জাল ওষুধের রমরমার মধ্যেই কলকাতা পুরনিগমের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ওষুধের জাল বা মান নির্ধারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন তৃণমূল কাউন্সিলারই। কলকাতা পুরনিগমের স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলি থেকে দেওয়া ওষুধের মান যাচাই আদৌও করা হয় কি না বা আদৌ জাল ওষুধ ধরা সম্ভব কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তৃণমূল কাউন্সিলর বিশ্বরূপ দে। এখানেই শেষ নয়, পাশাপাশি আরও একগুচ্ছ প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এমনকি এই ওষুধ ক্রয় করা বা ওষুধ সংক্রান্ত বিষয় একটা মনিটরিং কমিটি তৈরি করার আবেদনও জানিয়েছেন তৃণমূল কাউন্সিলর।
সাম্প্রতিককালে শহরজুড়ে একের পর এক জাল ওষুধের ডেরার খোঁজ মিলেছে। সদ্য ওষুধের অন্যতম পাইকারি বাজার বাগমারি মার্কেট বা বড় বাজারে হানা দেন ড্রাগ কন্ট্রোলের আধিকারিকরা। এই অবস্থায় খোদ শাসকদলের কাউন্সিলরের এই প্রশ্নে শাসকদলের অস্বস্তি বাড়বে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বড় অংশ।
কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, বর্তমানে ১৪৪টি ওয়ার্ড পিছু একটি করে স্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। এছাড়াও ২৫ টি ওয়ার্ডে স্যাটেলাইট স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। অর্থাৎ মোট স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সংখ্যা ১৬৯টি। প্রাথমিক চিকিৎসা অর্থাৎ জ্বর নির্ণয়, ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া সহ মশক বাহিত রোগের চিকিৎসার ওষুধ, অ্যাসমা, সর্দি, কাশি, হাঁপানি, যক্ষ্মা, সুগার, রক্তচাপ সহ একাধিক চিকিৎসার ওষুধ দেওয়া হয়। নিত্যদিন কলকাতা পৌরসভার এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলিতে শ’য়ে শ’য়ে মানুষ আছেন প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য। এদিকে পুরনিগম সূত্রে জানা গিয়েছে, জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন, পঞ্চদশ অর্থ কমিশন এবং কলকাতা পুরনিগমের রাজস্ব তহবিলের তরফে অর্থের মাধ্যমে বার্ষিক কয়েক কোটি টাকার ওষুধ কেনা হয়। যদিও কলকাতা পুরনিগমের স্বাস্থ্য বিভাগ দাবি করেছে, রাজ্য সরকার টেন্ডার করে যে সংস্থাগুলিকে বাছাই করে, সেই সব সংস্থার কাছ থেকে ওষুধ কিনে নেয় কলকাতা পুরসভা। কলকাতা পুরনিগমের সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোর ওষুধগুলি কেনে। তাই জাল হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই দাবি করেছে পুরনিগমের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্তারা। কারণ হিসাবে তাঁরা বলেছেন, রাজ্য যেখানে ওষুধ কিনছে, সেখানে কলকাতা পুরনিগমের কাছে জাল ওষুধ আসার সম্ভাবনা কম।
যদিও এই বিষয় তৃণমূল কাউন্সিলর যেভাবে প্রশ্ন তুলেছেন, তা খুব একটা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিরোধী কাউন্সিলররা। তাঁদেরও দাবি, কলকাতা পুরনিগমের আলাদা করে একটা মনিটরিং টিম তৈরি করা উচিত। তাঁরাই গোটা বিষয়ের উপর নজর রাখবে।