সল্টলেকের এফডি ব্লকের যোগা সেন্টারের অবস্থা খারাপ থাকায় তার কাজ চলছিল। কিন্তু আচমকাই স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর বাণীব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এসে সেই কাজ বন্ধ করিয়ে সেন্টার বন্ধ করে চাবি নিয়ে চলেও যান, অন্তত এমনটাই অভিযোগ শাসকদলের কাউন্সলরের বিরুদ্ধে। এরপর এই ঘটনায় বিধাননগর থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। পাল্টা ওই কাউন্সিলরের দাবি, যারা অভিযোগ করেছে তারাই বেআইনি কাজ করেছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বিধাননগরের এফডি গ্রাউন্ডের পূর্ব কোণে একটি যোগা সেন্টার রয়েছে। সেখানেই চলছিল মেরামতির কাজ। কিন্তু অভিযোগ, কাজ চলাকালীন সেখানে এসে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বাণীব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শ্রমিকদের বের করে দেন। তারপর যোগা সেন্টারে তালা ঝুলিয়ে চাবি নিয়েও চলে যান। এরপরই এফডি ব্লক অ্যাসোসিয়েশনের তরফে বিধাননগর থানায় এই অভিযোগই দায়ের করা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, কোনও নোটিস ছাড়াই এই কাজ করেছেন কাউন্সিলর। এটা বেআইনি।
এদিকে অভিযোগকারী অ্যাসোসিয়েশনের এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য। এই ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, তৃণমূল কাউন্সিলর তাঁদের সঙ্গে প্রথমে ভালই ব্যবহার করতেন। সবার সঙ্গে ভাল সম্পর্ক ছিল। পুজোর প্রেসিডেন্টও ছিলেন। তবে গত নভেম্বর মাসের পর থেকেই তাঁর আচরণ বদলে যায়। একইসঙ্গে অভিযোগকারী এও জানান, ‘এফডি অ্যাসোসিয়েশনে প্রত্যেক ২ বছর অন্তর নির্বাচন হয়। গত নভেম্বরে সেই নির্বাচনের সময়ে কাউন্সিলর বলেছিলেন তাঁর ইচ্ছে মতো অ্যাসোসিয়েশন চলবে। তার জন্য একজনের নামও সেক্রেটারি হিসেবে প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু আমরা রাজি হয়নি। পরে ভোটের সময়ে তাঁর প্যানেলে দেওয়া সব প্রার্থী বিশ্রিভাবে হেরে যায়। তারপর থেকে কাউন্সিলর আর অ্যাসোসিয়েশনের অফিসে আসতেন না। তখন থেকেই দ্বন্দ্ব শুরু।’
এদিকে রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসু ওই ভোটের সময়ে ইস্তেহারে লিখেছিলেন যোগা সেন্টার করে দেওয়ার কথা, অন্তত এমনটাই দাবি অভিযোগকারীর সঙ্গে এও জানান, সুজিত বসু উদ্যোগ নেওয়ার পরই কাউন্সিলরই যোগা সেন্টার তৈরি করে দেন। কিন্তু নির্বাচনে তাঁর প্রার্থী হেরে যাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন কাজে বাধাও দিতে শুরু করেন তিনি। ঘটনার প্রেক্ষিতে অনেকেরই ধারনা, বাণীব্রতবাবু যোগা সেন্টার দখল করার চেষ্টা করছেন। সেখানে কোনও বসার জায়গা বা অফিস করার চেষ্টা হয়তো তাঁর রয়েছে। এ ব্যাপারে অভিযোগককারী বিষয়টি নিয়ে বিধাননগরের মেয়রের সঙ্গেও কথা বলতে গেছিলেন তাঁরা। কিন্তু তিনি তাঁদের চিঠি নেননি। পাল্টা বলেছেন, কোনও ইস্যুতে কাউন্সিলরেরই মারফৎ আসতে হবে। চিঠি পোস্ট করে দেওয়া হলেও কোনও উত্তর মেলেনি।