জেলেই রয়েছেন সন্দেশখালির ‘স্বঘোষিত’ বেতাজ বাদশা শেখ শাহজাহান। এরপরও কি তাঁর দাপট শেষ হয়নি। অন্তত এমনটাই দাবি করছেন রবীন মণ্ডল। তাঁর অভিযোগ, জেলে বসেই ফোন থেকে তাঁকে হুমকি দিচ্ছেন শেখ শাহজাহান ও তাঁর দলবল। আর এখানেই প্রশ্ন, জেল হেফাজতে ফোন কোথা থেকে পেলেন সন্দেশখালির বেতাজ বাদশা তা নিয়েই। এদিকে এই ফোন আসার পর থেকে আতঙ্কিত রবীন বাবু। সন্দেশখালি থানায় অভিযোগ দায়েরের পাশাপাশি সিজিও-তে এসেও অভিযোগ করেন তিনি।
রবীন মণ্ডলের দাবি, গত ১৫ই মার্চ তাঁকে শেখ শাহজাহান ফোন করেন। দুপুর আড়াইটে নাগাদ পনেরো মিনিটের মতো ফোনে কথা বলেন তিনি। শাহজাহান ঘনিষ্ঠ মফিজুল মোল্লার ফোন থেকে কথা হয়েছে বলে দাবি রবীনবাবুর। প্রসঙ্গত, এই মফিজুল মোল্লা এলাকায় শাহজাহান ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। রবীনবাবু এই প্রসঙ্গে এও জানান, ‘মফিজুল আমায় ফোন ধরিয়ে দিয়ে বলে এই নে ভাই কথা বলবে। তারপর ফোন ধরতেই ওপার থেকে বলেন, আমি শেখ শাহজাহান বলছি। তোদের খুব বাড় বেড়েছে। তোরা মার্কেটের বিরুদ্ধে, আমার নামে অনেক অভিযোগ করছিস। আমি আর কয়েকদিনের মধ্যেই যাচ্ছি। তুই কী ভাবছিস আমি ছাড়া পাব না? কয়েকদিনের মধ্যেই ছাড়া পাব। বোম মারব। ঘর বাড়ি ভাঙচুর করব। আমার মতো হাজার-হাজার শেখ শাহজাহান ঘুরে বেড়াচ্ছে। তোদের ব্যবস্থা করবে।’
এরপর আতঙ্কিত রবীনবাবু মঙ্গলবারই কলকাতায় ইডি অফিসে আসেন। সমগ্র ঘটনাও জানান। একই সঙ্গে সন্দেশখালি থানাতেও অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। অপরদিকে, যার মোবাইল থেকে শেখ শাহজাহান ফোন করেছিল বলে দাবি করছেন রবীন মণ্ডল, সেই মফিজুল মোল্লার দাবি, রবীনবাবুর সঙ্গে কোনও কথাই হয়নি। আর এর কোনও প্রমাণ আছে কি না তাও জানতে চান মফিজুল। সঙ্গে এও জানান, তাঁর সঙ্গে শাহজাহানের কেন কথা হতে যাবে তা নিয়েও। পাশাপাশি এও জানান, ‘মিথ্যে অপবাদ দিলে খুব খারাপ লাগে।’
এদিকে বুধবার পিএমএলএ আদালতে জামিনের আবেদন শাহজাহানের। এই নিয়ে দ্বিতীয় বার জামিনের আবেদন করেন সন্দেশখালির স্বঘোষিত শাহাজাহান। এদিন, কোর্টে শাহজাহানের আইনজীবী জানিয়েছেন,তাঁর গ্রেফতারি বেআইনি। সেই কারণে জামিন দেওয়া হোক। একইসঙ্গে গ্রেফতারের দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও বিচার পর্ব শুরু হচ্ছে না। তাই জামিনের আবেদনে এই যুক্তিও সামনে নিয়ে আসা হয়েছে। যদিও, জামিনে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন ইডি-র আইনজীবী। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে পরের মাসে। বস্তুত, রেশন দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হয় শেখ শাহজাহান।