এত বড় অন্যায় বাংলার ইতিহাসে খুব কম হয়েছে।’ প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক–শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হওয়ার রায় প্রসঙ্গে এমনটাই জানালেন রাজ্যসভার প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ জহর সরকার। একইসঙ্গে তিনি এও বলেন, ‘কত লোকের কাছ থেকে পয়সা নেওয়া হয়েছে, এটা বিচার করা যাচ্ছে না। কত লোকের ভবিষ্যত যে ওরা নষ্ট করল, সেটা ওরাও জানে না।’
তবে সুপ্রিম কোর্টের রাযে যোগ্য শিক্ষকদের চাকরি যাওয়া প্রসঙ্গে জহর সরকার বলেন, ‘যারা টাকা দিয়ে চাকরি পেয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে এখন ক্রিমিনাল কেস করা হলে, তারা বলে দেবে কাকে টাকা দিয়েছে।’ একইসঙ্গে তিনি এও দাবি করেন, সরকারকে দায়বদ্ধ থাকতেই হবে।
তবে এমন দুর্নীতি আর হবে না বলেই মনে করছেন জহরবাবু। কারণ, তাঁর ধারনা, ‘মনে হয় না আর আস্পর্ধা পাবে। জানি না কার বুদ্ধিতে করেছিল। ভেবেছিল সহজ উপায়ে টাকা তোলা যাবে। তবে এটা বারবার রিপিট করতে পারবে না। এবার থেকে ওএমআর নষ্ট করতে পারবে না, মিরর কপি রাখতে হবে।’ সেই সঙ্গে জহর সরকারের মতে, এই মুহূর্তে তারাই শিক্ষা দিতে পারে, যারা টাকা দিয়ে চাকরি পেয়েছিল। প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্য়ায় অনেক বোকামি করেছিল বলেও মন্তব্য করেন জহর সরকার। এর পাশাপাশি তিনি এও জানান,
একসময় তিনিও শিক্ষা সচিব ছিলেন, কিন্তু এসব করার কথা মাথাতেও আসেনি। বাম আমলে দুর্নীতির কথা উল্লেখ করলেও জহর সরকারের দাবি, এত বেশি হারে কখনও দুর্নীতি হয়নি।
তবে এদিন তৃণমূল তথা রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তিনি। তাঁর দাবি, এই দলে নেতারা নিজেদের সম্পত্তি বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা তোলে। তাঁর দাবি, কংগ্রেস আমলে বা বাম আমলেও দুর্নীতি দেখেছেন তিনি, তবে এত বেশি হারে নয়।
নিয়োগ দুর্নীতি প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জহর সরকার বলেন, ‘প্রত্যেক রাজনৈতিক দল টাকা তোলে। কারণ লড়াই করতে গেলে টাকা লাগে। কিন্তু এ রাজ্যে কোনও নেতার কুঁড়েঘর থেকে চারতলা বাড়ি হয়ে যাচ্ছে, কোনও কাউন্সিলরের সাতটা ফ্ল্যাট।’ প্রাক্তন সাংসদের দাবি, এ রাজ্যে খুব ছোট ছোট ক্ষেত্র থেকে টাকা তোলা হয়। এমনকী বারান্দার কাজ করতে গেলেও টাকা দিতে হয় বলে অভিযোগ।
তৃণমূল নেতাদের ‘দুর্নীতি’ প্রসঙ্গে জহর সরকারের বক্তব্য, একজন নেতার নামই হয়েছে স্কোয়ার ফুট। যেখানে ফ্ল্যাট হয়, সেখান থেকেই স্কোয়ার ফুট হিসেবে তোলা তোলেন তিনি। আবার কারও নামঅ হয়ে গিয়েছে তোলা। তিনি আরও বলেন, ১৯৭৫–এও চুরি দেখেছি। তবে এই হারে কোনওদিন দেখিনি। প্রায় প্রতিটি লোকই টাকা তুলছে। সঙ্গে জহর সরকার এদিন এও দাবি করেন, ‘মনসরদারি মডেলে চলে তৃণমূল। এক একটা এলাকা শাসন করতে দেওয়া হয়। বলে দেওয়া হয়, সেখানকার খরচটা নিজেরা তুলে নাও। আমাকে এইটুকু পৌঁছে দাও।’ নেতাদের বেশি স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।