স্বাস্থ্য বিমায় মহিলাদের মালিকানা বেড়েছে, কিন্তু কভারেজ এখনও পর্যাপ্ত নয়: কেয়ার হেলথ ইনসিওরেন্স

ভারতীয় মহিলারা রেকর্ড সংখ্যায় কর্মীবাহিনিতে যোগ দিচ্ছেন। যার ফলে তাঁদের কর্মসংস্থান প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৪০ শতাংশেরও বেশিতে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১.৫৬ কোটি মহিলা গত সাত বছরে প্রথাগত চাকরিতে ঢুকেছেন। কিন্তু ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ আর ক্রমশ সম্প্রসারিত হতে থাকা, সুনির্দিষ্টভাবে লিঙ্গসাম্যের জন্য নীতিগত অর্থ বরাদ্দ সত্ত্বেও, মহিলাদের মধ্যে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য বিমার মালিকানা অস্বাভাবিক রকমের কম, যা ধারাবাহিক আত্মসুরক্ষায় খামতি তুলে ধরে ।

এরই প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে কেয়ার হেলথ ইনসিওরেন্স একথা চিহ্নিত করেছে যে, তাদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য বিমা পোর্টফোলিওতে মহিলা প্রোপোজার এই মুহূর্তে ২৮ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশ। এই শেয়ার গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। একজন মহিলা গড়ে ১০-১৫ লাখ টাকার বিমা করান। এই তথ্যগুলো থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, যদিও মালিকানা আর কভারেজের মধ্যে ঘাটতি রয়েছে, চিকিৎসার খরচ বৃদ্ধি আর হাসপাতালের খরচ ক্রমাগত বাড়তে থাকায় স্বাধীন ও পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য কভারেজ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ছে।

এই প্রসঙ্গে কেয়ার হেলথ ইনসিওরেন্সের  চিফ অপারেটিং অফিসার মনীশ দোদেজা জানান,  ‘মহিলারা প্রথাগতভাবে পরিবারের স্বাস্থ্যের ধারক। তাঁরা প্রায়শই নিজেদের সুস্থতার উপরে আর সকলের সুস্থতাকে স্থান দেন। যতই আজকাল বেশি বেশি করে মহিলা পরিবারের দায়িত্ব নিন, তাঁদের নিজেদের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রায়ই অগ্রাধিকার পায় না। এই ব্যাপারটা এবার বদলাতে শুরু করেছে। মহিলারা এখন আমাদের ব্যক্তিগত পলিসিগুলোর প্রায় চার ভাগের এক ভাগের মালিক, এবং এই সংখ্যাটা স্থিতিশীলভাবে বাড়ছে। তবে এঁদের কভারেজ পর্যাপ্ত নয়, বাড়ানোর যথেষ্ট জায়গা আছে। চিকিৎসার খরচ ক্রমশ বাড়ছে। এই অবস্থায় সার্বিক ও সুস্থায়ী স্বাস্থ্য বিমার মাধ্যমে মহিলাদের প্রাইমারি পলিসিধারী হয়ে ওঠা একান্ত প্রয়োজন।’

একইসঙ্গে সংস্থার তরফ থেকে এও জানানো হয়েছে যে, কেয়ার হেলথ ইনসিওরেন্স একথাও তুলে ধরেছে যে মহিলারা ক্রমশ বেশি বেশি করে এমন রাইডার বেছে নিচ্ছেন, যাতে কভারেজে হাসপাতালে ভর্তির সাধারণ সুযোগসুবিধার থেকেও বেশি কিছু পাওয়া যায়। এর মধ্যে পড়ে পলিসির শর্ত অনুযায়ী IVF আর সারোগেসির মত মাতৃত্ব সংক্রান্ত সুবিধা, আউটপেশেন্ট পরামর্শ ও রোগনির্ণয়ের মত OPD সুবিধা, পলিসি বর্ষের মধ্যে সাম ইনসিওর্ড খরচ হয়ে গেলে তা আবার পূরণ করার জন্যে অটোমেটিক রিচার্জের সুবিধা এবং তাৎক্ষণিক কভারের বিকল্প, যা কিছু বাছাই চিকিৎসার জন্যে অপেক্ষার সময় কমিয়ে দেয়। উপরন্তু ক্রমশ বেশি বেশি করে মহিলা সুস্থতার সঙ্গে যুক্ত এনহ্যান্সমেন্ট বেছে নিচ্ছেন। এগুলোর মধ্যে আছে নির্দিষ্টভাবে মহিলাদের জন্য ব্যবস্থা করা স্বাস্থ্য চেক-আপ আর অ্যাকটিভিটি মাইলস্টোনের সঙ্গে যুক্ত করে রাখা রিটার্ন-অফ-প্রিমিয়াম সুবিধা। এ থেকে সুস্থায়ী, প্রতিরোধমূলক এবং স্বতঃপ্রণোদিত স্বাস্থ্য সুরক্ষার দিকে এক বৃহত্তর পরিবর্তনের সংকেত পাওয়া যাচ্ছে। সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান আরও ইঙ্গিত দিচ্ছে যে হাইপারটেনশন, ডায়বেটিস, শ্রোণি ও স্তন ক্যান্সারের মত অসংক্রামক অসুখ ও দীর্ঘকালীন রক্তাল্পতা হল ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উপস্থিত এবং ক্রমবর্ধমান অসুস্থতা। এ থেকে সমস্ত বয়সের মহিলাদের মধ্যে স্বাস্থ্য ও আর্থিক বিপদগুলো বোঝা যায়।

এই প্রসঙ্গে বলে রাখা শ্রেয়, ইনসিওরেন্স রেগুলেটরি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার (IRDAI) সাম্প্রতিকতম বার্ষিক রিপোর্ট অনুযায়ী, মহিলারা জীবন বিমা পলিসিধারীদের প্রায় ৩৪% । তবে স্ট্যান্ডঅ্যালোন স্বাস্থ্য বিমাকারীদের মধ্যে তাঁদের উপস্থিতি এখনো বেশ কম২৯%, আর সামগ্রিক বিমা শিল্প জুড়ে ৩২%। এটা বিমা বাস্তুতন্ত্রে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে এক বৃহত্তর ভারসাম্যহীনতাকে চিহ্নিত করে। চিকিৎসার খরচ বাড়ছে আর চিকিৎসার যাত্রা ক্রমশ আরও বেশি লম্বা হচ্ছে। অংশগ্রহণ আর পর্যাপ্ত কভারেজএই দুই ক্ষেত্রেই ব্যবধান কমানো মহিলাদের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দৃঢ়তাকে জোরদার করা এবং আর্থিক দুর্বলতা কমানোর জন্যে জরুরি ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twelve − 11 =