এআই চালিত জালিয়াতি প্রতিরোধ এবং রিয়েল-টাইম কাস্টমার কন্ট্রোলের মাধ্যমে ‘নিরাপদ ব্যাংকিং’ ব্যবস্থা আরও জোরদার করলো অ্যাক্সিস ব্যাংক

• অর্থবর্ষ ২৫-এর তুলনায় অর্থবর্ষ ২৬-এ খুচরো মোবাইল ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ব্যাংকিং এবং শপিং মলে জালিয়াতির ঘটনা প্রায় ৪০% কমেছে।

• অর্থবর্ষ ২৫-এর তুলনায় অর্থবর্ষ ২৬-এ এআই-চালিত পর্যবেক্ষণ ও ঝুঁকি-ভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে ডিজিটাল জালিয়াতি প্রতিরোধ ৪.৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

• গ্রাহকদের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা সচেতনতার প্রমাণ হিসেবে ব্যাংকের ‘সেফটি সেন্টার’-এ প্রতি মাসে প্রায় ৫৭,০০০ কথোপকথন

• গ্রাহক-নিয়ন্ত্রিত নিরাপত্তা ফিচার যেখানে নিরাপত্তার নিয়ন্ত্রণ সরাসরি ব্যবহারকারীদের হাতে রাখা হয়েছে

• অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা স্থানান্তরিত বা মুভ হওয়ার আগেই যেকোনো সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত করে তা তাৎক্ষণিকভাবে  ব্লক করে দেওয়া হচ্ছে।

• সেফ ব্যাংকিং অনুশীলনের প্রচার বাড়াতে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে ১,০০০-এরও বেশি শাখা-ভিত্তিক আর্থিক সাক্ষরতা ক্যাম্প পরিচালনা করা হয়েছে।

• ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত সরকারি বায়োমেট্রিক ফেস অথেন্টিকেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে ৩,৫০০-রও বেশি সুরক্ষিত মোবাইল ব্যাংকিং রেজিস্ট্রেশন নথিভুক্ত হয়েছে।

ভারতের অন্যতম বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাংক অ্যাক্সিস ব্যাংক কলকাতায় আয়োজিত একটি মিডিয়া রাউন্ডটেবিল বৈঠকে দেশজুড়ে তাদের ‘সেফ ব্যাংকিং’ কৌশলের শক্তি ও কার্যকারিতা তুলে ধরল। ক্রমাগত বাড়তে থাকা ডিজিটাল ঝুঁকি ও প্রতারণার হাত থেকে গ্রাহকদের সুরক্ষিত রাখতে ব্যাংকটি একটি সমন্বিত মডেলের কথা জানায়, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-নির্ভর জালিয়াতি শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, রিয়েল-টাইম কাস্টমার কন্ট্রোল এবং শাখার দূরদর্শী নেটওয়ার্ককে একত্রিত করে কাজ করে।

এই মিডিয়া রাউন্ডটেবিলে অ্যাক্সিস ব্যাংকের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন, যাঁদের মধ্যে অন্যতম—সমীর শেট্টি, গ্রুপ হেড – ডিজিটাল বিজনেস, ট্রান্সফরমেশন অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক প্রোগ্রামস; রেনল্ড ডি’সুজা, গ্রুপ হেড – ব্রাঞ্চ ব্যাংকিং, নর্থ অ্যান্ড টিএএসসি বিজনেস; এবং গৌরব গুপ্ত, গ্রুপ হেড – ফিনান্সিয়াল ক্রাইম ইন্টেলিজেন্স। তাঁরা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেন যে, কীভাবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং অ্যাসিস্টেড ব্যাংকিং-উভয় ক্ষেত্রেই ‘সেফ ব্যাংকিং’ প্রক্রিয়াকে গভীরভাবে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে, যা গ্রাহকদের আরও বেশি আত্মবিশ্বাস ও নিয়ন্ত্রণের সাথে ব্যাংকিং করতে সাহায্য করবে।

সেফ ব্যাংকিং : জালিয়াতি শনাক্তকরণের গণ্ডি পেরিয়ে প্রতিরোধের দিকে অগ্রসর হওয়া

ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ করার লক্ষ্যে অ্যাক্সিস ব্যাংক জালিয়াতির কৌশলে আসা ক্রমাগত পরিবর্তনগুলোর ওপর গভীর নজর রাখছে। ব্যাঙ্কের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রতারকেরা এখন ক্রমশ গ্রাহকদের আচরণ ও মানসিক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করে কাজ করছে- যেমন জরুরি অবস্থা তৈরি করা, বিশ্বাস অর্জন এবং ভয়ের মতো বিষয়গুলোকে কাজে লাগিয়ে তাঁদের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করছে। বর্তমানে যে নতুন ধরনের ডিজিটাল প্রতারণার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা, ভুয়ো বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম, ক্ষতিকর অ্যাপ্লিকেশন এবং কিউআর কোডের অপব্যবহার। এসব প্রবণতা ডিজিটাল জালিয়াতির কৌশল যে ক্রমশ আরও জটিল ও পরিশীলিত হয়ে উঠছে, তারই প্রতিফলন।

