নিউইএন গ্রিন এনার্জি পেল নুমালিগড় রিফাইনারির সবুজ হাইড্রোজেন সরবরাহের চুক্তি

ভারতের জ্বালানি খাতে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে নিউইএন গ্রিন এনার্জি প্রাইভেট লিমিটেড (NeuEN) সম্প্রতি নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড (NRL)-এর সঙ্গে সবুজ হাইড্রোজেন সরবরাহের চুক্তি করেছে। নিউইএন হলো ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (BPCL) এবং সেম্বকর্প গ্রিন হাইড্রোজেন ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগ। এই চুক্তির আওতায় প্রতি বছর ১০ হাজার টন সবুজ হাইড্রোজেন উৎপাদন ও সরবরাহ করা হবে।

চুক্তি অনুযায়ী, আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি প্রাঙ্গণে একটি আধুনিক সবুজ হাইড্রোজেন উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। প্রকল্পটি ২০২৮ সালে বাণিজ্যিকভাবে চালু হওয়ার কথা। নবায়নযোগ্য শক্তি ও উন্নত স্টোরেজ প্রযুক্তির সমন্বয়ে এই কেন্দ্র নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করবে এবং রিফাইনারির ডিকার্বনাইজেশন প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

এই প্রসঙ্গে BPCL-এর চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর সঞ্জয় খান্না জানান, ‘এই প্রকল্প BPCL-এর ভবিষ্যৎমুখী শক্তি পোর্টফোলিও গড়ে তোলার পথে একটি বড় মাইলফলক। নিউইএনের মাধ্যমে তারা গ্রিন হাইড্রোজেন ভ্যালু চেইনে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে এবং শিল্পক্ষেত্রে ডিকার্বনাইজেশন ও ভারতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তায় অবদান রাখছে।’

এর পাশাপাশি সেম্বকর্পের প্রেসিডেন্ট ও সিইও বিপুল তুলি  মন্তব্য করেন, ‘এই চুক্তি ভারতের গ্রিন হাইড্রোজেন লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তি এই খাতকে আরও পরিণত করছে এবং NRL-এর ডিকার্বনাইজেশন লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হবে।’

একইসঙ্গে NeuEN-এর চেয়ারম্যান শেলি আব্রাহাম জানান, ‘BPCL-এর শক্তিশালী দেশীয় বাজার উপস্থিতি ও অবকাঠামো এবং সেম্বকর্পের বৈশ্বিক নবায়নযোগ্য শক্তি অভিজ্ঞতা একত্রিত করে তারা রিফাইনারি কার্যক্রমে নিম্ন-কার্বন সমাধান যুক্ত করছে।’

এই প্রসঙ্গে বলে রাখা শ্রেয়, সেম্বকর্প বর্তমানে ভারতে ৭.৬ গিগাওয়াট নবায়নযোগ্য শক্তি পরিচালনা করছে। এই অভিজ্ঞতা তাদেরকে বৃহৎ পরিসরে, সাশ্রয়ী মূল্যে গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদনে সক্ষম করে তুলছে। ফলে শিল্পক্ষেত্র ও জাতীয় পর্যায়ে ডিকার্বনাইজেশন লক্ষ্যে পৌঁছানো আরও সহজ হবে। আর এই নুমালিগড় রিফাইনারির এই প্রকল্প শুধু একটি শিল্প উদ্যোগ নয়, বরং ভারতের জ্বালানি খাতে এক নতুন যুগের সূচনা। সবুজ হাইড্রোজেন উৎপাদন ও ব্যবহার দেশের পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন, শিল্পক্ষেত্রের টেকসই রূপান্তর এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার পথে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seventeen + 11 =