বিদেশের মাটিতে মুখ্যমন্ত্রীকে ‘অসম্মান’ করার ঘটনায় ছাত্র যুবরা কোথায় প্রশ্ন তুলেছিলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্যরা। প্রশ্ন তুলেছিলেন কোথায় প্রতিবাদ কর্মসূচি তা নিয়েও। দলেরই একাংশের বিরুদ্ধে দেবাংশুর এই ক্ষোভ উগরে দিতে দেখা গিয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট করে। তাঁর স্পষ্ট প্রশ্ন, সমস্ত জনপ্রতিনিধিরা দলের অপেক্ষা কেন করছেন বা কেন তাঁরা রাস্তায় নামছেন না সে ব্যাপারেও। এ নিয়ে চাপানউতোরের মধ্যেই এবার নিজের অবস্থানটা স্পষ্ট করে দিলেন মদন মিত্র। এমনকী কেন ‘প্রতিবাদ’ হচ্ছে না তার ব্যখ্যাও দেন।
মদন বারবার বলছেন শৃঙ্খলার কথা। তাঁর কথায়, ‘আমাদের দল একটা অত্যন্ত সুনিয়ন্ত্রিত পার্টি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শেষ মিটিংয়ে বলেই দিয়েছেন তিনিই শেষ কথা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তো সব জায়গায় সার্কুলার দিয়ে বলছেন কোনটা করতে হবে কোনটা করতে হবে না। ফলে এখানে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে কী দলকে বিড়ম্বনায় ফেলব! পার্টি থেকে কোনও নির্দেশ নেই।’
এদিকে দেবাংশু বলছেন, ‘সব জায়গায় যদি সুব্রত বক্সি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা দলনেত্রীর নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করে থাকি তাহলে এটা মনে হয় সব সময় সঠিক নয়। কারণ দল কোথাও বলেনি যে আমাদের নির্দেশের বাইরে কোনও অ্যাক্টিভিটি করতে পারবে না।’ এদিকে শুধু কল্যাণ একা নয়, দেবাংশুর লাইনে হাঁটতে দেখা গেছে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কেও। তিনিও বলেন, ‘আমারও মত একটাই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো আমাদের সব। তাঁকে অসম্মান করা হলে সঙ্গে সঙ্গে যদি মিছিল না বের করতে পারি, সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ না করতে পারি তাহলে কোথাও যেন একটা দুর্বলতার ছাপ থেকে যায়। তাই আমি মনে করি যে যেখানে যে পদেই থাকুন না কেন, যদি পদ নাও থাকে তাও প্রতিবাদ করাটা উচিত।‘
এদিকে দেবাংশুদের প্রসঙ্গ উঠতেই এদিন কামারহাটির বিধায়ক কটাক্ষের সুরে জানান, ‘ওরা নিশ্চয় নেমেছিলেন তাই বলছেন। বিরাট বিরাট মিছিল করে দেবাংশু বা কল্য়াণ নিশ্চয় রাস্তায় ছিল তাই ওরা বলতে পারে। যারা করেছে তাঁরা বলতে পারে। আমি তো করিনি। আমি কী করে বলব! আমি মনে করি মমতা বা নিদেনপক্ষে অভিষেকের নির্দেশ ছাড়া একজন ডিপিপ্লিনড পার্টি কর্মী হিসাবে আমি কিছু করতে পারি না।’