উবের সম্প্রতি তাদের নিরাপত্তা উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একাধিক নতুন ফিচার চালু করেছে। এই পদক্ষেপগুলো শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, বরং যাত্রী ও চালকের জন্য আরও দায়িত্বশীল ও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার প্রচেষ্টা।
এই নতুন ফিচারের মধ্যে রয়েছে,
- রেকর্ড মাই রাইড: চালকরা এখন তাদের নিজস্ব ফোন ব্যবহার করে উবার অ্যাপের মাধ্যমে গাড়ির ভেতরের ভিডিও রেকর্ড করতে পারবেন। ভিডিওটি এনক্রিপ্টেড থাকবে এবং কেবলমাত্র চালক চাইলে নিরাপত্তা রিপোর্টে জমা দেওয়ার সময় তা ব্যবহার করা যাবে। এর ফলে চালকরা যদি কোনো পরিস্থিতিতে অস্বস্তি বা অনিরাপত্তা অনুভব করেন, তবে তারা প্রমাণ হিসেবে ভিডিও জমা দিতে পারবেন।
- অ্যাম্বুল্যান্স অ্যাসিস্ট্যান্স: ডায়াল 4242-এর সঙ্গে অংশীদারিত্বে উবার এখন দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা পাওয়ার সুযোগ দিচ্ছে। যাত্রী বা চালক দুর্ঘটনায় পড়লে সরাসরি উবারের ২৪x৭ সেফটি লাইনের মাধ্যমে অ্যাম্বুলেন্স ডাকা যাবে।
- ডোন’t টাইপ অ্যান্ড ড্রাইভ: গাড়ি চলার সময় চালকের অ্যাপে টাইপ করার সুবিধা বন্ধ থাকবে, যাতে মনোযোগ বিচ্যুত না হয় এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমে।
- সেট ইয়োর ওন পিন: যাত্রীরা এখন নিজেরাই একটি ইউনিক পিন তৈরি করে তা দিয়ে ট্রিপ যাচাই করতে পারবেন। এতে যাত্রীরা আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ পাবেন এবং ভুয়া ট্রিপ বা ভুল গাড়ি নেওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে।
এই প্রসঙ্গে বলে রাখা শ্রেয়, উবের ইতিমধ্যেই অডিও রেকর্ডিং, উইমেন রাইডার প্রেফারেন্স, হেলমেট সেলফি ভেরিফিকেশন এবং সিটবেল্ট রিমাইন্ডার চালু করেছে। এগুলো ধীরে ধীরে শিল্পের মানদণ্ডে পরিণত হয়েছে এবং যাত্রীদের প্রত্যাশার অংশ হয়ে উঠেছে।
প্রসঙ্গত, উবের শুধু প্রযুক্তি নয়, সামাজিক উদ্যোগেও অংশ নিচ্ছে। তারা সড়ক সুরক্ষা অভিযান-এ অংশ নিয়ে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা ছড়াচ্ছে। এছাড়া পরিবারকেন্দ্রিক সেবা যেমন উবের ফর টিনস এবং উবের ফর সিনিয়র্স চালু করেছে।
কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ি উবেরের উদ্যোগকে প্রশংসা করার পাশাপাশি তিনি এও বলেন, “ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলা, সিটবেল্ট ও হেলমেট ব্যবহার করা সহজ মনে হলেও এগুলো দুর্ঘটনায় মৃত্যুহার কমাতে বড় ভূমিকা রাখে। প্রযুক্তি সচেতনতা বাড়াতে এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”
সব মিলিয়ে উবেরের এই নতুন উদ্যোগগুলো প্রমাণ করে যে নিরাপত্তা এখন আর শুধু অতিরিক্ত সুবিধা নয়, বরং রাইড–শেয়ারিং শিল্পের মৌলিক প্রত্যাশা হয়ে উঠছে। প্রযুক্তি ও অংশীদারিত্বের মাধ্যমে তারা যাত্রী ও চালকের জন্য আরও নিরাপদ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে চাইছে।

