ইলিশের জোগান থাকলেও দাম কমছে না খুচরো বাজারে

সাগর থেকে ট্রলার ভর্তি ইলিশ ঢুকেছে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা,দিঘায়। পরিসংখ্যান বলছে, মত্‍স্যজীবীরা বিগত তিন দিনে ধরেছেন প্রায় হাজার টন ইলিশ ধরেছেন। ফলে গত কয়েক বছরে ইলিশের যে ঘাটতি দেখা
গিয়েছিল সে ঘাটতি এবার নেই বাজারে। কারণ, বৃষ্টি শুরু হতেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপ, নামখানা, বকখালি-ফ্রেজারগঞ্জ, পাথরপ্রতিমা ও রায়দিঘির মত্‍স্যজীবীদের জালে ধরা পড়েছে টন টন রুপোলি শস্য। সূত্রের খবর,গত সপ্তাহে ৫০০ টনের উপর ইলিশ উঠেছিল। গত ৩ দিনে ১ হাজার টনের বেশি ইলিশ ডায়মন্ড হারবারের বাজারে। ফলে এক ধাক্কায় ডায়মন্ড হারবারের আড়তগুলিতে ইলিশের আমদানি অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। এদিকে প্রায় ৫০ টন ইলিশ উঠেছে দিঘার মোহনায়।

জোগান অনেক থাকলেও মানিকতলা থেকে গড়িয়াহাট বাজার, লেক মার্কেট, কলকাতার সব বড় মার্কেটেই ইলিশের দাম কিন্তু বেশ চড়া। ৫০০-৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম কেজি প্রতি দাম ৫০০ টাকা।
৬০০-৭০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ টাকা কেজি দরে। এদিকে ১ কেজির ইলিশের দাম কেজিতে ১৪০০-১৫০০ টাকা। আমদানি বেশি। পাইকারিতে দাম কম হলেও,খোলা বাজারে ইলিশের দাম বেশি থাকা কারণ হিসেবেপাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান,’আমদানি খরচ থেকে লেবার খরচ সবটাই বেড়ে গিয়েছে তাতেই দাম বাড়ছে। সঙ্গে রয়েছে বহন খরচ আর বরফের খরচ। এছাড়াও আরও আনুসাঙ্গিক খরচ রয়েছে। ফলে আড়ত থেকে ৫০০ টাকায় কিনে ৬০০ টাকায় না বিক্রি করতে পারলে লাভ তো কিছুই থাকবে না।’ তবে আরও বৃষ্টি হলে,ইলিশের আমদানি বাড়লে দাম কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা।
এদিকে যাঁরা ইলিশ নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করছেন তাঁদের দাবি,বঙ্গোপসাগরে বৃষ্টি ও পুবালি হাওয়া থাকায় ইলিশের ঝাঁকের দেখা মিলছে। তবে, রুপোলি শস্যের স্বাদের তারতম্যে চিন্তায় ব্যবসায়ীরা। বৃষ্টি হলে মাছের স্বাদ আরও ভাল হবে। যতক্ষণ না ইলিশ মিষ্টি জল পাবে ততদিন এর স্বাদ আসবে না। তবে বাজারে বাড়তি ইলিশে ক্রেতা-থেকে বিক্রেতা সকলের মুখেই চওড়া হাসি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

17 − nine =