ভারতের অগ্রগণ্য ই-কমার্স এন্যাবলমেন্ট প্ল্যাটফর্ম শিপ রকেট কলকাতায় লঞ্চ করল অর্ডার দেওয়ার দিনেই ডেলিভারি। এর ফলে ভারতের প্রত্যেক বিক্রেতা এন্টারপ্রাইজের মানের, দ্রুত ডেলিভারির সুবিধা পাবেন। প্রথাগতভাবে, সাধারণ মানুষের মনে এটাই বদ্ধমূল ধারণা হয়েছে যে, দ্রুত ডেলিভারি যা শুধুমাত্র দেওয়া সম্ভব বড় ই-কমার্স ব্র্যান্ডগুলোর পক্ষেই। শিপ রকেট দ্রুত গতির ডেলিভারির এই পদ্ধতি এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে চলেছে এই ধারনায়। এতে এমএসএমইগুলোর দ্রুততর ডেলিভারি দেওয়া এবং প্রতিযোগিতায় থাকাও নিশ্চিত করা যাচ্ছে বলেই মনে করঠে শিপ রকেট। এই প্রসঙ্গে বলে রাখা শ্রেয়, এই পরিষেবা ইতিমধ্যেই দিল্লি এনসিআর, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু আর হায়দরাবাদে চালু হয়ে গেছে।
সংস্থার তরফ থেকে এও জানানো হয়েছে যে, ই-কমার্স ক্রমশ ক্রেতাদের ডেলিভারির গতিভিত্তিক প্রত্যাশা পূরণের উপর জোর দিচ্ছে। এ অবস্থায় যে ব্যবসায়ী দ্রুত ডেলিভারি দিতে পারেন তিনিই বেশি ব্যবসা করতে পারবেন এবং বেশি সংখ্যক ক্রেতাকে ধরে রাখতে পারবেন। বাজারের পূর্বানুমান রিপোর্ট বলছে, ভারতের অর্ডারের দিনেই ডেলিভারির বাজার ২০২৮ সালের মধ্যে ২৩.৬% CAGR-এ ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। শিপ রকেট এই রূপান্তরে নেতৃত্ব দিচ্ছে তার প্রযুক্তিচালিত প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে। পাশাপাশি এটিকে আরও বাস্তবায়িত করতে চলেছে কৌশলগত কুরিয়ার পার্টনারশিপ তৈরি করে নানারকম বিক্রেতাদের হাতে দ্রুত ব্যবসা করার ক্ষমতা তুলে দিতে ।
এই প্রসঙ্গে বলে রাখা শ্রেয়, কলকাতা এক প্রবল সম্ভাবনাময় ই-কমার্স হাব হিসাবে উঠে আসছে, যেখানে গড় অর্ডারের মূল্য ১,৫০০/- টাকা। এই শহরের সবচেয়ে বেশি বিক্রি নজরে আসে বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং, ক্লোদিং অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ আর গয়নায়। শিপ রকেটের সেম ডে ডেলিভারি ইতিমধ্যেই অনলাইন ট্রেডিংয়ে এক আমূল বদল এনেছে ইতিমধ্যেই। যেমন, বাটা, মামাআর্থ, হাইডসাইন, খাদিম, মোচি আর ওয়াইল্ডক্রাফট নিজেদের ব্যবসা এগিয়ে নিয়ে যেতে একে কাজে লাগাচ্ছে। সেম ডে ডেলিভারি কলকাতার বিক্রেতাদের ক্রেতাসন্তুষ্টি বাড়ানোর, একই ক্রেতার সঙ্গে বারবার ব্যবসা করা এবং ব্যবসাকে বড় করার চাবিকাঠি বলেই মনে করছে শিপরকেট।
শিপ রকেটের সেম ডে ডেলিভারি বিভিন্নরকম ব্যবসায়িক মডেলের কাজে লাগার জন্যে তৈরি একাধিক সমাধান জোগায়। এসডিডি চালু হওয়ার ফলে যে সব সুবিধা মিলবে তা হল,
সেম ডে ডেলিভারি: একজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বেলা ১২টা থেকে ১টার মধ্যে তুলে নেওয়া অর্ডারের জিনিস সেইদিনই ডেলিভারি দেওয়া হবে।
