বামেদের মামলা খারিজ হল ডিভিশন বেঞ্চে, অস্বস্তিতে বাম-আইএসএফ

আদালতে বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্য়োপাধ্যায়ের বেঞ্চে বড় ধাক্কা খেল আইএসএফ এবং সিপিএম। সিপিএমের মামলায় বিচারপতি অমৃতা সিনহার রায় খারিজ করল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। সোমবার বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় খারিজ করে।

ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির দলের ৮২ জন প্রার্থী কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। এর পাশাপাশি ১৯ জন বামপ্রার্থীও আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তাঁরা জানিয়েছিলেন, স্ক্রুটিনি শেষ হওয়ার পর রাজ্য নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে রাতারাতি তাঁদের নাম উধাও হয়ে গিয়েছে। শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশনকে ৮২ জন আইএসএফ ও ১৯ জন সিপিএম প্রার্থীর মনোনয়ন খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। সব ঠিক থাকলে এই এই প্রার্থীদের ভোটে লড়তে দেওয়ার নির্দেশ দেয় সিঙ্গল বেঞ্চ। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে গিয়েছিল রাজ্য। সরকারের আবেদন নিয়ে এদিন আদালতে শুনানি ছিল। শুনানির পর ১৯ জন সিপিএম প্রার্থীকে নিয়ে সিঙ্গল বেঞ্চের রায় খারিজ করল ডিভিশন বেঞ্চ।পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে আদালতের এই রায় বামেদের জন্য বড় ধাক্কা বলে ধারনা বঙ্গ রাজনৈতিক মহলের। এই রায় নিয়ে সিপিএম এখন উচ্চতর আদালতে যাবে কি না সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক সব পক্ষই।

প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে নাম উধাওয়ের অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হন ভাঙড় ২ ব্লকের ৮২ জন আইএসএফ প্রার্থী। তাঁদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে বলে জানায় কমিশন। ২২ জুন কলকাতা হাইকোর্টে সেই মামলার শুনানি ছিল। মামলাকারীদের এই বক্তব্য শুনে রীতিমতো বিস্মিত হন বিচারপতি। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে এই সব কী হচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছি না।’ ওই আসনগুলিতে শাসকদল জিতে গিয়েছে শুনে বিম্ময় প্রকাশ করে বিচারপতি সিনহাকে এ প্রশ্নও করতে দেখা গিয়েছিল, ‘ভোট হল না, আপনার জিতেও গেলেন! কি হচ্ছে এগুলো?’

অন্যদিকে উলুবেড়িয়া ১ ব্লকের বিডিও নীলাদ্রি শেখর দে-র বিরুদ্ধে নথি বিকৃতির অভিযোগ তুলে আদালতে দ্বারস্থ হন সিপিএম প্রার্থী কাশ্মীরা বেগম ও তনিমা বেগম। তাঁদের জাতিগত শংসাপত্রের নথি বিকৃতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। বিচারপতি অমৃতা সিনহার সিঙ্গল বেঞ্চ এই ঘটনায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয়। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় রাজ্য সরকার। বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ সিবিআই তদন্তের নির্দেশকে খারজি করে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নজরদারি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five × 1 =