কলকাতার গ্র্যান্ড হোটেল স্টোরকে নতুন করে সাজিয়ে প্রিমিয়াম রিটেইল অভিজ্ঞতাকে উন্নত করল বাটা ইন্ডিয়া

Featured Video Play Icon

কলকাতার গ্র্যান্ড হোটেল স্টোর ছিল বাটার প্রথম খুচরো আউটলেট, যা শহরের মানুষের কাছে আবেগের প্রতীক। এই প্রসঙ্গে এটা বলতেই হয, বাটা ইন্ডিয়া শুধু একটি জুতোর ব্র্যান্ড নয়, বরং কলকাতার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি নাম। ৯০ বছরেরও বেশি পুরনো গ্র্যান্ড হোটেল স্টোরের পুনর্নির্মাণ এই সম্পর্ককে নতুনভাবে তুলে ধরল। কলকাতা ও বাটানগর বাটার শিল্প ও কর্মসংস্থানের কেন্দ্র, যা শহরের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। যেমন বহু প্রজন্ম ধরে বাটার জুতো স্কুল, অফিস ও উৎসবের অপরিহার্য অংশ। আর এটাও ঠিক যে, বাটার নাম উচ্চারণেই অনেকের শৈশবের স্মৃতি, স্কুলের প্রথম জুতো বা পুজোর নতুন সংগ্রহ মনে পড়ে।ফলে সব মিলিয়ে এই বাটা ব্র্যান্ড শহরের মধ্যবিত্ত জীবনের সঙ্গে এতটাই মিশে গেছে যে এটি একধরনের সাংস্কৃতিক প্রতীক হয়ে উঠেছে।

এই প্রসঙ্গে আরও একটা তথ্য না দিলেই নয়, ০০০১ গ্র্যান্ড হোটেল নামেও পরিচিত এই স্টোরটি দেশব্যাপী শীর্ষ তিনটি স্টোরের মধ্যে অন্যতম।  যাকে নতুন করে সাজিয়ে বাটার ক্রমবিকাশমান রিটেইল দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত করে শুধু নয়, এটি সমসাময়িক আঙ্গিকে প্রিমিয়ামাইজেশন, উন্নতমানের ইন-স্টোর অভিজ্ঞতা এবং ঐতিহ্যের এক বলিষ্ঠ অনুভূতিকে একত্রিতও করে।

বাটা ইন্ডিয়ার গ্র্যান্ড হোটেল স্টোর পুনর্নির্মাণ কলকাতায় শুধু সাংস্কৃতিক নয়, ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও বড় প্রভাব ফেলছে বলে জানাচ্ছে জুতো প্রস্তুতকারক এই আন্তর্জাতিক সংস্থা। পাশাপাশি তারা এও জানিয়েছে, পূর্ব ভারতের বাজারে প্রিমিয়ামাইজেশন কৌশল, আয় বৃদ্ধির লক্ষ্য এবং নতুন স্টোর সম্প্রসারণের মাধ্যমে কোম্পানি আগামী তিন বছরে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি প্রত্যাশা করছে।

একইসঙ্গে এও জানানো হয়েছে, পুনর্নির্মিত গ্র্যান্ড হোটেল স্টোর বর্তমানে প্রায় ৯ কোটি টাকা আয় করছে। আগামী বছরে এটি ১০–১১ কোটি টাকায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সংস্থার তরফ থেকে এও জানানো হয়েছে, পূর্বাঞ্চল বর্তমানে বাটা ইন্ডিয়ার জাতীয় আয়ের প্রায় ১২–১৫ শতাংশ যোগান দেয়, যার কেন্দ্রবিন্দু এই কলকাতা। বাটা ইন্ডিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় ব্যবসার প্রায় ৫০% এবং জাতীয় আয়ের প্রায় ৬% যোগান দেয়। আর ভবিষ্যতে প্রিমিয়ামাইজেশন কৌশল হিসেবে কোম্পানি আগামী তিন বছরে গড় পণ্যের দাম ৩–৫% বার্ষিক বৃদ্ধি করবে, প্রযুক্তি-নির্ভর অফার এবং সাশ্রয়ী প্রিমিয়াম সংগ্রহের মাধ্যমে।  বর্তমানে ২০০০+ স্টোর থেকে আগামী তিন বছরে ৩০০০ স্টোরে পৌঁছানোর পরিকল্পনা। পূর্ব ভারতে আগামী বছরে ২৫–৩০টি নতুন স্টোর খোলার লক্ষ্য। আর সাপ্লাই চেইন শক্তিশালীকরণের জন্য ‘জিরো-বেসড মার্চেন্ডাইজিং’ কৌশল চালু হয়েছে, যাতে প্রতিটি স্টোরের চাহিদা অনুযায়ী ইনভেন্টরি সাজানো যায়। আর নতুন প্রিমিয়াম জোন, কিউরেটেড মার্চেন্ডাইজিং এবং উন্নত ইন-স্টোর অভিজ্ঞতা গ্রাহকদের আকর্ষণ বাড়াবে বলেও মনে করছে এই আন্তর্জাতিক জুতো প্রস্তুতকারক সংস্থা।