এই পরিস্থিতিতে, অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কের ফিনান্সিয়াল ক্রাইম ইন্টেলিজেন্স বিভাগ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-নির্ভর আর্লি-ওয়ার্নিং সিস্টেম ব্যবহার করছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে লেনদেন, লগ-ইন আচরণ, ব্যবহৃত ডিভাইস এবং নেটওয়ার্কের বিভিন্ন প্যাটার্নে অস্বাভাবিকতা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে সম্ভাব্য প্রতারণার ঘটনা ঘটার আগেই দ্রুত হস্তক্ষেপ করা যাচ্ছে, যা জালিয়াতি প্রতিরোধের সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করছে এবং গ্রাহকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

ব্যাঙ্কের তৈরি এই তথ্যনির্ভর  প্রতারণা প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিম্নলিখিত সুবিধাগুলি নিশ্চিত করে:

• সন্দেহজনক লেনদেন দ্রুত শনাক্ত করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ তৈরি করে

• গ্রাহকের আচরণগত ধরণ বিশ্লেষণ করে রিয়েল-টাইমে অস্বাভাবিকতা চিহ্নিত করে

• নেটওয়ার্ক-স্তরের বিশ্লেষণের মাধ্যমে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র ও জালিয়াতি নেটওয়ার্ক শনাক্ত করতে সহায়তা করে

এই সক্ষমতাগুলো সম্মিলিতভাবে অর্থ স্থানান্তরের আগেই উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ কার্যকলাপ শনাক্ত ও প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে, যার ফলে জালিয়াতি ব্যবস্থাপনার পদ্ধতিটি ঘটনার পরবর্তী শনাক্তকরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, সক্রিয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হয়েছে।

এই প্রচেষ্টার পরিপূরক হিসেবে, অ্যাক্সিস ব্যাংক প্রতারণার নতুন সব ঝুঁকি ও আচরণগত কারণ সম্পর্কে গ্রাহকদের সচেতন করার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে—যার ফলে গ্রাহকরা সন্দেহজনক বিষয়গুলো শনাক্ত করতে, কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে একটু সময় নিয়ে ভাবতে এবং সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হচ্ছেন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-নির্ভর জালিয়াতি প্রতিরোধ ব্যবস্থা

অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক তাদের জালিয়াতি প্রতিরোধ ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সংযুক্ত করেছে, যার ফলে জালিয়াতি মোকাবিলার কৌশলটি সাধারণ নিয়ম-ভিত্তিক নজরদারি থেকে একধাপ এগিয়ে এখন পূর্বাভাসভিত্তিক এবং অভিযোজনক্ষম ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় রূপান্তরিত হয়েছে। এই এআই-চালিত সিস্টেমগুলো রিয়েল-টাইম রিস্ক স্কোরিং, আচরণগত অসঙ্গতি শনাক্তকরণ এবং জালিয়াতি চক্রের নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করতে সাহায্য করে, যা ব্যাংকটিকে যেকোনো সম্ভাব্য ঝুঁকি অনেক আগেই বুঝতে এবং সেই অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সক্ষম করে তোলে।

বর্তমানে জালিয়াতির ঘটনাগুলো ক্রমশ সংগঠিত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে ভুয়ো অ্যাকাউন্টগুলো মধ্যবর্তী স্তর হিসেবে কাজ করে। এই অ্যাকাউন্টগুলো মূলত জালিয়াতির টাকার উৎস বা তহবিল স্থানান্তরের গতিপথকে আড়াল করে দেয় এবং অত্যন্ত দ্রুততার সাথে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সেই অবৈধ অর্থ সরিয়ে ফেলে।  আর অ্যাকাউন্ট খোলার বা অনবোর্ডিং প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে এবং জালিয়াতির ঝুঁকি কমাতে ব্যাংকটি ব্যাক-এন্ডে একাধিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যুক্ত করেছে; যার মধ্যে অন্যতম হলো ভৌগোলিক অবস্থান পরীক্ষা, লেনদেনের গতিবিধি বা ফ্রিকোয়েন্সি পর্যবেক্ষণ এবং পরিচয় যাচাইকরণ।

প্রধান সক্ষমতাগুলোর মধ্যে রয়েছে:

