কলকাতায় দ্বিতীয় এক্সপিরিয়েন্স সেন্টার প্রতিষ্ঠা করে নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত করল আল্ট্রাভায়োলেট

• নতুন লঞ্চ হওয়া UV স্পেস স্টেশনের মাধ্যমে X-47 Crossoverআর F77s এখন কলকাতায় বিক্রির জন্য পাওয়া যাচ্ছে

• কলকাতায় UV স্পেস স্টেশন লঞ্চ হল এই শহরে কোম্পানির দ্বিতীয় আউটলেট খোলা, যা পূর্ব ভারতে তার পায়ের তলার জমি আরও শক্ত করল

• ক্রেতার নাগাল: ক্রেতার জীবনে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত যা যা দরকার হয় সেসব পূরণ করে উৎসাহীদের এক মগ্ন করে রাখার মত ব্র্যান্ড অভিজ্ঞতা উপহার দিচ্ছে

• পার্সোনালাইজড টেস্ট রাইড ও পরিষেবা: এক্সপিরিয়েন্স সেন্টারে আছে বিশেষভাবে সংগঠিত টেস্ট রাইডের সুযোগ, ক্রেতাদের সহায়তা এবং আসল যন্ত্রাংশের নাগাল পাওয়ার অবকাশ

আল্ট্রাভায়োলেট অটোমোটিভ কলকাতায় লঞ্চ করল এক নতুন UV স্পেস স্টেশন, যা ভারতের উদীয়মান যানবাহনের বাজার জুড়ে তার খুচরো ব্যবসার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এক তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। এই সম্প্রসারণ একগুচ্ছ প্রোডাক্ট ও প্রযুক্তি মাইলফলকের সাম্প্রতিক প্রকাশের পর ঘটল। তার মধ্যে পড়ে X-47 Crossover, UV Crossfade কার্বন-ফাইবার হেলমেট লঞ্চ এবং কোম্পানির সদ্য ঘোষিত ‘ব্যাটারি ফ্লেক্স’ (BaaS) প্ল্যাটফর্ম। এক সার্বিক পারফরম্যান্সভিত্তিক বৈদ্যুতিক যানবাহন বাস্তুতন্ত্র গড়ে তোলার ব্যাপারে আল্ট্রাভায়োলেট যে জোর দেয় তা এর মাধ্যমে আরও বেশি করে প্রমাণিত হল। এই সংযোজনের মাধ্যমে এই কোম্পানি তার পারফরম্যান্স ইলেকট্রিক মোটরসাইকেলগুলোকে ক্রেতাদের আরও বেশি নাগালের মধ্যে নিয়ে এল এবং তার ক্রমবর্ধমান জাতীয় উপস্থিতি আরও জোরদার করল।

মেসার্স কেজিএন অটোমোবাইলস ইভির সঙ্গে পার্টনারশিপে প্রতিষ্ঠিত এই নতুন UV স্পেস স্টেশন ক্রেতাদের আল্ট্রাভায়োলেটের পারফরম্যান্স মোটরসাইকেলগুলোর – X-47 Crossover ও F77s – সার্বিক অভিজ্ঞতা পরখ করে দেখার সুযোগ দেবে। UV স্পেস স্টেশন ডিজাইন করা হয়েছে টেস্ট রাইডের সুযোগ, বিক্রি পরামর্শ এবং একগুচ্ছ মোটরসাইকেল অ্যাক্সেসরিজের নাগাল সমেত এক মগ্ন করে রাখার মত অভিজ্ঞতা এক ছাদের তলায় জোগানোর জন্য। এই এক্সপিরিয়েন্স সেন্টার কোম্পানির পারফরম্যান্স মোটরসাইকেল X-47 আর F77s ডিসপ্লে করবে। এই প্রোডাক্টগুলো ইলেকট্রিক পারফরম্যান্সের ভোল বদলে দেবে। এগুলোতে আছে 40.2 hp পাওয়ারট্রেন আর 100 Nm টর্ক, যা মাত্র ২.৮ সেকেন্ডে ০ থেকে ৬০ কিলোমিটার/ঘন্টা গতিবেগে পৌঁছে যায়। 10.3 kWh ব্যাটারি থাকায় এই বাইকের IDC রেঞ্জ হল একবার চার্জে ৩২৩ কিলোমিটার।

এই লঞ্চ সম্পর্কে আল্ট্রাভায়োলেটের সিইও এবং কো-ফাউন্ডার নারায়ণ সুব্রহ্মণ্যম বললেন “আমাদের জাতীয় উপস্থিতি সম্প্রসারিত করার জন্যে কলকাতা হল একটা স্ট্র্যাটেজিক ব্যবসা। কলকাতায় আমাদের দ্বিতীয় UV স্পেস স্টেশনের লঞ্চ পূর্ব ভারতে আমাদের উপস্থিতি জোরদার করার ক্ষেত্রে এক জরুরি মাইলফলক। এতে বোঝা যাচ্ছে যে একটা ক্রমবর্ধমান, উচ্চাকাঙ্ক্ষী অডিয়েন্স আছে যারা যানবাহনের ক্ষেত্রে ক্রমশ বেশি করে পারফরম্যান্স, প্রযুক্তি ও ডিজাইনের দিকে ঝুঁকছে। এই সম্প্রসারণ ক্রেতাদের সঙ্গে আমাদের সংযোগ আরও গভীর করার সুযোগ করে দেয়, পাশাপাশি আমাদের প্রোডাক্ট ও ব্র্যান্ড অভিজ্ঞতা তাঁদের আরও বেশি নাগালের মধ্যে চলে আসে। আল্ট্রাভায়োলেট ভারত জুড়ে আকারে বড় হয়ে চলেছে। এই অবস্থায় আমাদের ফোকাস ভবিষ্যতের জন্য তৈরি, উচ্চ গুণমানের নেটওয়ার্কের উপরেই রয়েছে, যা সত্যিকারের বিশ্বমানের মালিকানার অভিজ্ঞতা সরবরাহ করার পাশাপাশি পারফরম্যান্স মোবিলিটির পরবর্তী প্রজন্মেরও সহায়তা করে।”