বাটা কলকাতার ইতিহাসে শুধু একটি জুতোর কোম্পানি নয়, বরং শিল্প, কর্মসংস্থান ও নগর সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান। ১৯৩২ সালে কন্নগরে প্রথম কারখানা স্থাপন থেকে শুরু করে বাটানগরের গড়ে ওঠা পর্যন্ত, বাটা কলকাতার অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে স্থায়ী ছাপ রেখে গেছে।

বাটা কোম্পানির ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে, এই আন্তর্জাতিক জুতো সংস্থা বাটা শু কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৩১ সালে। এরপর ১৯৩২ সালে কলকাতার কাছাকাছি কোন্নগরে প্রথম কারখানা চালু হয়। এরপর ১৯৩৪ সালে বাটানগরে প্রথম ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এটি ভারতের প্রথম শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত। আরএই শিল্পনগরীতে কর্মীদের জন্য আবাসন, স্কুল, হাসপাতাল ও সামাজিক অবকাঠামো তৈরি হয়। বাটানগরের কারখানা ছিল ভারতের প্রথম জুতো উৎপাদন কেন্দ্র যা ISO:9001 সার্টিফিকেশন পায়। এরপর ১৯৭৩ সালে কোম্পানি পাবলিক লিমিটেডে রূপান্তরিত হয় এবং নাম হয় বাটা ইন্ডিয়া লিমিটেড। এরপর থেকে বঙ্গ জীবনে বাটা কলকাতায় শুধু একটি জুতোর দোকান নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান। এটি শহরের ঐতিহ্য, উৎসব, দৈনন্দিন জীবন এবং অর্থনৈতিক প্রবাহের সঙ্গে যুক্ত। গ্র্যান্ড হোটেল স্টোরের পুনর্নির্মাণ সেই দীর্ঘ সম্পর্ককে নতুনভাবে প্রকাশ করেছে, যেখানে ঐতিহ্য ও আধুনিকতা একসাথে মিশে গেছে।

শুক্রবার সন্ধেয় এই উপলক্ষকে আরও জোরালো করে তুলে ধরে এক সাংস্কৃতিক মুহূর্তে পরিণত করতে, জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও আঞ্চলিক আইকন ঋতাভরী চক্রবর্তী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এক উৎসবমুখর ও আনন্দময় আবহ নিয়ে আসেন।

এই মাইলফলক প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে বাটা ইন্ডিয়ার সিইও গুঞ্জন শাহ বলেন, ’ভোক্তাদের প্রত্যাশা পরিবর্তিত হওয়ার সাথে সাথে, আমরা আমাদের নেটওয়ার্ক জুড়ে খুচরা কেনাকাটার অভিজ্ঞতাকে নতুনভাবে কল্পনা করছি। গ্র্যান্ড হোটেল স্টোরের এই সংস্কারটি প্রিমিয়াম পরিবেশ, আরও উন্নত ইন-স্টোর অভিজ্ঞতা এবং গ্রাহকদের সাথে আরও দৃঢ় সম্পৃক্ততার মাধ্যমে আমাদের রিটেইল পরিধিকে উন্নত করার একটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ। কলকাতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে রয়ে গেছে, এবং বাটানগর আমাদের আঞ্চলিক ঐতিহ্যের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। এই রূপান্তরটি ভবিষ্যতের জন্য নির্মাণ করার পাশাপাশি আমাদের ঐতিহ্যকে রূপদানকারী বাজারগুলিতে বিনিয়োগ করার প্রতি আমাদের অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে। ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে, বাটা ইন্ডিয়া আগামী এক বছরে পূর্ব ভারত জুড়ে COCO এবং FOFO মডেলে ২৫-৩০টি নতুন স্টোর খোলার পরিকল্পনা করছে, যেখানে উদীয়মান বাজার ও পার্বত্য অঞ্চলসহ পশ্চিমবঙ্গের ওপর বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হবে।’

