আল্ট্রাটেক ভারতে বার্ষিক ২০০ মিলিয়ন টন উৎপাদন সক্ষমতা অতিক্রম করল

আদিত্য বিড়লা গ্রুপের সিমেন্ট শাখা আল্ট্রাটেক সিমেন্ট লিমিটেড ভারতের শিল্প ও অবকাঠামো ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনা করেছে। সংস্থার তরফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে যে তাদের স্থাপিত উৎপাদন ক্ষমতা ২০০ মিলিয়ন টন প্রতি বছর (MTPA) অতিক্রম করেছে। এর ফলে আল্ট্রাটেক চিনের বাইরে বিশ্বের বৃহত্তম সিমেন্ট কোম্পানি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে।

এই প্রসঙ্গে সংস্থার তরফ থেকে এও জানানো হয়েছে যে, আল্ট্রাটেকের এই অগ্রযাত্রা শুধু পরিমাণে নয়, গতিতেও নজিরবিহীন। ২০১৯ সালে ১০০ MTPA পৌঁছাতে সংস্থার লেগেছিল ৩৬ বছর। কিন্তু পরবর্তী ১০০ MTPA যোগ করতে সময় লেগেছে মাত্র সাত বছরেরও কম। এই গতি ভারতের অবকাঠামো স্বপ্নের গভীরতা এবং সংস্থার কার্যক্ষমতার প্রতিফলন।

উদ্বোধন হওয়া তিনটি নতুন গ্রাইন্ডিং ইউনিট — শাহজাহানপুর (উত্তরপ্রদেশ), পাত্রাতু (ঝাড়খণ্ড) এবং ভিজাগ (আন্ধ্রপ্রদেশ) — সংস্থার আঞ্চলিক সরবরাহকে আরও শক্তিশালী করেছে। উত্তর ভারতের নির্মাণ করিডর, ঝাড়খণ্ডের শিল্পাঞ্চল এবং আন্ধ্রপ্রদেশের দ্রুত নগরায়িত উপকূলীয় অঞ্চলকে এগুলি সরাসরি সেবা দেবে। এর ফলে ভারতের মোট ক্ষমতা দাঁড়িয়েছে ২০০.১ MTPA এবং বিশ্বব্যাপী সংযুক্ত ক্ষমতা ২০৫.৫ MTPA

এই প্রসঙ্গে আদিত্য বিড়লা গ্রুপের চেয়ারম্যান কুমার মঙ্গলম বিড়লা জানান, এক দশক আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীমেক ইন ইন্ডিয়াউদ্যোগের মাধ্যমে যে দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছিলেন, আল্ট্রাটেক সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে। ২০০ MTPA মাইলফলক শুধু সংস্থার নয়, ভারতেরও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক।

এর পাশাপাশি সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে. সি. ঝানওয়ার বলেন, এই প্রবৃদ্ধি এসেছে জৈব সম্প্রসারণ ও কৌশলগত অধিগ্রহণের সমন্বয়ে, যা ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ভোক্তাদের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম করেছে।

সংস্থার তরফ থেকে এও জানানো হয়েছে যে,আল্ট্রাটেক ভারতের প্রতিটি তিনটি বাড়ির মধ্যে একটি, এনএইচএআই-এর কংক্রিট সড়কের প্রতি পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে দুটি, এবং মেট্রো রেলের প্রতি পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে চারটিতে সিমেন্ট সরবরাহ করে। নতুন সংসদ ভবন, মুম্বই কোস্টাল রোড, দ্বারকা এক্সপ্রেসওয়ে, নবি মুম্বই বিমানবন্দর, সোনমার্গ টানেল এবং মুম্বই–আহমেদাবাদ হাই স্পিড রেল করিডরের মতো প্রকল্পে এর সিমেন্ট ব্যবহৃত হয়েছে। সঙ্গে দেওয়া হয়েছে সংস্থার তরফ থেকে টেকসই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিও। আর এই ব্যাপারে আল্ট্রাটেক স্পষ্ট করেছে যে তাদের প্রবৃদ্ধি টেকসই উন্নয়ন একসাথে চলবে। সংস্থা প্রতি টন সিমেন্টে CO₂ নির্গমন কমাতে, বিকল্প জ্বালানি কাঁচামালের ব্যবহার বাড়াতে এবং সবুজ নির্মাণ প্রথা প্রয়োগে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

আগামী পথচলাবর্তমানে চলমান প্রকল্পগুলির মাধ্যমে, যা ১৬,০০০ কোটি টাকার মূলধনী বিনিয়োগে এগোচ্ছে, আল্ট্রাটেকের ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পেয়ে ২৪০+ MTPA ছুঁবে।এই মাইলফলক শুধু একটি কর্পোরেট সাফল্য নয়, বরং ভারতের অবকাঠামো ভবিষ্যতের এক দৃঢ় ভিত্তি। আল্ট্রাটেক আজ প্রমাণ করেছে যে পরিমাণ টেকসই উন্নয়ন একসাথে চলতে পারে, এবং ভারতের শিল্পযাত্রাকে বিশ্বমানের উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

9 − 6 =