বন্ধুত্ব পাতিয়ে সহবাসের পর বিভিন্ন নথি নিয়ে আর্থিক প্রতারণার দায়ে গ্রেফতার যুবক

বেশ পরিকল্পনা করে প্রতারণার ছক। প্রথমে বন্ধুত্ব পাতিয়ে তারপর সহবাস। এরপর ওই সমস্ত মহিলাদের আস্থা অর্জন করে তাঁদেরই ডকুমেট নিয়ে ইএমআইতে বিভিন্ন জিনিস কেনা। এমকী ব্যাঙ্ক থেকে লোনও নেওয়া, এমনই অভিযোগ উঠেছে অভিযোগ ওঠে এক প্রতারকের বিরুদ্ধে।

নিউটাউন থানা সূত্রে খবর, গত ২০ মার্চ  এক মহিলা এমনই প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি জানান, কর্মক্ষেত্রে এক ব্যক্তির সাথে তার পরিচয় হয়। এরপর সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ট হয়। তখন সেই মহিলাকে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর কাছ থেকে আধার কার্ড, প্যান কার্ড সহ বিভিন্ন নথি নিয়ে তার নামে ইএমআই- তে তাঁর অজান্তে বিভিন্ন জিনিস কেনেন ওই প্রতারক। শুধু তাই নয় ওই তরুণীর নামে লোনও নেওয়া হয়েছে ব্যাঙ্ক থেকে।

এরপর পুলিশ এই ঘটনার তদন্তে নামে। অভিযোগ পেয়ে নিউটাউন থানার পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পারে অভিযুক্ত হুগলির উত্তরপাড়ার বাসিন্দা। নাম মিলন নাদকর। এরপর পুলিশ তাঁর খোঁজ শুরু করতেই পুলিশ জানতে পারে এমন একটা ঘটনা নয়, একাধিক ঘটনা ঘটিয়েছেন ওই অভিযুক্ত। এরপর থেকে পালিয়েও বেড়াচ্ছে সে। এরপরেই পুলিশ আরও খোঁজখবর নিতে শুরু করলে জানা যায়, গোয়াতে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে অভিযুক্ত মিলন। সেই খবরের সূত্র ধরে নিউটাউন থানার পুলিশ গোয়াতে হানা দেয়। সেখান থেকে অভিযুক্ত মিলন নাদকারকে গ্রেফতার করে ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়ে আসা হয় কলকাতায়।

এরপর নিউটাউন থানার পুলিশ অভিযুক্ত মিলন নাদকার-কে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারে, সোশ্যাল সাইটে গিয়ে বিভিন্ন মহিলা ও তরুণীদের সাথে বন্ধুত্ব করে এবং বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের সঙ্গে সহবাস করে। তাঁদের বিশ্বাসও অর্জন করে। সেই বিশ্বাসের জায়গা থেকে সেই মহিলা ও তরুণীদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে প্যান কার্ড আধার কার্ড সহ বিভিন্ন নথি নিয়ে নেয়। সেই নথি দিয়ে বিভিন্ন শপিং মল থেকে ইএমআই এর মাধ্যমে দামি জিনিসপত্র কিনত সেইসব তরুণী ও মহিলাদের অজান্তে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থা থেকে লোন ও নেওয়া হতো। এরপরই যখনই সেই সমস্ত মহিলা বা তরুণীদের একাউন্ট থেকে টাকা কাটতে থাকে তখনই তারা জানতে পারে যে তারা কোনভাবে প্রতারিত হয়েছে। পুলিশি জিজ্ঞাসা বাদে এখনও পর্যন্ত প্রায় লক্ষাধিক টাকার প্রতারণার হিসেব পাওয়া গেছে এই অভিযুক্তের কাছ থেকে এমনটাই পুলিশ সূত্রে খবর ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

12 + 14 =