বেলা ৩টেয় পিক আপ/হাফ ডে ডেলিভারি: বিক্রেতার কাছ থেকে বা তার গুদাম থেকে বেলা ৩টের মধ্যে তুলে নেওয়া অর্ডারের জিনিস কুরিয়ার পার্টনার PICO-র মাধ্যমে সেইদিনই ডেলিভারি দেওয়া হবে।
স্টোরি পিক আপ/মল পিক আপ: অমনি-চ্যানেল ব্র্যান্ডগুলোর জন্য ডিজাইন করা এই পরিষেবা শপিং মলের ভিতরের দোকানগুলোকে সরবরাহ কেন্দ্র হিসাবে কাজ করার ক্ষমতা দেয়। বেলা ২টো-৩টের মধ্যে তোলা অর্ডার একই দিনে ডেলিভারি দেওয়া হবে। বাটা আর খাদিমের তরফ থেকে এই মুহূর্তে অবনী রিভারসাইড মল আর সিটি সেন্টার ১ মল থেকে এই পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে। অ্যাক্রোপোলিস মল, মানি স্কোয়্যার, মেট্রোপোলিস মল, কোয়েস্ট মল ও সাউথ সিটি মলে এই পরিষেবা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই প্রসঙ্গে আরও একটা কথা না বললেই নয়, বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা শিপ রকেট হল এক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম যা মসৃণ অতি দ্রুত গতির ডেলিভারি সমন্বয়, উন্নততর চেকআউট সমাধান আর অত্যাধুনিক বিপণন পদ্ধতির মাধ্যমে বিক্রেতাদের ক্ষমতায়ন করে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত রুট তৈরি আর সর্বোচ্চ ক্ষমতার ডেলিভারি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে শিপরকেট ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনগুলোকে আগে থেকে বুঝে নেয় এবং এমন সমাধান জোগায় যা বিরাট মাপের, নিম্নসীমা বদলে দেওয়া বৃদ্ধির ব্যবস্থা করে। Pikndel, PICO, Blitz, Shadowfax আর Xpressbees-এর মত অগ্রগণ্য কুরিয়ার পরিষেবার সঙ্গে পার্টনারশিপের মাধ্যমে শিপ রকেট ব্যবসায়ীদের অভূতপূর্ব গতি ও দক্ষতায় অর্ডার ডেলিভারি দেওয়া নিশ্চিত করে।
এই লঞ্চ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে সাহিল গোয়েল, এমডি অ্যান্ড সিইও, শিপ রকেট, জানান, ‘শিপ রকেটে আমরা সারা ভারতের ব্যবসায়ীদের বিশ্বস্ত বৃদ্ধি সঙ্গী হয়ে উঠতে বদ্ধপরিকর। সেম ডে ডেলিভারি চালু করে আমরা ভারতের এমএসএমইগুলোকে শিল্পক্ষেত্রের সেরাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় থাকার ক্ষমতা দিচ্ছি। তাদের ক্রেতাদের অভিজ্ঞতার উন্নতি ঘটানোর আর একই ক্রেতার সঙ্গে বারবার ব্যবসা করার হাতিয়ার দিচ্ছি। গতি এখন আর কোনো বিলাস নয় – একটা প্রয়োজন। আর আমরা নিশ্চিত করছি যেন বড়-ছোট নির্বিশেষে সব বিক্রেতা শ্রেণির সেরা সমাধানের নাগাল পান।’ পাশাপাশি তাঁর সংযোজন, ‘এই উদ্যোগ ভারতে প্রত্যেক বিক্রেতার জন্যে ই-কমার্স প্রযুক্তির গণতন্ত্রীকরণ করার যে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য আমাদের রয়েছে, সেই পথে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই পদক্ষেপ অর্থনীতির বৃহত্তর ডিজিটাল রূপান্তরে অবদান রাখবে।’