পঞ্চায়েত বোর্ড গঠন ঘিরে উত্তপ্ত ফুরফুরা শরিফ

পঞ্চায়েত বোর্ড গঠন ঘিরে উত্তপ্ত ফুরফুরা শরিফ। বলা ভাল,ফুরফুরাতে বৃহস্পতিবারে এক খণ্ডযুদ্ধের বাতাবরণ তৈরি হয়। এদিকে সূত্রে এ খবরও মেলে ফুরফুরা শরিফে পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠনের এই অশান্তির মাঝে ঢিল পড়ে নওশাদ সিদ্দিকির বাড়িতে। ফলে সমগ্র ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন  নওশাদ। এই ঘটনার জেরে পুলিশের সঙ্গে তর্কেও জড়াতে দেখা যায় নওশাদকে। শুধু তাই নয়, ক্ষুব্ধ নওশাদের মুখে চলে আসে ফুরফুরা শরিফের অন্যতম রাজনৈতিক চরিত্র এবং শাসকদলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত ত্বহা সিদ্দিকির নামও। তবে এদিন নওশাদ স্পষ্ট জানিয়ে দেন,’ত্বহা সিদ্দিকির সঙ্গে আলোচনা করে কোনও লাভ হবে না।’আর এখানেই স্পষ্ট হয়, ফুরফুরা শরিফের পীরজাদাদের মধ্যেও রয়েছে এক ভয়ঙ্কর বিভেদ।
এদিকে বৃহস্পতিবারের ঘটনা সম্পর্কে নওশাদ জানান,’বৃহস্পতিবার এখানে ফুরফুরায় পঞ্চায়েত বোর্ড গঠনের দিন ধার্য ছিল। আর সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই যত ঝামেলা। এটা আমার ভাবার বিষয় নয়। কিন্তু আমার বাড়ির ভিতরেই সেল ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি পারিবারিক কাজে বেরিয়ে যাচ্ছিলাম। আমি খবর পেয়ে এসে দেখলাম, আমার বাড়িতে সেল ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমার বাড়ির কাচ ভেঙেছে।’কেন এমন ঘটনা তা নিয়ে নওশাদ অ্যাডিশনাল এসপি-কে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরও কোনও সদুত্তর মেলেনি বলেই জানান তিনি।  এরপর নওশাদ বসেন ধরনায়। পাশাপাশি নওশাদ এও জানান,পুলিশ মারধর করতে থাকলে তিনি শান্ত পরিবেশকে উত্তপ্ত না করার পরামর্শই দেন পুলিশকে। এদিকে তিনি একা ধরনায় বসায় ধরনা তুলেও নেন তিনি। এদিকে নওশাদ এ অভিযোগও করেন যে ফুরফুরা শরিফের অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব পীর সাহেবদের ওপরেও হামলা চলেছে।
এই প্রসঙ্গে নওশাদ এও জানান, ‘ওরা পীর সাহেবদের দরবারে ঢুকে যাচ্ছিল। সিনিয়র মোস্ট পীর সাহেবের দরবারে ঢুকে যায়। তাঁদেরকে মারধরও করেছে। আমিও ফুরফুরা শরিফের একজন পীরজাদা। কিন্তু আমি তো পীর সাহেবদের ওপরে কথা বলতে পারিনা।’ তখনই তিনি বলেন,’আমি পুলিশ কর্তাদের অনুরোধ করেছি, আপনাদের সিনিয়র যাঁরা আছেন,তাঁরা পীর সাহেবদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা মিটিয়ে নিন।’ একইসঙ্গে হুঁশিয়ারির সুরে জানান,’এটাও বলে রাখছি,ত্বহা সিদ্দিকির সঙ্গে কথা বলে কিছু হবে না। পীর সাহেবদের ওপর যে আক্রমণ হয়েছে, তার বিচার করতে হবে। দরকার হলে আমি আইনি লড়াই লড়ে নেব পুলিশের সঙ্গে। পীর সাহেবরা রাজনীতি থেকে দূরে থাকেন, তাঁদের ওপর আক্রমণ হয়েছে।’
এই প্রসঙ্গে বলে রাখা শ্রেয়, পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকিকে একসময় বাংলার মানুষ শাসকঘনিষ্ঠ হিসাবেই চিনত। কিন্তু তিনি সুর পাল্টেছিলেন সাগরদিঘি উপনির্বাচনের সময় থেকেই। উপনির্বাচনের সময়ে তৃণমূলের প্রার্থী বাছাই নিয়ে সুর চড়িয়েছিলেন তিনি। আবার ত্বহা সিদ্দিকিকে যখন শাসকদলের ওপর ভরসা রাখতে দেখা গিয়েছে,তখন সুর চড়াতে দেখা গিয়েছে নওশাদ কিংবা আব্বাসকেও। এই দূরত্ব ‘আইএসএফ’-এর আত্মপ্রকাশের আগে থেকেই। ফুরফুরা শরিফের বোর্ড গঠনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক তরজা সামনে চলে এল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

7 − 7 =