আদালতে ভর্ৎসিত উলুবেড়িয়ার ১ ব্লকের বিডিও, মামলা পাঠানো হল সিঙ্গল বেঞ্চে

পঞ্চায়েত নির্বাচনের মনোনয়ন পর্বের সময় উলুবেড়িয়া ১ ব্লকের বিডিও নীলাদ্রিশেখর দে-র বিরুদ্ধে মনোনয়নপত্র বিকৃত করার অভিযোগ উঠেছিল। সেই মামলার জল গড়ায় কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ অবধি। মঙ্গলবার বিডিও-র এই মামলা ফের সিঙ্গল বেঞ্চে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিল বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায়ের বেঞ্চ। কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, এই মামলায় চূড়ান্ত রায় দেবেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা।

পঞ্চায়েত নির্বাচনের মনোনয়ন পর্বে উলুবেড়িয়ার বহিরা-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের আসনে সিপিএম প্রার্থী কাশ্মীরা বেগমের মনোনয়নপত্র বিকৃত করার অভিযোগ ওঠে স্থানীয় বিডিওর বিরুদ্ধে। ওই আসনটি ওবিসি সংরক্ষিত ছিল। বিকৃতির অভিযোগ পাওয়ার পরও এসডিও কোনও ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ ওঠে। একইসঙ্গে প্রশ্ন ওঠে অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতরের এক আধিকারিকের ভূমিকা নিয়েও। এই নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন সিপিএম প্রার্থী। এরপরই বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলায় অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি দেবীপ্রসাদ দে’র নেতৃত্বে অনুসন্ধান কমিটি তৈরি করে দেয়, এবং পুলিশকে সহযোগিতার নির্দেশ দেয়।

সম্প্রতি আদালতে অনুসন্ধান রিপোর্ট জমা দেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি দেবীপ্রসাদ দে। সেখানে বিডিও, এসডিও ও অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতরের ওই আধিকারিককে সাসপেন্ডের সুপারশি করা হয়। সেই সুপারিশকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হন উলুবেড়িয়া ১ ব্লকের বিডিও নীলাদ্রিশেখর দে। সেই মামলার শুনানিতে এদিন ভর্ৎসনার মুখে পড়েন ওই বিডিও। বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায়ের বিডিও-র কাছে জানতে চান,  ‘সংবিধান আপনাকে বিশ্বাস করে দায়িত্ব দিয়েছিল। আপনি সেটা পালন করেননি। আপনি শপথ নিয়েছিলেন। সেটা রক্ষা করার কর্তব্য নয় আপনার? আপনার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে।’

মামলাকারীর আইনজীবী বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য এদিন আদালতে বলেন, ‘বিডিও উলুবেড়িয়া ১-র বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল। অভিযোগ কাশ্মীরার ব্যালট পেপার ষড়যন্ত্র করে বদলে ফেলা হয়েছে। এদিকে তিনি স্ক্রুটিনিতেও অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়াও কমিশনের উপর তদন্তের নির্দেশ ছিল। শুধু রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে সাসপেন্ড করার কথা বলা হচ্ছে। তাঁর কথা শোনা হয়নি। আপাতত একটা রক্ষাকবচ দেওয়া হোক। নইলে চাকরির উপর ছেদ পড়তে পারে।’

শুনানির পর বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘ডিভিশন বেঞ্চ অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি দেবীপ্রসাদ দে-কে নিয়ে যে কমিশন তৈরি করেছিল, তারাই এই রিপোর্ট দিয়েছেন। সেই রিপোর্টকে কেউ চ্যালেঞ্জ করেনি। আদালত নিজে গিয়ে তদন্ত করেনা। তাই এই কমিটি বা কমিশন গঠন করা হয়। তার রিপোর্টের উপরই আমরা ভরসা করব। আবার সিঙ্গল বেঞ্চে এই মামলা পাঠাব আমরা। আমরা আপাতত একক বেঞ্চের রায়ে কোনও হস্তক্ষেপ করব না। ‘

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

20 − 12 =