বর্তমান সময়ে প্রতারণা আগের তুলনায় অনেক দ্রুত, সস্তা এবং সহজ হয়ে উঠেছে। একদিকে সংগঠিত প্রতারণা চক্র, অন্যদিকে জেনারেটিভ এআই-এর মতো নতুন প্রযুক্তি এই প্রবণতাকে আরও জটিল করে তুলছে। এক্সপেরিয়ানের সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, প্রতারণা প্রতিরোধে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির সক্ষমতা প্রতারণার গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না।
এক্সপেরিয়ান রিপোর্টে এও ধরা পড়েছে, ভারতের প্রায় ৬৯% প্রতিষ্ঠান মনে করছে তাদের বর্তমান প্রযুক্তি দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রতারণার কৌশল সামলাতে যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। পরিচয় যাচাই এখন প্রতারণার প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। আর্থিক পরিষেবা ও টেলিকম খাতে পরিচয় চুরি ও সামাজিক প্রভাব বিস্তারমূলক প্রতারণা বাড়ছে। ই-কমার্সে রিফান্ড অপব্যবহার ও “ফ্রেন্ডলি ফ্রড” ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সঙ্গে রিপোর্টে এও জানা যাচ্ছে, চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানগুলি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে আগ্রহী। প্রায় ৮৩% প্রতিষ্ঠান আচরণ পর্যবেক্ষণ ও ডিভাইস ইন্টেলিজেন্সের মতো সহজ প্রতারণা শনাক্তকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করতে চায়। ৬৪% প্রতিষ্ঠান প্রতারণা শনাক্তকরণকে ক্রেডিট রিস্ক সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে।
পাশাপাশি এও জানানো হয়েছে, মেশিন লার্নিং প্রতারণা মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠছে। ৫৪% প্রতিষ্ঠান এর মাধ্যমে বেশি নির্ভুলতা পেয়েছে এবং ৬৫% প্রতিষ্ঠান বলছে এটি ম্যানুয়াল চেকের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণে সাহায্য করে। অনেকেই মনে করছে মেশিন লার্নিং এমন প্রতারণা শনাক্ত করতে পারে যা সাধারণ নিয়মভিত্তিক সিস্টেমে ধরা পড়ে না। তবে দক্ষ জনবল ঘাটতি একটি বড় সমস্যা—৭৬% প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে তারা পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞের অভাবে ভুগছে। তবুও ৭৪% প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে মেশিন লার্নিং সমাধান ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে।
এই প্রসঙ্গে বলে রাখা শ্রেয়, প্রতারণার সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে জেনারেটিভ এআইকে চিহ্নিত করেছে প্রায় ৬৫% প্রতিষ্ঠান। ভুয়া নথি ও পরিচয়পত্র তৈরি করে KYC ও পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়াকে অকার্যকর করে তোলা হচ্ছে। প্রায় ৭৪% প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই এ ধরনের প্রতারণার বৃদ্ধি লক্ষ্য করেছে। তবে অনেক সময় নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন হয়ে পড়ে যে কোনো প্রতারণায় জেনারেটিভ এআই ব্যবহৃত হয়েছে কিনা।
এদিকে অর্থনৈতিক পরিবর্তন, সংগঠিত প্রতারণা চক্র এবং জেনারেটিভ এআই-এর দ্রুত বিস্তার প্রতারণাকে নতুন পর্যায়ে নিয়ে গেছে। ভারতের মতো দ্রুত ডিজিটাল বৃদ্ধি পাওয়া দেশে এর প্রভাব আরও গুরুতর। তাই ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলিকে দ্রুত সিস্টেম আপগ্রেড করতে হবে। মেশিন লার্নিং, ডিভাইস ইন্টেলিজেন্স ও শেয়ারড ডেটা নেটওয়ার্ক ব্যবহার অপরিহার্য।
আর সেই কারণে মনে রাখতে হবে, প্রতারণা সর্বদা পরিবর্তনশীল এবং ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। পুরনো ম্যানুয়াল পদ্ধতি আর যথেষ্ট নয়। নতুন প্রযুক্তি, সহযোগিতা এবং তথ্য ভাগাভাগি ছাড়া প্রতারণা মোকাবিলা সম্ভব নয়। গ্রাহক আস্থা বজায় রাখা ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতির টেকসই বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য।

