হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, সন্ধেয় করে দেখালেন শুভেন্দু , কমিশনের দরজায় লাগালেন তালা

দুপুরেই হুশিয়ারি দিয়েছিলেন, সন্ধ্যায় তা বাস্তাবয়িত করে দেখালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পঞ্চায়েত ভোটে হিংসার প্রতিবাদে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের অফিসে এসে তালা লাগিয়ে দিলেন বিধানসভার শুভেন্দু। সূত্রে খবর, শনিবার সন্ধ্যায় বিজেপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের অফিসে যান শুভেন্দু। তখন তাঁর হাতে লাগানো ছিল কালো ব্যান্ড। ছিলেন বিজেপির অন্যান্য নেতারাও। প্রসঙ্গত, এই অফিসেই বসেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা। যে অফিস থেকে পঞ্চায়েত নির্বাচন পরিচালিত হয় বিজেপি নেতা সেখানেই ঝোলালেন তালা। এরপৎই শুভেন্দু জানান, ‘গোটা পশ্চিমবঙ্গের অধিকাংশ মানুষ আজ ভোট দিতে পারেননি। এই ভোটগুলো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যবস্থাপনায় রাজীব সিনহার উদ্যোগে লুঠ হয়ে গিয়েছে। আমার এই নিয়ে চারবার আসা হল। আমাদের ইলেকশন কোঅর্ডিনেটর শিশির বাজোরিয়ার ১০ বার আসা হল। বারেবারে প্রতিবাদ করেছেন সবাই। এই নির্বাচনের যে সমস্ত ত্রুটি বিচ্যুতি আছে, তা দেখিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব এ রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টির। তাই আমরা সারাদিন মাঠে ময়দানে লড়াই করেছি।’

এদিকে এদিন সকালে পঞ্চায়েত নির্বাচনের সকালেই শনিবার নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের ৭৭ নম্বর বুথের নন্দনায়কবাড় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দিতে আসেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহাকেও তোপ দাগেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী একটি টুইটে লেখেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ে ভাড়াটে খুনি রাজীব সিনহা তাঁর পরিকল্পনা কার্যকর করছে রাজ্যজুড়ে। এটাই তাঁদের গণতন্ত্রের মডেল।’ এরপর তিনি টোটোয় চড়ে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছনোর পর লাইনে দাঁড়ান অন্যান্য ভোটারদের মতোই।

এদিকে ততক্ষণে সামনে আসতে থাকে রক্তাক্ত পঞ্চায়েত নির্বাচনের ছবি। শুধুই রক্ত, বোমা, কার্তুজ আর সামনে আসে পড়ে থাকা নিথর দেহের ছবি। এদিকে  সঙ্গে অবাধে চলছে ছাপ্পা। ভোট শুরু হওয়ার ৫-৬ ঘণ্টার মধ্যেই একাধিক মৃত্যুর খবর সামনে আসে। এরপরই রাজ্য নির্বাচন কমিশনারকে ফোন করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। স্পষ্ট ভাষায় জানতে চান, ‘আর কত রক্ত চাই আপনার?’ প্রয়োজন হলে কমিশনে যাবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু এও জানান, ’আমি ওঁকে ফেসটাইমে ফোন করেছিলাম। প্রথমে বলেছি, আর কত রক্ত চাই আপনার? তারপর বলেছি, সন্ধ্যা ৬টার পর আমি যাচ্ছি আপনার কার্যালয়ে তালা ঝোলাতে। পুলিশকে বলে রাখবেন।’ অর্থাৎ কমিশনারকে কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘আপনি যত বেআইনি সম্পত্তি করেছেন, তার সব প্রমাণ আমার কাছে আছে। রাজারহাটে কত জমি কিনেছেন, সব জানি।’ এরপর স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে শুভেন্দু কি সত্যি কমিশনে যাচ্ছেন কি না তা নিয়ে। এই প্রশ্নের উত্তরে নন্দীগ্রামের বিধায়ক জানান, ‘আগে লুঠ হওয়া বুথগুলো থেকে বাক্সগুলো পুকুরে ফেলি, তারপর যাব।’ সঙ্গে এও প্রশ্ন তোলেন, ‘এই দিন দেখার জন্য কি স্বাধীনতা এসেছিল? নিজের ভোটটাও কি নিজে দিতে পারব না?’

তবে এদিনের একের পর এক হিংসার ঘটনা, সঙ্গে ভোট লুঠের মতো ঘটনা থেকে বাঁচতে শুভেন্দুর দলীয় নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে নিদান, ‘পরিত্রাণ পেতে দুটি-ই সমাধান, সবাই মিলে কালীঘাট চলো। ইট ছাড়িয়ে নেব। প্রয়োজনে গুলি চললে চলুক। ১০ জন মরবে। আমিই থাকব সামনের সারিতে। দশ কোটি লোক তো বেঁচে যাবে। আর দ্বিতীয় সমাধান ৩৫৬। রাজ্যপাল বা কেন্দ্রীয় সরকার নিচ্ছেন না কেন পদক্ষেপ, জানি না। অবিলম্বে ৩৫৬ জারি করা উচিত। অন্তত এই সময় ৩৫৫ জারি করে নির্বাচন করা উচিত। আমি আমার কথা বলব, দিল্লির কে কি মনে করল আমার কিছু যায় আসে না। আমি ব্যক্তিগত উন্নতির জন্য তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিইনি। আমি একটা কারণে এখানে এসেছি। বাংলাকে পরিত্রাণ দেওয়াই আমার উদ্দেশ্য।’ এরপর নির্বাচনের একেবারে শেষ লগ্নে এক বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন শুভেন্দু। এবারের পঞ্চায়েত নির্বাচনে পলাশীর যুদ্ধের মতো ‘হ্যান্ড কামান’ ব্যবহৃত হয়েছে। এত অস্ত্র এবারের নির্বাচনে কোথা থেকে এল তা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে দেখা গেছে রাজ্যের বিরোধী দলনেতাকে। আর এই ঘটনায় তিনি এনআইএ তদন্তের দাবিও জানান। এরই পাশাপাশি ভোট সম্পন্ন করতে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশও মানা হয়নি বলে অভিযোগ করেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘রাজ্যপাল এবং কেন্দ্রীয় সরকার ভাবছেন কি না জানি না, এই রাজ্যে ৩৫৬ অথবা নির্বাচনের সময়ে ৩৫৫ জারি করে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ না করতে পারলে পশ্চিমবঙ্গে কোনও ভোট হতে পারে না। ভোট শান্তিপূর্ণ করতে কলকাতা হাইকোর্ট যা নির্দেশ দিয়েছিল, তা-ও মানা হয়নি।’ এরই পাশাপাশি শুভেন্দু নিহত ও আহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও জানান। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর ফান্ড থেকে নিহতদের ৫০ লক্ষ টাকা , আহত ১০ লক্ষ টাকা দিতে হবে। সঙ্গে যে সব জায়গায় ছাপ্পা ভোট, ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে সেই সব বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবিও জানান শুভেন্দু। এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু এও বলেন, ‘রাজীব সিনহাকে বলছি, যেখানে ছাপ্পা হয়েছে, বাক্স ফেলে দেওয়া উচিত। রিপোল হবে।‘

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four × two =