• লেনদেনের ডাইনামিক রিস্ক-স্কোরিং: রিয়েল-টাইমে লেনদেনের ঝুঁকির মাত্রা মূল্যায়ন করা, যার মাধ্যমে তৎক্ষণাৎ অথেন্টিকেশন বা অনুমোদন দেওয়া, অতিরিক্ত ভেরিফিকেশন চাওয়া কিংবা উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ কার্যকলাপ সম্পূর্ণ ব্লক বা বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব হয়।

• নেটওয়ার্ক-স্তরের ইন্টেলিজেন্স: বড় আকারে বা ব্যাপক স্তরে সুসংগঠিত জালিয়াতি চক্র এবং ভুয়ো অ্যাকাউন্ট নেটওয়ার্কগুলোকে নিখুঁতভাবে শনাক্ত করা।

এই কৌশলটিকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে ব্যাংক, টেলিকম নেটওয়ার্ক এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর পারস্পরিক অংশীদারিত্ব ও সামগ্রিক ইকোসিস্টেম-ভিত্তিক সহযোগিতা; যা জালিয়াতির ঝুঁকিগুলো গ্রাহকের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর আগেই অনেক দ্রুত ও প্রাথমিক স্তরেই তা শনাক্ত করতে সাহায্য করে।

গ্রাহক-নিয়ন্ত্রিত নিরাপত্তা

এআই (AI)-চালিত জালিয়াতি প্রতিরোধের পাশাপাশি, অ্যাক্সিস ব্যাংক ইন্ডাস্ট্রিতে প্রথম এমন কিছু সুরক্ষামূলক ফিচার নিয়ে এসেছে, যা সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো সম্পর্কে গ্রাহকদের আরও স্পষ্ট ধারণা দিতে সাহায্য করবে। এই ফিচারগুলো গ্রাহকদের নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে আগাম পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ করে দেয়, যা ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে তাঁদের আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ ও আত্মবিশ্বাস জোগাবে।

• মোবাইল অ্যাপ কোড: লগ-ইন এবং লেনদেনের জন্য একটি নিরাপদ, অ্যাপ-ভিত্তিক অথেন্টিকেশন ব্যবস্থা, যা ওটিপি-ভিত্তিক জালিয়াতির ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।

• ফেস অথেন্টিকেশন: নিরাপত্তা যাচাইকরণের ক্ষেত্রে একটি বায়োমেট্রিক স্তর যুক্ত করে; যার ফলে শুধুমাত্র অথেনটিকেটেড বা প্রকৃত ব্যবহারকারীই ব্যাংকিংয়ের যেকোনো সংবেদনশীল কাজ বা লেনদেনের অনুমতি দিতে পারেন।

• সেফটি সেন্টার: এটি একটি সেন্ট্রালাইজড হাব, যা যেকোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপের সময় তাৎক্ষণিকভাবে লেনদেন সীমিত করার মতো সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার সুবিধা দেয়। পাশাপাশি, সম্ভাব্য জালিয়াতির ঝুঁকি থেকে একধাপ এগিয়ে থাকতে এটি গ্রাহকদের আগাম নিয়ন্ত্রণমূলক ফিচার (যেমন- কোয়ায়েট আওয়ার্স) চালু করার সুযোগ দেয়।

• লক এফডি : এটি ফিক্সড ডিপোজিট বা স্থায়ী আমানতের ক্ষেত্রে একটি অতিরিক্ত সুরক্ষাকবচ প্রদান করে, যা অননুমোদিতভাবে ডিজিটাল মাধ্যমে এফডি বন্ধ করা প্রতিরোধ করে; বিশেষ করে যেসব গ্রাহকেরা অ্যাসিস্টেড ব্যাংকিং চ্যানেলের ওপর নির্ভরশীল, তাঁদের জন্য এটি অত্যন্ত উপযোগী।

• এসএমএস শিল্ড: অ্যাক্সিস ব্যাংকের অফিসিয়াল আইডেন্টিফায়ারের সাথে প্রেরকের আইডি মিলিয়ে দেখে যেকোনো এসএমএস-এর সত্যতা যাচাই করে, যা স্পুফিং এবং ফিশিংয়ের মতো প্রতারণামূলক চেষ্টাগুলো শনাক্ত করতে সাহায্য করে।

শক্তিশালী ব্রাঞ্চ ইকোসিস্টেমের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা ‘সেফ ব্যাংকিং’

ডিজিটাল সক্ষমতাগুলো জালিয়াতি প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তুললেও, অ্যাক্সিস ব্যাংকের শাখা নেটওয়ার্ক গ্রাহকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, অ্যাসিস্টেড ব্যাংকিং যাত্রা সহজ করা এবং গ্রাহকদের আস্থা ও বিশ্বাসকে আরও সুদৃঢ় করার মাধ্যমে ‘সেফ ব্যাংকিং’ অভিযানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।

