নওশাদ সিদ্দিকির তৃণমূলে যাওয়া নিয়ে বঙ্গ রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে জল্পনা

সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকের পর থেকেই ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি তৃণমূলে যাচ্ছেন কি না তাই নিয়ে বঙ্গ রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে জল্পনা। আর এই আগুনে ঘৃতাহুতি করছেন বিরোধীরা। এরপর মঙ্গলবার দেখা গেল বিধান সভার অধিবেশন কক্ষের ভিতরেই নওশাদের কাছে গেলেন ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লা। এই প্রসঙ্গে বলে রাখা শ্রেয়, বিধানসভায় যে দিকে শওকত বসেন তাঁর থেকে খানিক দূরেই আসন রয়েছে নওশাদ সিদ্দিকির। সূত্রের খবর, এ দিন শওকত উঠে যান নওশাদের কাছে। আলাদা করে কথা বলেন। প্রশ্ন করেন নওশাদকে, ‘ইফতারে যাবে তো?’ বিধায়কের দাবি, নওশাদ নাকি উত্তর দিতে গিয়ে বলেন, ‘হ্যাঁ যাব।এর পাশাপাশি দুজনের মধ্যে কথাও হয়। দুজনের মধ্যে কী কথা হয়েছে তাও জানান  শওকত।

তবে ভাঙড়ে শওকত ও নওশাদের দ্বন্দ্ব প্রত্যেকের জানা। দুই নেতাই একে অপরকে তীক্ষ্ণ বাক্যবাণে বিদ্ধও করেন হামেশাই। গুচ্ছগুচ্ছ অভিযোগ তোলেন একে অপরের বিরুদ্ধে। এর মধ্যেই আবার নওশাদের তৃণমূলে যাওয়ার জল্পনা ছড়িয়েছে। সত্যিই ঘটবে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন করা হয় ক্যানিং পূর্বের বিধায়ককে। শওকতের সাফ উত্তর, ‘দল যা সিদ্ধান্ত নেবে তাই মেনে নেব।একইসঙ্গে এও জানান, ‘দল যদি শুভেন্দু অধিকারীকেও নেয় মাথা পেতে নেব। আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁরা যে সিদ্ধান্ত নেবেন তাই কার্যকরী হবে।  অর্থাৎ দলের উপরে তিনি কোনও মন্তব্য করতে ইচ্ছুক নন। অন্যদিকে এক সময় এই শওকতকেই বলতে জঙ্গি তকমা দিতে দেখা গিয়েছিল নওশাদকে। এখন সেই আইএসএফ বিধয়ক যদি তৃণমূলে আসেন তাহলে অসুবিধা হবে। এর উত্তরও শওকত হেসে জানান, ‘দলই সব।’

এদিকে এই প্রসঙ্গে ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকির বক্তব্য, নওশাদ সিদ্দিকি যদি তৃণমূলে যায় তাহলে শাসকদলের লস হবে। নওশাদ মমতাকে চমকে দিচ্ছে শুধু। ও চাইছে তৃণমূলে যোগ দেব না। তবে দুচারটে সিট যদি পাওয়া যায় সেই চেষ্টা করছেন। তৃণমূলে যোগ না দিয়ে ওদের কাছ থেকে দুচারটে সিট আদায় করতে চাইছে। এই প্ল্যানে উনি এগোচ্ছে বলে আমার মনে হয়।যদিও, দলবদলের এই জল্পনা আগেই উড়িয়ে দিয়েছেন নওশাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × three =