্থ্য উন্নত করতে সক্ষম হবেন। সংস্থাটি ধান, ভুট্টা, ছোলা এবং সয়াবিন ফসলের জন্য লেবেল অনুমোদন পেয়েছে। পাশাপাশি বাঁধাকপি ও লঙ্কা ফসলের জন্য লেবেল সম্প্রসারণের অনুমোদন বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ, বছরে প্রায় ১৫ মিলিয়ন টন ধান উৎপাদনের জন্য ‘রাইস বোল অব ইন্ডিয়া নামে সুপরিচিত—সেখানে লেপিডপ্টেরান জাতীয় পোকামাকড় কৃষি উৎপাদন ও কৃষকদের আয়ের ক্ষেত্রে বড়সড় হুমকি তৈরি করছে। ধান চাষে ইয়েলো স্টেম বোরার ও লিফ ফোল্ডারের আক্রমণে তীব্র প্রাদুর্ভাবের সময় ফলনে ২০–৪০% পর্যন্ত ক্ষতি হতে পারে। অন্যদিকে ভুট্টা চাষে ফল আর্মিওয়ার্মের আক্রমণে সাধারণত ২৫–৩০% ক্ষতি দেখা যায়, যা চরম পরিস্থিতিতে বেড়ে ৬০–৬৫% পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। সয়াবিনের ক্ষেত্রে স্পোডোপ্টেরা লিটুরা ও সেমিলুপারের আক্রমণে ফলন ২০–৩০% পর্যন্ত কমে যায়। একইভাবে লঙ্কা ও বাঁধাকপির মতো সবজি ফসলেও অনুরূপ পোকামাকড়ের আক্রমণে ১৫–৩০% পর্যন্ত ক্ষতি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। পোকামাকড়, রোগ ও আগাছা যখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে, তখন সময়োপযোগী ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ফসল সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি—যাতে পশ্চিমবঙ্গের কৃষি অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তা টেকসই থাকে।
এই প্রসঙ্গে গোদরেজ অ্যাগ্রোভেট লিমিটেডের সিইও – ক্রপ প্রোটেকশন বিজনেস এন. কে. রাজাভেলু জানান, ‘পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে নিরাপত্তার কার্যকর ব্যবস্থাপনাই ভারতীয় কৃষকের সাফল্য নির্ধারণ করে। টাকাই-এর মাধ্যমে আমরা কৃষকদের এমন একটি সমাধান দিতে চাই, যা দ্রুত পোকার আক্রমণ বন্ধ করে দীর্ঘ সময় ধরে সুরক্ষা নিশ্চিত করে। পশ্চিমবঙ্গের মতো একটি রাজ্যে, যেখানে ধানসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ফসল একাধিক মরশুমে চাষ করা হয় এবং পোকামাকড়ের আক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে, সেখানে সময়মতো হস্তক্ষেপ আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই ধরনের উদ্যোগ কৃষকদের উপকরণ খরচ আরও দক্ষভাবে ব্যবস্থাপনা করতে সহায়তা করে এবং তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ও উন্নত মানের ফলন নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।’ একইসঙ্গে তিনি এও জানান, ‘গোদরেজ অ্যাগ্রোভেট লিমিটেড-এ আমাদের লক্ষ্য হলো এমন ক্রপ প্রোটেকশন সমাধান প্রদান করা, যা কৃষকদের সামনে উপস্থিত পরিবেশগত ও বাজারজনিত চ্যালেঞ্জের কার্যকর মোকাবিলা করতে সক্ষম। আজ টাকাই-এর লঞ্চ আমাদের সেই কৌশলেরই অংশ, যার মাধ্যমে গবেষণা-দক্ষতা এবং মজবুত গ্রাউন্ড-লেভেল উপস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে আমরা প্রধান ফসলগুলিতে আমাদের পোর্টফোলিও আরও শক্তিশালী করছি—যাতে কৃষকরা ক্ষমতায়িত হন এবং কৃষক পরিবারগুলির আর্থিক সুরক্ষা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত হয়।’
এরই রেশ ধরে তিনি এও জানান, ধান একটি বহু–মৌসুমি ফসল—খরিফ, রবি ও গ্রীষ্ম—যা উষ্ণ, আর্দ্র ও জলাবদ্ধ পরিবেশে চাষ করা হয়। এই অনুকূল আবহাওয়ার কারণে সারা বছরই পোকার আক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে। ফসলের প্রাথমিক পর্যায়ে, অর্থাৎ রোপণের ১৫–৩০ দিন পর (ভেজেটেটিভ স্টেজ), স্টেম বোরার গাছের ভেতরে ক্ষতি করে, যা প্রাথমিকভাবে কৃষকদের পক্ষে চিহ্নিত করা কঠিন। পরবর্তী পর্যায়ে, অর্থাৎ ৪০–৬০ দিন পর (রিপ্রোডাক্টিভ স্টেজ), স্টেম বোরার ও লিফ ফোল্ডার—উভয় পোকার আক্রমণ দেখা যায়। লিফ ফোল্ডার পাতা মুড়িয়ে তার ভেতরের টিস্যু খেয়ে ফেলে, ফলে গাছের সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয়ে ফসলের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়গুলিতেই টাকাই প্রয়োগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়—ফসলের বয়স ১৫–৩০ দিন হলে ১৬০ মি.লি. মাত্রায় এবং পুনরায় ৪০–৬০ দিন পর একই মাত্রায়। তবে অন্যান্য ফসলের ক্ষেত্রেও টাকাই–এর ১৬০ মি.লি. ডোজ মাত্র একবার প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, সঙ্গে এও মনে করিয়ে দেন, গত বছর ভুট্টার জন্য ‘আশিতাকা’ হার্বিসাইড লঞ্চের পর এ বছর ‘টাকাই’ উন্মোচনের মাধ্যমে গোদরেজ অ্যাগ্রোভেট লিমিটেড পুনরায় প্রমাণ করলো যে উদ্ভাবন ও কৃষক–কেন্দ্রিক পণ্য উন্নয়নের মাধ্যমে আরও উৎপাদনশীল, সহনশীল ও টেকসই কৃষি ইকোসিস্টেম গড়ে তোলাই তাদের অঙ্গীকার।

