তৃণমূল শিক্ষক নেতা শেখ সিরাজুল ইসলামের চাকরি থেকে বরখাস্তের নির্দেশ বিচারপতি রাজা শেখর মান্থার ডিভিশন বেঞ্চের। বিচারপতি মান্থার পর্যবেক্ষণ, হাওড়া স্কুলের শিক্ষক নেতা দুর্নীতি করে চাকরি পেয়েছেন। সেই কারণেই তাঁকে কোনওভাবেই চাকরিতে রাখা যায় না। বুধবার থেকেই এই নির্দেশ কার্যকরী করতে হবে বলে স্পষ্ট নির্দেশ দেন দেন বিচারপতি।
এদিকে সূত্রে খবর, সম্প্রতি হাওড়া জেলায় তৃণমূলের মাধ্যমিক শিক্ষাসেলের সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে সিরাজুলকে। ২০০১ সালে হাইকোর্টের নির্দেশে তাঁর চাকরি গিয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে সে সময়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ছিল। কিন্তু তারপরও তাঁর চাকরি অটুট থেকেছে। এবার ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিয়োগ দুর্নীতিতে যুক্ত থাকার অভিযোগ ওঠে। আদালতে এই বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন মামলাকারীর আইনজীবী ফিরদৌস শামিম। গত ১৩ মার্চ হাইকোর্টে বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর এজলাসে শুনানি ছিল।
শ্লীলতাহানির মামলার পর আবার নিয়োগ দুর্নীতি- উভয় অভিযোগে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। নানা অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কী ভাবে সিরাজুলকে শিক্ষা সংক্রান্ত পদে নিয়োগ করা হল, এবার তা জানতে চায় আদালত। কেন এফআইআর দায়ের করা হয়নি, সে ব্যাপারে বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু ভর্ৎসনাও করেন পুলিশকে। শুনানির পরই এফআইআর দায়ের হয়। তবে ওই এফআইআর-এর প্রভাব যাতে চাকরিতে না পড়ে, তাই ফের আদালতের শরনাপন্ন হন সিরাজুল। বুধবার সেই মামলার শুনানির ছিল বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার ডিভিশন বেঞ্চে। বুধবার বিচারপতি রাজা শেখর মান্থা গোটা মামলা শুনেই জানিয়ে দেন, ওই শিক্ষকের নিয়োগই সম্পূর্ণ বেআইনি।