হাঁপানি ও সিওপিডি রোগীদের ইনহেলার ব্যবহার সহজ করতে জাইডাস লঞ্চ করল এয়ারোলাইফ মিনি™

আন্তর্জাতিক উপস্থিতিসম্পন্ন উদ্ভাবনচালিত লাইফ-সাইন্সেজ কোম্পানি জাইডাস লাইফসাইন্সেজ লিমিটেড (“জাইডাস”) লঞ্চ করল এয়ারোলাইফ মিনি™, পরবর্তী প্রজন্মের এক pMDI এনহ্যান্সার। এটি রেস্পিরেটরি পরিচর্যায় ড্রাগ ডিভাইস চালিত উদ্ভাবনকে চালনা করার যে কৌশল কোম্পানির রয়েছে, সেই কৌশল প্রয়োগ করার পথে এক তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ । এয়ারোলাইফ মিনি™ হল ভারতের প্রথম বহনযোগ্য এবং ভাঁজ করে রাখার মত স্পেসার, যা এটিকে ব্যবহারের জন্য ভীষণ সুবিধাজনক করে তুলেছে। জাইডাস এই ডিভাইস লঞ্চ করেছে এয়ারোডেল টেকনোলজি ইনোভেশনস প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে এক লাইসেন্সিং বোঝাপড়ার অঙ্গ হিসাবে।

ভারত হাঁপানি, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (COPD) এবং ব্রংকিয়েকট্যাসিসের মত দীর্ঘকালীন শ্বসন সংক্রান্ত অসুখের তাৎপর্যপূর্ণ ও ক্রমবর্ধমান বোঝার মুখোমুখি। ক্রমশ বেড়ে চলা বায়ুদূষণ, ধূমপান, বারবার ফিরে আসা সংক্রমণ এবং বিলম্বিত রোগনির্ণয়ের মত বিষয় এই অসুখগুলিকে বাড়িয়ে তুলছে। লক্ষ লক্ষ রোগী এইসব রোগের লক্ষণগুলিকে সামলাতে, অবস্থার অবনতি ঠেকাতে এবং জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে দীর্ঘমেয়াদি ইনহেলড থেরাপির উপর নির্ভর করেন।

ইনহেলড ওষুধ এইসব অসুখের চিকিৎসার কেন্দ্রবিন্দু হলেও ফুসফুসে ড্রাগের কার্যকরী সরবরাহ এখনো গুরুতর চ্যালেঞ্জ। বাস্তব জগতের সমীক্ষায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে ইনহেলার নেওয়ার পদ্ধতি প্রায়শই সর্বোচ্চ ক্ষমতায় পৌঁছয় না। ৯৪ শতাংশ রোগীই অন্তত একটা গুরুতর ভুল করেন, ফলে ড্রাগের অপচয় হয় এবং থেরাপির লাভ কমে যায়।

স্পেসার ডিভাইসগুলি কো-অর্ডিনেশনের ভুল কমিয়ে প্রেশারাইজড মিটার্ড-ডোজ ইনহেলার (pMDI) দ্বারা ডেলিভারি হওয়া ড্রাগের লাং ডিসপোজিশন বাড়ানোর জন্য প্রসিদ্ধ। তবে স্পেসার ডিভাইস সেগমেন্টের বেশিরভাগটাই স্বাতন্ত্র্যহীন। অধিকাংশ প্রোডাক্টই মোটা চেহারার। সেগুলির বহনযোগ্যতা সীমিত। উপরন্তু বারবার জোড়া লাগানোর ব্যাপার থাকে বলে ভুল ব্যবহার এবং বাস্তবে ঠিকঠাক জোড়া না লাগার ঝুঁকি বেড়ে যায়, বিশেষ করে বাড়ির বাইরে। প্রচলিত স্পেসারগুলির প্রমাণিত ক্লিনিকাল কার্যকারিতা থাকলেও বড় আকারে ধারাবাহিকভাবে উপকৃত করার ব্যাপারে সীমাবদ্ধতা আছে।

এয়ারোলাইফ মিনি ™ চালু করল এক জমাট, ভাঁজ করার মত এবং ব্যবহারের জন্য তৈরি ডিজাইন যা স্পেসারগুলিকে যেভাবে ব্যবহার করা হয় তা মৌলিকভাবে বদলে দিয়েছে। এই ড্রাগ ডিভাইস আরও ভালো ড্রাগ ডিপোজিশন অর্জন করতে পারবে, ডাক্তারের নির্দেশ পালন বাড়াবে, রোগীর আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করবে এবং থেরাপি আরও সুবিধাজনক করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই উদ্যোগ, রোগীকেন্দ্রিক ড্রাগ ডিভাইসের মাধ্যমে উদ্ভাবনভিত্তিক সুস্থায়ী, স্বতন্ত্র রেস্পিরেটরি ফ্র্যাঞ্চাইজ তৈরি করার জাইডাসের যে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল তার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

six − 2 =