এই প্রসঙ্গে অ্যাক্সিস ব্যাংকের সমীর শেট্টি, গ্রুপ হেড – ডিজিটাল বিজনেস, ট্রান্সফরমেশন অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক প্রোগ্রামস জানান, “বর্তমান সময়ে ‘সেফ ব্যাংকিং’ বা নিরাপদ ব্যাংকিংয়ের পরিধি শুধুমাত্র পরিকাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়—এর মূল উদ্দেশ্য হলো সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলোকে আগে থেকে অনুমান করা এবং গ্রাহক স্তরে আরও সচেতন ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তৈরি করা। অ্যাক্সিস ব্যাংকে আমরা ব্যাক-এন্ড এআই (AI)-চালিত বুদ্ধিমত্তার সাথে গ্রাহক-নিয়ন্ত্রিত সিকিউরিটি ফিচারগুলোর এক মেলবন্ধন ঘটিয়েছি, যাতে জালিয়াতি স্রেফ শনাক্ত করার পরিবর্তে তা শুরুতেই প্রতিরোধ করা যায়; একই সাথে গ্রাহকদের ব্যাংকিং যাত্রার প্রতিটি স্তরে সুরক্ষাকবচ তৈরি করা যায়। ডিজিটাল লেনদেনের পরিধি যেভাবে ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেখানে আমাদের মূল লক্ষ্য হলো গ্রাহকদের মনে ব্যাংকের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস আরও সুদৃঢ় করা। এর জন্য আমরা কেবল তাঁদের সুরক্ষাই দিচ্ছি না, বরং এমনভাবে ক্ষমতায়ন করছি যাতে তাঁরা সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সাথে রিয়েল-টাইমে যেকোনো পদক্ষেপ নিতে পারেন।”

এর পাশাপাশি রেনল্ড ডি’সুজা, গ্রুপ হেড – ব্রাঞ্চ ব্যাংকিং, নর্থ অ্যান্ড টিএএসসি বিজনেস, অ্যাক্সিস ব্যাংক  জানান, “পশ্চিমবঙ্গ আমাদের কাছে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বাজার; যেখানে রিটেল, এমএসএমই এবং গ্রামীণ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই শক্তিশালী চাহিদা রয়েছে। এই ধরনের বড় এবং বৈচিত্র্যময় বাজারে গ্রাহকদের বিশ্বাস ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি, আর আমাদের শক্তিশালী শাখা বা ব্রাঞ্চ নেটওয়ার্ক সেই বিশ্বাসের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে চলেছে। আমাদের শাখাগুলোই নিরাপদ ব্যাংকিং বা ‘সেফ ব্যাংকিং’ অভিযানকে বাস্তব রূপ দেয়—যা গ্রাহকদের সুরক্ষিতভাবে ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারে পথ দেখায় এবং যেকোনো প্রয়োজনে তাঁদের পাশে থাকে। আমাদের মজবুত অন-গ্রাউন্ড উপস্থিতি এবং প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতার যুগলবন্দীতে আমরা এটি নিশ্চিত করি, যাতে গ্রাহকেরা তাঁদের ব্যাংকিং যাত্রার প্রতিটি স্তরে সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং আত্মবিশ্বাসী বোধ করেন।”

একইসঙ্গে অ্যাক্সিস ব্যাংকের গ্রুপ হেডফিনান্সিয়াল ক্রাইম ইন্টেলিজেন্স গৌরব গুপ্ত, বলেন, “আর্থিক অপরাধগুলো দিন দিন আরও বেশি সুসংগঠিত এবং নেটওয়ার্কভিত্তিক হয়ে উঠছে, যা প্রথাগত বা বিচ্ছিন্ন লেনদেন নজরদারির পরিবর্তে আরও বেশি বুদ্ধিমত্তা ও তথ্যভিত্তিক কৌশলের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে। অ্যাক্সিস ব্যাংকে আমরা গ্রাহকদের আচরণগত অন্তর্দৃষ্টি, নেটওয়ার্ক অ্যানালিটিক্স এবং রিয়েলটাইম রিস্ক সিগন্যালগুলোকে একসূত্রে বেঁধেছি, যাতে সম্ভাব্য হুমকিগুলো আরও আগেই শনাক্ত করা যায় এবং আরও কার্যকরীভাবে হস্তক্ষেপ বা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। এই ব্যবস্থা আমাদের বড় আকারে জালিয়াতির সম্পূর্ণ ইকোসিস্টেমকে ভেঙে দিতে সাহায্য করছে, পাশাপাশি ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের দুনিয়ায় গ্রাহকের আস্থা ও নিরাপত্তা পরিকাঠামোকে আরও সুদৃঢ় করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × four =