১৫ বছর পূর্ণ করার সঙ্গে মুথূট ফাইন্যান্সের মার্কেট ক্যাপ পৌঁছাল ভারতীয় মুদ্রায় ৬০ বিলিয়ন থেকে ১.৫ ট্রিলিয়নে 

ভারতের সবচেয়ে বড় স্বর্ণঋণ এনবিএফসি, মুথূট ফাইন্যান্স লিমিটেড পৌঁছাল এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকে। ভারতীয় স্টক এক্সচেঞ্জে লিস্টেড হওয়ার ১৫ বছর পূর্ণ করল তারা। আর এরই মধ্যে দিয়ে কেরালায় পারিবারিক ব্যবসা হিসাবে উৎপত্তি থেকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান এবং ভারতীয় পরিবারগুলোর বিশ্বস্ত নাম হয়ে ওঠার অসামান্য যাত্রার প্রতিফলনও ঘটাল মুথূট ফাইন্যান্স।

এই প্রসঙ্গে বলে রাখা শ্রেয়, ২০১১ সালে লিস্টিং হওয়ার পর থেকে মুথূট ফাইন্যান্স ধারাবাহিক বৃদ্ধি, অপারেশনাল দৃঢ়তা এবং জোরালো আর্থিক পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। কোম্পানির মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন ২০১১ সালে প্রায় ভারতীয় মুদ্রায় ৬০ বিলিয়ন টাকা সম্প্রতি ১.৫ ট্রিলিয়ন টাকায় পৌঁছেছে, যা প্রায় ২৫ গুণ বৃদ্ধি। এই অত্যাশ্চর্য অর্জন জনতার আত্মবিশ্বাসের সরাসরি ফল, যা প্রতিফলিত হয়েছে TRA ব্র্যান্ড ট্রাস্ট রিপোর্ট অনুযায়ী ভারতের ১ নম্বর সবচেয়ে বিশ্বস্ত আর্থিক পরিষেবা ব্র্যান্ড হিসাবে পরপর ১০ বছর স্বীকৃতি পাওয়ার পর। কেবল গত পাঁচ বছরেই কোম্পানির স্টকের দাম দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে, যা লগ্নিকারীদের আত্মবিশ্বাস এবং সুস্থায়ী বৃদ্ধি গতিপথকে চিহ্নিত করে।

এই পর্বে মুথূট ফাইন্যান্স তার অপারেশনাল স্কেল তাৎপর্যপূর্ণভাবে বিস্তৃত করেছে। কোম্পানি বাড়িতে থাকা সোনার দাম বাড়াতে এবং তার উৎপাদনমূলক অর্থনৈতিক ব্যবহার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে, প্রতিদিন ভারত জুড়ে ২.৫ লক্ষের বেশি ক্রেতাকে পরিষেবা দিচ্ছে। সব মিলিয়ে গ্রুপের শাখা নেটওয়ার্ক ৭,৫০০+ শাখায় ছড়িয়ে পড়েছে, যার ৭০% আধা-শহর ও গ্রামীণ এলাকায় রয়েছে। এটা আর্থিক অন্তর্ভুক্তির প্রতি গ্রুপের দায়বদ্ধতা আরও একবার প্রমাণ করল। আওতা এতদূর গভীর হতে পেরেছে আর্থিক মাইলফলকের জোরালো কনসলিডেশনের ফলে। সঙ্গে আছে কনসলিডেটেড ঋণ অ্যাসেটস আন্ডার ম্যানেজমেন্ট, যা ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫ তারিখে সর্বকালের সর্বোচ্চ উচ্চতায় ( ভারতীয় মুদ্রায় ১.৬ লক্ষ কোটি) পৌঁছতে পেরেছে। স্বর্ণঋণের অপারেশন নিশ্চিত হয়েছে অত্যাধুনিক ৭-স্তরীয় নিরাপত্তা ও সুরক্ষা পরিকাঠামো দ্বারা, যার ফলে গত ছয় বছরে একটাও চুরির প্রয়াস সফল হয়নি।

