প্রতি বছর ৮ মার্চ পালিত আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে, আর্থি স্ক্যানস অ্যান্ড ল্যাবস ঘোষণা করেছে এক মাসব্যাপী সারাদেশব্যাপী বিনামূল্যে অ্যানিমিয়া ও থাইরয়েড পরীক্ষার ক্যাম্প। এই উদ্যোগ চলবে ১ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত, কলকাতা, চেন্নাই, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, পুনে, দিল্লি, আহমেদাবাদ, তিরুবনন্তপুরম, বিশাখাপত্তনমসহ ভারতের প্রধান শহরগুলিতে।
এই ক্যাম্পে মহিলারা বিনামূল্যে আয়রন (অ্যানিমিয়া) ও TSH (থাইরয়েড) পরীক্ষা করাতে পারবেন। সময়: সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা, সোমবার থেকে শুক্রবার। কোনো পূর্বনির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্টের প্রয়োজন নেই এবং প্রতিটি কেন্দ্রে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ পাওয়া যাবে।
প্রসঙ্গত, ভারতে প্রায় ৪২ মিলিয়ন মানুষ থাইরয়েড সমস্যায় ভুগছেন, যার মধ্যে মহিলাদের সংখ্যা পুরুষদের তুলনায় অনেক বেশি। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ১০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে ১ জনের হাইপোথাইরয়েডিজম রয়েছে, এবং মহিলাদের মধ্যে এর হার দ্বিগুণ। প্রজননক্ষম বয়সের মহিলারা ও ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে মহিলারা বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।
ভারতে প্রায় ৬০% থাইরয়েড রোগ নির্ণয় হয় না, ফলে প্রকৃত বোঝা আরও বেশি হতে পারে। মহিলাদের মধ্যে থাইরয়েড সমস্যার লক্ষণ হিসেবে বন্ধ্যাত্ব, মাসিকের অনিয়ম, গর্ভাবস্থার জটিলতা, অজানা কারণে ওজন বৃদ্ধি, ক্লান্তি ও চুল পড়া দেখা যায়।
অ্যানিমিয়া সমানভাবে উদ্বেগজনক জনস্বাস্থ্য সমস্যা। NFHS-5 (২০১৯–২১) অনুযায়ী, ভারতে ১৫–৪৯ বছর বয়সী প্রায় ৫৭% মহিলা অ্যানিমিয়ায় আক্রান্ত। কিশোরী মেয়েদের মধ্যে এই হার ৫৯.১% এবং গর্ভবতী মহিলাদের মধ্যে ৫২.২%।
এই প্রসঙ্গে আর্থি স্ক্যানস অ্যান্ড ল্যাবস-এর চিফ রেডিওলজিস্ট ও এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ডা. আর্থি গোবিন্দরাজন জানান, “মহিলাদের মধ্যে থাইরয়েড ও অ্যানিমিয়া প্রায়ই অচিহ্নিত থেকে যায়, কারণ এর লক্ষণ—যেমন ক্লান্তি, চুল পড়া বা ওজন পরিবর্তন—প্রায়ই জীবনযাত্রাজনিত সমস্যা হিসেবে ধরা হয়। এই সারাদেশব্যাপী স্ক্রিনিং ড্রাইভের মাধ্যমে আমাদের লক্ষ্য হলো প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষা, সময়মতো রোগ নির্ণয় এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করা, যাতে মহিলারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেদের স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন।”
সংস্থার তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এই ক্যাম্প চলবে ১ মার্চ – ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত।
- স্থান: ভারতের সব আর্থি স্ক্যানস অ্যান্ড ল্যাবস কেন্দ্র
- সময়: সকাল ৬টা – সন্ধ্যা ৬টা (সোমবার থেকে শুক্রবার)

