আদালতের কাছে ৫৪ প্রশ্ন তিলোত্তমার পরিবারের

তিলোত্তমা মামলায় গণধর্ষণ নাকি একজনই অপরাধ করেছে, সোমবার হাইকোর্টে শুনানির শুরুতেই সিবিআইয়ের কাছে জানতে চাইলেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। এর পাশাপাশি এই ঘটনায় বিচারপতির তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য, ‘যেহেতু এই মামলায় একজনের সাজা হয়েছে, সেখানে কোন কোন ধারায় চার্জ গঠন করা হয়েছে ? সাজা প্রাপ্ত ব্যক্তিই কি একমাত্র অভিযুক্ত , নাকি আর কেউ জড়িত এই ঘটনায়। বিচারপতি এদিন এও জানতে চান, সিবিআই এখনও পর্যন্ত তদন্তে কী জানতে পেরেছে সে ব্যাপারেও। এরপরই আরজি কর মামলায় সিবিআইকে কেস ডাইরি আনার নির্দেশ দেন বিচারপতি। এই মামলার তদন্ত কোন পর্যায়ে দাঁড়িয়ে এই মুহূর্তে, তা জানতে চায় আদালত।

এদিকে সোমবার আদালতের কাছে ৫৪ টা প্রশ্ন রাখে তিলোত্তমার পরিবার। এই প্রসঙ্গে তিলোত্তমার বাবা বলেন,  ‘আমাদের ৫৪ টা প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা। আদালতের কাছে আমরা সেই ৫৪ টা প্রশ্ন রেখেছি, তার উত্তর পেতে চাই। আদালত কীভাবে সে প্রশ্নের উত্তর দেবে, সেটা আদালতকেই ভাবনাচিন্তা করতে হবে। বিচারপতি আজকে যে কথা বলেছেন, তাতে বোঝাই গিয়েছে, তিনি ভাবনাচিন্তা শুরু করে দিয়েছেন।’

প্রসঙ্গত, প্রথম থেকেই তিলোত্তমার পরিবার দাবি করে আসছিলেন, এই ঘটনার কারও একার পক্ষে করা সম্ভব নয়, এই ঘটনার সঙ্গে আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারে। প্রকৃত দোষীদের আড়াল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছিলেন। সিবিআই তদন্ত প্রক্রিয়ার মধ্যে সকলকে যুক্ত করছেন না বলেও অভিযোগ করেন তিলোত্তমার বাবা-মা। এদিন প্রথম শুনানিতেই বিচারপতির গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের মুখে সিবিআই।

এদিকে আদালত সূত্রে খবর, সোমবার শুনানির শুরুতেই বিচারপতি সিবিআই-এর কাছে এও জানতে চান, এটা গণধর্ষণ হলে সন্দেহভাজন কারা তাদের ব্য়াপারেও। এরই রেশ ধরে সিবিআই-কে বিচারপতি এ প্রশ্নও করেন, ‘আমরা এই আদালতে এটা জানতে চাইছি, পরে আর কী তদন্ত করলেন? একটা চার্জশিটের পর আর কোনও চার্জশিট দেননি।’ এরপরই বিচারপতি সিবিআই-কে বলেন, ‘রিপোর্ট দরকার নেই। দরকার কেস ডায়েরি।’ এরপরই সিবিআই-এর তরফে আইনজীবী রাজদীপ মজুমদার বলেন, ‘আমাদের আরেকটু সময় দেওয়া হোক।’ তখনই বিচারপতি প্রশ্ন করেন, ‘সব অফিসাররা তৈরি থাকলে আবার কী সমস্যা আপনাদের?’ এর মাঝেই সওয়াল করেন লিগল এডের সঞ্জয়ের আইনজীবী কৌশিক গুপ্ত। তিনি দাবি করেন, ‘যাকে দোষী করা হল, তাকে বলতে দিতে হবে।’

এদিকে রাজ্যের তরফে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়  জানিয়ে দেন, নতুন কোনও তদন্তে রাজ্যের আপত্তি নেই। তবে আদালতে এদিন তিনি এ প্রশ্নও করেন, ‘আদালত কী ট্রায়ালের পর কাউকে ফের তদন্তের কথা বলতে পারে? ট্রায়াল কোর্টের কাছে যাননি।’ একইসঙ্গে এদিকে রাজ্যের তরফ থেকে জানানো হয়, ‘এক বছর ধরে সিবিআই কী করছে, সেটা মানুষ জানতে চায়। পনের দিনের মধ্যে শেষ করতে চাইলে আমাদের কোন আপত্তি নেই। বিশেষ আদালত কি এর অনুমতি দিতে পারে ?’ সঙ্গে এ প্রশ্নও তোলা হয়, ‘পরিবার হাইকোর্টে কেন এসেছে তা নিয়ে। বিশেষ আদালতে আবেদন তাঁরা কেন জানাননি সে প্রশ্নও এদিন ওঠে আদালতে।

এরপরই তিলোত্তমার পরিবারের আইনজীবী সুদীপ্ত মৈত্র আদালতে আবদেন করেন, ‘পরবর্তী তদন্ত আদালতের নজরদারিতে হোক। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার আধিকারিকদের দিয়ে সিট গঠন করা হোক।’ একইসঙ্গে তিলোত্তমার পরিবার আদালতে জানান, প্রায় সাড়ে সাত মাস হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এখনও নিরাপত্তারক্ষী এবং নার্সদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। অতিরিক্ত সুপারকে এখনও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। আদালত যাতে সিবিআই-এর কাছে স্ট্যাটাস রিপোর্ট চায়, তার আবেদন জানায় পরিবার। আগামী ২৮ মার্চ পরবর্তী শুনানি।

এদিনের শুনানি শেষে তিলোত্তমার বাবা কিছুটা হলেও সন্তুষ্ট! কিন্তু রাজ্য সরকারের অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।  তিলোত্তমার বাবা বলেন, ‘রাজ্য সরকার একদিকে বলছে, আবারও তদন্তে তাদের কোনও আপত্তি নেই। আবার আইনের দিক থেকে বাধা দেখাচ্ছে। তারা কী বলতে চাইছে, তা পরিষ্কার করে বলছে না। সেই ৯ তারিখ থেকে রাজ্য সরকারের যে চরিত্রটা দেখে আসছি, সেটা এখানেও তুলে ধরলেন।’

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

17 − 10 =