এর পাশাপাশি বাটা ইন্ডিয়ার চিফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার এবং চিফ বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার বদ্রি বেরিওয়াল বলেন, ‘পূর্বাঞ্চল আমাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবৃদ্ধির করিডোর হিসেবে অব্যাহত রয়েছে, এবং এই কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কলকাতা। গ্র্যান্ড হোটেল স্টোরের এই নতুন রূপটি প্রতিফলিত করে যে, আমরা কীভাবে উচ্চ-প্রভাবশালী বাজারগুলিতে খুচরা ব্যবসার নতুন সংজ্ঞা দিচ্ছি। এই বিন্যাসটি আমাদের খুচরা ব্যবসার সম্প্রসারণের পরবর্তী পর্যায়কে রূপ দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’ একইসঙ্গে এও জানান, ‘এই সংস্কারটি বাটা ইন্ডিয়ার ‘কাস্টমার ফার্স্ট’ সাপ্লাই চেইন উদ্যোগ দ্বারা সমর্থিত, যা স্টোর জুড়ে পণ্যের ধারাবাহিক প্রাপ্যতা ও দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করার উপর গুরুত্ব দেয়।’

এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বাটা ইন্ডিয়ার সাপ্লাই চেইন প্রধান অঞ্জন কুণ্ডু জানান,  ‘বাটা-তে আমরা বিশ্বাস করি যে, দোকানের ভেতরের অভিজ্ঞতার মান একে সমর্থনকারী সরবরাহ শৃঙ্খলের শক্তির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। ‘গ্রাহক প্রথম’ উদ্যোগটি এটা নিশ্চিত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে যে, বাটার দোকানে আসা প্রত্যেক গ্রাহক যেন প্রতিবারই তাঁর কাঙ্ক্ষিত জিনিসটি খুঁজে পান। এত বড় ও গুরুত্বপূর্ণ একটি দোকানের জন্য এই অঙ্গীকার অপরিহার্য।’

অঞ্চলের সঙ্গে নিজেদের সংযোগ আরও জোরদার করতে, বাটা ইন্ডিয়া এও ঘোষণা করেছে যে তাদের দুর্গাপূজা ২০২৬ উৎসবের কালেকশনটি কলকাতায় জাতীয়ভাবে আত্মপ্রকাশ করবে। এর সমর্থনে থাকবে অগ্রিম ইনভেন্টরি পরিকল্পনা এবং স্থানীয়ভাবে প্রাসঙ্গিক একটি প্রচারণা, যেখানে থাকবেন এই অঞ্চলের একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, যা উৎসবের মরসুমের কাছাকাছি সময়ে প্রকাশ করা হবে। সঙ্গে এটাও না বললেই নয়, প্রায় এক শতাব্দী ধরে ভারতীয় গ্রাহকদের আস্থা মানের প্রতীক বাটা ইন্ডিয়া। বর্তমানে ১৯০০+ স্টোর, হাজারো মাল্টিব্র্যান্ড আউটলেট এবং শক্তিশালী ওমনিচ্যানেল উপস্থিতির মাধ্যমে বছরে প্রায় ৫০ মিলিয়ন জোড়া জুতো বিক্রি করে। আর এই আন্তর্জাতিক মানের ব্র্যান্ডটি ফ্যাশন কমফোর্টের সংযোগকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছেযেমন Bata Red Label, Bata Comfit, Power, NorthStar, Floatz, Bubblegummers এবং Hush Puppies

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × two =