রাজ্যকে না জানিয়ে জল ছাড়ছে ডিভিসি,  পরিস্থিতির অবনতি হাওড়া-হুগলির

মাইথন ও পাঞ্চেত জলাধার থেকে ৪৯ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়া হলেও দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকে ৬৭ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তার ফলে পশ্চিম বর্ধমান, দুই মেদিনীপুরের পাশাপাশি পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে হাওড়াহুগলিরও। এদিকে আবার সোমবার থেকে ফের প্রবল বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে খুব স্বাভাবিক ভাবেই পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা।

এদিকে রাজ্যের সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়ার সঙ্গে বৈঠকের পরে ডিভিসির চেয়ারপার্সন সুরেশ কুমার জানিয়েছিলেন, রাজ্যের অনুরোধ মতো বর্ষার মরসুমে তাঁরা ৫০ হাজার কিউসেকের বেশি জল একবারে না ছাড়ার চেষ্টা করবেন। তবে মরসুমের শেষ দিকে বৃষ্টির পরিমাণ বেশি হলে তা মানা সম্ভব হবে কি না, সেই বিষয়ে সংশয়ও প্রকাশ করেছিলেন সুরেশ। কিন্তু এটা কথার কথাই। ডিভিসি মরসুমের প্রথমেই অনেক বেশি জল ছাড়তে শুরু করেছে বলে অভিযোগ রাজ্যের। আর এই জল ছাড়া হচ্ছে রাজ্যকে না জানিয়ে। আর এখানেই প্রশ্ন উঠছে, বার বার রাজ্যকে না জানিয়ে জল ছাড়ছে কেন ডিভিসি? আবার অনেকেরই প্রশ্ন, সত্যিই কি রাজ্যকে না জানিয়ে জল ছাড়া হচ্ছে? কারণ, আইন অনুযায়ী জল ছাড়ার আগে রাজ্যকে জানানোই নিয়ম।

এদিকে গত ২৯ মে রাজ্যের সেচ ও জল সম্পদ দপ্তর, আবহাওয়া দপ্তর, কেন্দ্রীয় জল কমিশন, ফরাক্কা ব্যারাজ প্রজেক্ট অথরিটির সঙ্গে বৈঠক করে ডিভিসি। সেই বৈঠকে ছিলেন ডিভিসির চেয়ারপার্সন সুরেশ কুমার। তার আগে সুরেশ রাজ্যের মুখ্যসচিবের সঙ্গেও বৈঠক করেছিলেন। সেই বৈঠকের পরে ডিভিসির চেয়ারপার্সন বলেছিলেন, ‘রাজ্য সরকার ডিভিসির কাছে আবেদন করেছে, একবারে ৫০ হাজার কিউসেকের বেশি জল না ছাড়ার জন্যে। আমরা সেটা চেষ্টা করছি।’

সঙ্গে এও জানিয়েছিলেন, গতবার থেকেই আমরা এই জল ছাড়ার ঘটনা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেছি। কিন্তু, যে ভাবে শেষ পর্যায়ে এসে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়ছে, তাতে ৫০ হাজার কিউসেকের মধ্যে জল ছাড়ার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে কি না, সেটা আলোচনার বিষয়।এরপর শুক্রবার রাজ্যকে না জানিয়ে জল ছাড়ার পরে সন্ধ্যায় মুখ্যসচিব বৈঠক করেন। সেই বৈঠকেই সেচসচিব মণীশ জৈনকে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানাতে বলা হয়। সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া বলেন, ‘সেচসচিব ডিভিআরআরসি (দামোদর ভ্যালি রিজার্ভার রেগুলেশন কমিটি)-তে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।এই প্রসঙ্গে সেচমন্ত্রী এও মনে করিয়ে দেন, ‘এখনও পর্যন্ত ওই বোর্ডে রাজ্যের কোনও প্রতিনিধি নেই। তার পরেও আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল, জল ছাড়ার বিষয়টি রাজ্যকে জানানো হবে।

এদিকে ডিভিসি রাজ্য়ের অভিযোগ মানতে নারাজ। ডিভিসির তরফ থেকে দাবি করা হচ্ছে, জল ছাড়ার কথা সব সময়ই রাজ্যকে জানানো হয়। সেটাই নিয়ম। শুধু বাংলাই নয়, অন্য রাজ্যকেও জানানো হয়। ঝাড়খণ্ড বা অন্য রাজ্য কখনও এমন অভিযোগ তোলে না। পশ্চিমবঙ্গের তরফে বলা হচ্ছে, ডিভিসি জানালেও তা কখনও আগাম জানানো হয় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

19 − six =