আল্ট্রাভায়োলেটের ডীপ ইঞ্জিনিয়ারিং এবং প্ল্যাটফর্মভিত্তিক উদ্ভাবনের উপর ভিত্তি করে তৈরি X-47 Crossover হল নিজের সেগমেন্টে পৃথিবীর প্রথম বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল, যা সাধারণভাবেই র্যাডার জোগায়। এটা পারফরম্যান্স ইলেকট্রিক মোটরসাইকেলগুলোকে যেভাবে ডিজাইন করা হয় এবং তার অভিজ্ঞতা উপভোগ করা হয়, তাতে এক পাকাপাকি পরিবর্তন। এই মোটরসাইকেলে আছে আরোহীর উপর ফোকাস করা এক ইন্টারফেস, সঙ্গে ৫ ইঞ্চি TFT ডিসপ্লে, তিনটে স্বতন্ত্র রাইড মোড, লং-ট্র্যাভেল সাসপেনশন এবং এই শিল্পক্ষেত্রের প্রথম রেডিয়াল অল-টেরেইন টায়ার। এগুলো বাইক চালানোর বিচিত্র পরিবেশে আত্মবিশ্বাস, স্থিতিশীলতা ও নিয়ন্ত্রণ জোগায়।

উন্নত নিরাপত্তা ও বুদ্ধিমত্তা জোগানো হচ্ছে আল্ট্রাভায়োলেটের UV Radar Intelligence-এর মাধ্যমে। এটা চালিত হয় 77 GHz রিয়ার র্যাডার আর UV HyperSense Advanced Rider Assistance System দ্বারা। তার ফলে ব্লাইন্ড স্পট মনিটরিং, লেন চেঞ্জ অ্যাসিস্ট, ওভারটেক অ্যালার্ট এবং রিয়ার কলিশন ওয়ার্নিংয়ের মত কাজ হয়। X-47-এ পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি শক্তির এয়ার-কুলড অনবোর্ড চার্জারও আছে যা আল্ট্রাভায়োলেট নিজেই নির্মাণ ও ডিজাইন করেছে। পাশাপাশি আছে ইন্টিগ্রেটেড ড্যাশক্যাম সিস্টেম। এই ইঞ্জিনিয়ারিংভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি অটোমোটিভ শিল্পের স্বীকৃতি পেয়েছে, যার মধ্যে আছে EV মোটরসাইকেল অফ দ্য ইয়ারের সম্মান। এটা ভারত থেকে আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিযোগিতায় থাকার মত বৈদ্যুতিক যানবাহন গড়ে তোলার যে উচ্চাশা আল্ট্রাভায়োলেটের রয়েছে, তাকে আরও জোরদার করল।

উন্নত বৈদ্যুতিক যানবাহন আরও বেশি নাগালের মধ্যে নিয়ে আসার প্রতি আল্ট্রাভায়োলেটের যে দায়বদ্ধতা রয়েছে, তার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এই কোম্পানি সম্প্রতি চালু করেছেব্যাটারি ফ্লেক্স’ (BaaS)। এটা এমন এক নমনীয় মালিকানা মডেল, যা ডিজাইন করা হয়েছে পারফরম্যান্স ইলেকট্রিক মোটরসাইকেলগুলোর এন্ট্রি ব্যারিয়ার কমানোর জন্য। তার পাশাপাশি ক্রেতাদের ব্যাটারি ব্যবহারে এবং মালিকানায় বৃহত্তর নমনীয়তাও জোগানো যায়। এই উদ্যোগের ফলে ক্রেতারা এখন একটা Ultraviolette X-47-এর মালিক হতে পারেন মাত্র ১,৪৯,০০০ টাকায়; পাশাপাশি তার ব্যাটারির গ্রাহক হতে পারেন মাসে মাত্র ২৪৯৯ টাকার বিনিময়ে। এই মডেলে বাইক চেসিসের খরচ দেওয়ার পাশাপাশি স্থিতিশীল মাসিক গ্রাহক ফির বিনিময়ে ব্যাটারির খরচও দেওয়া হয়ে যায়। ভারতে EV চালু করার গতি বাড়ানোর ব্যাপারে আল্ট্রাভায়োলেটের বাস্তুতন্ত্রভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি আরও শক্তিশালী করল এই উদ্যোগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three × two =