যাদবপুরে পরীক্ষা নেওয়া হবে এই মাসেই জানাল কর্তৃপক্ষ

গত ১ মার্চ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের মধ্যেই ওয়েবকুপার সভাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। তারপর থেকে যে যে ঘটনা ঘটেছে তার জন্য একাধিক পরীক্ষা নেওয়া হয়ে ওঠেনি। তবে এই পরীক্ষা শেষ করা হবে চলতি মাসের মধ্যেই। এমনটা স্পষ্ট করে দিয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ামক ডঃ সাত্যকি ভট্টাচার্য জানান, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পরীক্ষা বাকি হয়েছে। তা মার্চ মাসের মধ্যেই শেষ করা হবে। আগামী ২১, ২২ এবং ২৮ তারিখ পরীক্ষার দিন হিসেবে আপাতত ঠিক করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র খোলাই হয়নি। কারণ বেশিরভাগই কেউ পরীক্ষা দেয়নি। কিন্তু যদিও অল্প কয়েকজন পরীক্ষা দিয়ে থাকে তাহলে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করা হবে। যদিও যারা পরীক্ষা দিয়েছেন তাঁদের আবার পরীক্ষায় বসতে হবে কিনা, সে ব্যাপারে এখনই কিছু স্পষ্ট করেননি ডঃ সাত্যকি ভট্টাচার্য।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভাস্কর গুপ্তকে ছাত্রদের তরফে ক্যাম্পাসে এসে তাঁকে বৈঠক করতে ডেডলাইন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অসুস্থ হয়ে এতদিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। তাই সেই বৈঠক হয়নি। তবে সোমবারই তিনি সুস্থ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যান। তারপর প্রথমেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আধিকারিক যেমন রেজিস্ট্রার, সহ-উপাচার্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন। গত কয়েকদিনে যে পরীক্ষাগুলি বিশ্ববিদ্যালয় নেওয়া হয়নি সেগুলি পুনরায় নেওয়ার বিষয়ে কমিটির সঙ্গে আলোচনা করেন।

বস্তুত, ক্যাম্পাসের অচলাবস্থা কাটাতে ক’দিন আগেই ছাত্রছাত্রীদের অনুরোধ জানিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ভাস্কর গুপ্ত। হাসপাতাল থেকে ইমেল করে সকলের উদ্দেশে বার্তাও পাঠান তিনি। অনুরোধ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পঠনপাঠনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য। ছাত্র সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাঁরাও ছাত্র সংসদ নির্বাচনের পক্ষে। সরকারকেও বিষয়টি বারংবার জানানো হয়েছে। তাঁরা মনে করেন সম্পূর্ণরূপে ছাত্র ভোট হওয়া উচিত।

ক্যাম্পাসের মধ্যেই শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছিল বলে অভিযোগ ওঠে। আহত হন কয়েকজন পড়ুয়া। তারপরই বিক্ষোভ, প্রতিবাদে নামেন ছাত্ররা। উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চেয়ে চাপ দিতে থাকেন তাঁরা। তারপরই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন উপাচার্য। তাঁকে বাইপাসের ধারের এক বেসরকারী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই এতদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five × 3 =