ভাঙড়ে তৃণমূল নেতাকে গুলি ও কুপিয়ে খুনের ঘটনায় এবার আততায়ীদের স্কেচ তৈরি করানো হচ্ছে লালবাজারের তরফ থেকে। এর পাশাাপশি শুরু হয়েতচে তদন্তও। তদন্তে নেমে কলকাতা পুলিশের হাতে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য ৷ তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ঘটনার সময় তৃণমূল নেতা রজ্জাক খানের সঙ্গে তাঁর দুই প্রতিবেশি ছিলেন ৷ আর এই দুই প্রতিবেশি তাঁকে ফোন করে বাড়ি থেকে ডেকেছিলেন বলে লালবাজার সূত্রে খবর ৷
আর এখানেই গোয়েন্দাদের প্রশ্ন, তাহলে কি রজ্জাক খান খুনে তাঁর দুই প্রতিবেশী জড়িত রয়েছেন কি না তা নিয়ে। আর সেই কারণেই তদন্তকারীরা ওই দুই প্রতিবেশিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছেন বলে লালবাজার সূত্রে খবর। শুধু তাই নয়, আটক দুই প্রতিবেশিকে জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসা তথ্য রেকর্ডও করা হচ্ছে ৷ পাশাপাশি, রজ্জাকের একটি ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ৷ কারণ, ঘটনার দিন কার–কার সঙ্গে কথা বলেছিলেন নিহত তৃণমূল নেতা, কোন–কোন নম্বর থেকে তাঁর কাছে ফোন এসেছিল, সেই সব জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা ৷ এদিকে লালবাজার সূত্রে খবর, তদন্তে নেমে পুলিশ ঘটনাস্থলের আশেপাশের দোকানদার এবং অন্যান্য প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য সংগ্রহ করছে ৷ তাঁদেরও ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে ৷ প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে দুষ্কৃতীদের স্কেচ তৈরি করছেন কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের তদন্তকারীরা৷
উল্লেখ্য, উত্তর কাশিপুর থানা এলাকায় তৃণমূল নেতা রেজ্জাক খানকে যখন খুন করা হয় তখন তিনি বাইকে করে যাচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় চার থেকে পাঁচ জন দুষ্কৃতী তাঁর সামনে এসে দাঁড়ায় এবং এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। প্রায় চার রাউন্ড গুলি চলে বলে অনুমান তদন্তকারীদের ৷ গুলিতে আহত হয়ে যখন তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। সেই সময় ধারাল অস্ত্র দিয়ে রজ্জাককে কোপায় দুষ্কৃতীরা।
শুক্রবার রাতেই কলকাতা পুলিশের কমিশনার মনোজ কুমার ভার্মা ঘটনাস্থলে এসেছিলেন ৷ তাঁর সঙ্গে আসেন কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান রূপেশ কুমার ৷ ঘটনার দিন পুলিশ কমিশনার মনোজ কুমার ভার্মা বলেন, ‘পুলিশ এই ঘটনার তদন্তে নেমে আততায়ীদের গ্রেফতার করতে যথাসাধ্য চেষ্টা করছে ৷’