রায় ঘোষণার ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর মুখ খুলল স্কুল সার্ভিস কমিশন। সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশে ২৫,৩২৭ জন শিক্ষকের চাকরি বাতিল নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার। চাকরিহারাদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘হতাশ হবেন না। আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনাও হয়েছে। এখনও আমরা সঠিক জানি না যে কী ভাবে কী করতে চলেছি। একইসঙ্গে স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আইনি ব্যাখ্যা না নিয়ে পদক্ষেপ করতে পারব না। প্রাথমিক প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি।’ সুপ্রিম রায়ে বলা হয়েছে, চাকরিহারাদের জন্য নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। নতুন করে যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে। কবে সেই প্রক্রিয়া শুরু হবে, সেদিকে তাকিয়ে আছেন চাকরিহারারা। কিন্ত কবে সে যোগ্যতা প্রমাণের পালা আসবে এখনও সেই উত্তর নেই এসএসসি–র কাছে। ফলে লিগ্যাল ক্লারিফিকেশন নিচ্ছি। সরকার থেকে চিঠিও পেয়েছি। সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনেই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। তবে তিন মাসের মধ্যে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া করা সম্ভব নয়। বিজ্ঞপ্তি, পরীক্ষা, তার ফলাফল, ইন্টারভিইউ, প্যানেল পাবলিশ করা আছে। তাই ৩ মাসের মধ্যে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া করা সম্ভব নয়।’ এরই পাশাপাশি তিনি এও জানান, ‘যাঁরা আইনগতভাবে চাকরি পেয়েছেন তাঁদের ছাড় দিতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আমাদের এই বিষয়ে আইনজীবীদের পরামর্শ নিতে হবে। আদালতের ব্যাখ্যাও নিতে হতে পারে। আমরা প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি। যুদ্ধকালীন প্রস্তুতিতে কাজ করতে হবে। সেই বার্তা আমাদের সহকর্মীদের দিয়েছি।’
এদিকে শুক্রবার সিদ্ধার্থ মজুমদার জানান, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্যে আগামী কিছু কাজ করতে হবে। ইতিমধ্যেই বৈঠকও হয়েছে কমিশনে। সরকারের কাছ থেকে একটি চিঠিও এসেছে তাদের কাছে। তবে আইনি বিষয়গুলো স্পষ্ট হলে তবেই নেওয়া হবে সিদ্ধান্ত।
এসএসসি চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘কারা নিয়োগে অংশ নেবে, কাদের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, তা নিয়ে কিছু সংশয় আছে। রায়ের বয়ান এখনও ১০০ শতাংশ স্পষ্ট নয়।’ তাই আইনি পরামর্শ নেবে এসএসসি।।
একইসঙ্গে এদিন স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান এও জানান, ‘কেউ যদি অন্য চাকরি থেকে এসে থাকে এই তথ্য আমাদের কাছে আছে বলে মনে হয় না। এটা তার পক্ষেই জানা সম্ভব। সেক্ষেত্রে তিনিই আবেদন করবেন। ওই দফতরের একটা কর্ত্যব্য নিয়োগ করা। সেটার একটা সময়সীমাও দেওয়া আছে।’ তবে এটা কমিশনের তরফ থেকে স্পষ্ট ভাবে জানানো হয়েছে, আগামী তিন মাসের মধ্যে যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হওয়া সম্ভব নয়। এই প্রসঙ্গে কমিশনের চেয়ারম্যানের বক্তব্য, তিন মাসের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার কথা রায়ের বয়ানে বলা নেই। কতজন, পরীক্ষা দেবে, তার উপর নির্ভর করছে, ঠিক কত সময় লাগবে।