লোকসভা নির্বাচনের আগে জেলা সভাপতি পদে রদবদল বঙ্গ বিজেপির

বিজেপির এখন পাখির চোখ ২০২৪ লোকসভা নির্বাচন। বঙ্গের রাজনীতিতে নিজেদের মাটি খুঁজে পেতে মরিয়া তাঁরা। কারণ, ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে মোটেই মনমত ফল হয়নি বিজেপির। ১০০-সিটেও  জয় আনতে পারেননি বঙ্গ বিজেপির নেতারা।  পঞ্চায়েতেও মোটেই ভাল ফল করেনি বিজেপি। ফলে এবার বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে লোকসভা নির্বাচনের ওপর। আর সেই কারণেই সংগঠনের এক বিরাট রদবদল আনল বঙ্গ বিজেপির স্যাফ্রন ব্রিগেড। কেন্দ্রীয় স্তর থেকে একাধিক জেলার সাংগঠনিক জেলা সভাপতি পদে রদবদল করল বিজেপি। পঞ্চায়েত নির্বাচনে আশানুরূপ ফল না হওয়ার পর আগামী লোকসভা নির্বাচনে যাতে এই রাজ্য থেকে নজর কাড়া ফল করতে পারে কেন্দ্রীয় শাসক দল, সেই লক্ষ্যেই এই বদল বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলে। বঙ্গ বিজেপি সূত্রে যে খবর পাওয়া যাচ্ছে তাতে পূর্ব মেদিনীপুর থেকে ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া থেকে বীরভূম একাধিক জেলার জেলা সভাপতি পদে রদবদল করা হয়েছে বিজেপির তরফ থেকে। তমলুক, কাঁথি, ঘাটাল, ঝাড়গ্রাম, মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুর, পুরুলিয়া, আসানসোল, বর্ধমান, আসানসোল, কাটোয়া, বোলপুর, বীরভূম জেলার জেলা সভাপতি পদে দায়িত্ব গেল নতুন জেলা সভাপতিদের উপর। তমলুক জেলা বিজেপির জেলা সভাপতি হলেন তাপসী মণ্ডল, কাঁথির জেলা সভাপতি হলেন অরূপ কুমার দাস, ঘাটালের হলেন তন্ময় দাস, ঝাড়গ্রামের হলেন তুফান মাহাতো, মেদিনীপুর জেলা বিজেপির জেলা সভাপতি হলেন তাপস মিশ্র, বাঁকুড়ার হলেন সুনীল রুদ্র মণ্ডল, বিষ্ণুপুরের হলেন অমরনাথ শাখা, পুরুলিয়া জেলার হলেন বিবেক রাঙা। বর্ধমান এবং বীরভূম জেলার প্রতি বিশেষ নজর রয়েছে বিজেপির। গতবারের লোকসভা নির্বাচনে বর্ধমান জেলা থেকে ভালো ফল করেছিল বিজেপি। তবে বীরভূম জেলায় পঞ্চায়েত নির্বাচনে বাড়তি নজর থাকলেও সেরকম আশানুরূপ ফল করতে পারেননি তাঁরা। তারই জেরে এবার এই দুই জেলার জেলা সাংগঠনিক পদেও রদবদল করা হল। আসানসোল সাংগঠনিক জেলার বিজেপি জেলা সভাপতি হলেন বাপ্পাদিত্য চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান জেলার হলেন অভিজিৎ তা, কাটোয়ার জেলা সভাপতি হলেন গোপাল চট্টোপাধ্যায়, বোলপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি হলেন সন্ন্যাসী চরণ মণ্ডল, বীরভূম সাংগঠনিক জেলার সভাপতি হলেন ধ্রুব সাহা।

আগামী লোকসভা নির্বাচনে এই রাজ্য থেকে ৩৫ টি আসনের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। রাজনৈতিক অন্দরমহলের খবর, লোকসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের আরও কিছু বদল হতে পারে। এমনকি, রাজ্য সভাপতি পদেও বদলের একটি জল্পনা আছে। তবে, গত বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই রাজ্যের নিজেদের সংগঠন মজবুত করতে তৎপর বিজেপি নেতৃত্ব।

তবে বিভিন্ন জেলায় যে এই পরিবর্তন করা হল তাতে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, একাধিক সাংগঠনিক জেলায় বিজেপির সংগঠন নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ক্ষোভের কারণেই এই রদবদল করা হল। আগামী প্রায় এক বছরের মধ্যে যাতে সংগঠন মজবুত করে তৃণমূলকে একটা বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া যায় সেই কারণেই এমন এক সিদ্ধান্ত বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

sixteen + eighteen =