এই মাইলফলক সম্পর্কে মুথূট ফাইন্যান্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান জর্জ জ্যাকব জানান “আমাদের যাত্রা বিশ্বাস, সততা ও ক্রেতাকেন্দ্রিকতার মৌলিক মূল্যবোধের দ্বারা চালিত হয়েছে। এই মাইলফলক কেবল নম্বরের ব্যাপার নয়। আমরা যে প্রভাব ফেলতে পেরেছি, ক্রেডিটে মানুষকে নাগাল দিতে পেরেছি, পরিবারগুলোর ক্ষমতায়ন করতে পেরেছি এবং বিশ্বস্ততা ও শাসনের সর্বোচ্চ মাপকাঠি তৈরি করতে পেরেছি— এটা তারই ফলাফল। আগামীদিনে আমরা ক্রেতা পরিষেবা, উদ্ভাবন ও সততার উপর নজর রেখে তৈরি এই মজবুত ভিতের উপর আরও ইমারত গড়তে থাকব।”

একইসঙ্গে মুথূট ফাইন্যান্স লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জর্জ আলেকজান্ডার মুথূট জানান, “ ভারতীয় মুদ্রায় ১.৫ ট্রিলিয়ন টাকার মার্কেট ক্যাপ কেবল একটা আর্থিক অর্জন নয়; গত ১৫ বছর ধরে ভারতীয় পরিবারগুলো এবং লগ্নিকারীরা আমাদের উপর যে বিশ্বাস রেখেছেন এটা হল তার এক পরিমাপযোগ্য অনুমোদন। আমরা সংগঠিত স্বর্ণঋণ শিল্পের পথপ্রদর্শক এবং আমাদের পরিবারগুলোর আর্থিক প্রয়োজনের গভীর বোঝাপড়া আমাদের চালিকাশক্তি। আমরা বৃদ্ধির গতি বাড়িয়ে এবং আমাদের অংশীদারদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি মূল্য সৃষ্টি করে এই উত্তরাধিকার আরও বাড়াতে চাইছি।”

মুথূট ফাইন্যান্সের প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি আরও জোরদার হয় তার পরিচিতির মধ্য দিয়ে। তথ্য বলছে, এই কোম্পানির তিন লাখের বেশি শেয়ারহোল্ডার আছে এবং ২০১২ সাল থেকে প্রতি বছর লভ্যাংশ দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া আপার লেয়ার এনবিএফসি শ্রেণিভুক্ত করেছে, যা এনএসই-র NIFTY Next 50-তে আছে। কোম্পানি গর্বিত যে মুথূট ফাইন্যান্স কেরালার প্রথম লিস্টেড কোম্পানি যা ভারতীয় মুদ্রায় ১ লক্ষ কোটি মার্কেট ক্যাপ ছাড়িয়ে গেল। উপরন্তু কোম্পানিকে পরপর পাঁচ বছর “গ্রেট প্লেস টু ওয়ার্ক” হওয়ার সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে।

এই মজবুত ভিতের উপর দাঁড়িয়ে মুথূট গ্রুপ ক্রমশ এমন এক ডাইভার্সিফায়েড আর্থিক পরিষেবা কনগ্লোমারেট হয়ে উঠছে, যা নিজের উপস্থিতি ছড়িয়ে দিচ্ছে একাধিক ঋণগ্রহণ ও আর্থিক পরিষেবা সেগমেন্টে। এই কৌশলগত ডাইভার্সিফিকেশন দীর্ঘমেয়াদি, সুস্থায়ী বৃদ্ধি নিশ্চিত করার পাশাপাশি, একটা সার্বিক আর্থিক ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার যে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য গ্রুপের রয়েছে তার প্রতিফলন। সুস্থায়িতার প্রতি এই দায়বদ্ধতার মধ্যে আছে বিস্তৃত CSR ISR উদ্যোগ। সেসবে ভারতীয় মুদ্রায় ৫০০ কোটি টাকার বেশি ব্যয় করা হয়েছে ২০১৪ সাল থেকে, যা ভারত জুড়ে ৫ মিলিয়নের বেশি জীবনের উপর প্রভাব ফেলেছে। মুথূট ফাইন্যান্সের বৃদ্ধির মূলে আছে তার ক্রেতাকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং বাজারের বদলাতে থাকা গতিপথের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা। ফলে যাবতীয় অর্থনৈতিক চক্রে দৃঢ় থাকতে পারে। কোম্পানি বৃদ্ধির পরবর্তী পর্যায়ে প্রবেশ করছে। এই অবস্থায় ক্রেডিটের নাগাল আরও ছড়ানো, প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো এবং স্বর্ণঋণের সেগমেন্টের নেতৃত্ব আরও জোরদার করার দিকে নজর দেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

19 − 18 =