নদিয়ার গাজন উৎসবে নজরদারির দায়িত্ব এবার জেলা জজকে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আদালতের নির্দেশ, এখন থেকে উৎসব শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি তিন দিন অন্তর জেলা জজকে রিপোর্ট দেবেন কালীগঞ্জ থানার ওসি। শুক্রবার এমনই নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। এই নির্দেশ দিতে গিয়ে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘এমনিতে জেলা জজদের কথা শোনেন না পুলিশ সুপাররা।’
নদিয়ার কালীগঞ্জের একটি শিব মন্দির ঘিরে অভিযোগ ছিল, সেখানে তফশিলি জাতির লোকদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। অবশেষে হাইকোর্টের নির্দেশে বৃহস্পতিবার সেখানে পুজো দেন তফশিলি জাতির মানুষজন। প্রায় সাত পুরুষ পর রীতি ভেঙে পুজো দেওয়ার সুযোগ পান তাঁরা। এদিকে চৈত্র শেষে অর্থাৎ সামনেই গাজন উৎসব। তাতে অংশ নিতে চান এই তফশিলি সম্প্রদায়ের মানুষেরা। তাই এবার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করল আদালত।
একইসঙ্গে আদালতের তরফে এও জানানো হয়েছে, যদি কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়, সে ক্ষেত্রে জেলা জজ সরাসরি জেলার পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেবেন পদক্ষেপ করার জন্য। প্রয়োজনে পর্যাপ্ত বাহিনী মোতায়েন করার নির্দেশ দেবেন জেলা জজ।
তবে আদালত সূত্রে এ খবরও মিলেছে, স্থানীয় শিবমন্দিরে ঢোকা এবং গাজনে অংশগ্রহণের অনুমতি চেয়ে বৈরামপুরের রজক বা ধোপা সম্প্রদায়ের মানুষরা আদালতের শরনাপন্ন হলে প্রশাসনের তৎপরতায় সমস্যা কেটে গিয়েছে।