প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্বর্ণ বিষয়ক আহ্বানকে সমর্থন করেছে মালাবার গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডস

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দায়িত্বশীল স্বর্ণ ব্যবহারের আহ্বানকে সমর্থন করেছে মালাবার গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডস।মালাবার গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডস ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি বিস্তৃত প্রস্তাব জমা দিয়েছে, যেখানে গোল্ড মনিটাইজেশন স্কিম উন্নয়নের জন্য কৌশলগত পদক্ষেপের সুপারিশ করা হয়েছে। কোম্পানি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দায়িত্বশীল স্বর্ণ ব্যবহার ও দেশীয় সম্পদের সঠিক প্রয়োগের আহ্বানকে আন্তরিকভাবে সমর্থন জানিয়েছে।

প্রস্তাবটি মালাবার গ্রুপের চেয়ারম্যান এম.পি. আহাম্মদ অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এবং বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের কাছে জমা দেন। এতে জনসাধারণের অংশগ্রহণ বাড়ানো, অচল স্বর্ণকে আনুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে আনা এবং পুনর্ব্যবহার ও পুনঃচক্রায়নকে উৎসাহিত করার বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়েছে।

ভারত প্রতিবছর প্রায় ৭০০–৮০০ টন স্বর্ণ আমদানি করে, যা বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ সৃষ্টি করে। অথচ ভারতীয় পরিবার ও প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে প্রায় ২৫,০০০–৩৫,০০০ টন স্বর্ণ অলঙ্কার, মুদ্রা ও বার আকারে জমা রয়েছে, যা অর্থনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয়।

এই প্রসঙ্গে মালাবার গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডসের তরফ থেকে এও জানানো হযেছে, দেশীয় স্বর্ণের পুনঃচক্রায়ন, বিনিময় ও মনিটাইজেশন আমদানি নির্ভরতা কমাতে, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এই প্রসঙ্গে  মালাবার গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডসের চেয়ারম্যান এম.পি. আহাম্মদ জানান, “ভারতের হাতে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ব্যক্তিগত স্বর্ণ ভাণ্ডার রয়েছে, অথচ দেশীয় চাহিদা মেটাতে আমদানির ওপর নির্ভরতা অব্যাহত। আমরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর  আহ্বানকে আন্তরিকভাবে সমর্থন করি এবং বিশ্বাস করি যে বিদ্যমান স্বর্ণের দায়িত্বশীল ব্যবহার, পুনঃচক্রায়ন ও প্রচলন জাতীয় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। যথাযথ নীতি সহায়তা ও সংগঠিত জুয়েলারি খাতের সক্রিয় অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে গোল্ড মনিটাইজেশন স্কিম অচল স্বর্ণকে আনুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে আনার কার্যকর মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।”

একইসঙ্গে গোল্ড মনিটাইজেশন স্কিম শক্তিশালী করতে যে সব প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে তা হল,

সংগঠিত জুয়েলারি খাতের অন্তর্ভুক্তি

ন্যূনতম জমার পরিমাণ ১০ গ্রাম থেকে ১ গ্রামে নামানো

স্বর্ণ বা নগদে নমনীয় রিডেম্পশন সুবিধা

কম লক-ইন সময় ও উন্নত তরলতা

আধার-ভিত্তিক সহজ ই-কে ওয়াই সি প্রক্রিয়া

গ্রাহক প্রণোদনা ও লয়্যালটি সুবিধা

বিশুদ্ধতা পরীক্ষা ও মূল্যায়নে স্বচ্ছতা

আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থায় ফেরত আনা স্বর্ণে জিএসটি ছাড়ের বিবেচনা

গোল্ড মেটাল লোন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য

প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, ব্যাংক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার তত্ত্বাবধানে জুয়েলারি-সহায়ক সংগ্রহ ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু করলে গ্রাহকের আস্থা ও কার্যকারিতা বাড়বে।

পাশাপাশি সংস্থার তরফ থেকে এও আশা করা হচ্ছে, ভারতের দেশীয় স্বর্ণ ভাণ্ডারের মাত্র ১–২% সক্রিয় করা গেলে প্রায় ৬০০–৭০০ টন স্বর্ণ অর্থনীতিতে প্রবাহিত হতে পারে, যা বার্ষিক আমদানির একটি বড় অংশ পূরণ করবে।

মালাবার গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডস বিশ্বাস করে, পুনঃচক্রায়ন, বিনিময় ও মনিটাইজেশনকে উৎসাহিত করলে ভারত আরও স্বনির্ভর ও স্থিতিশীল অর্থনীতির পথে এগোতে পারবে, যা প্রধানমন্ত্রী মোদীর দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

17 + 20 =