এক অনন্য আবেগের লড়াইয়ের সাক্ষী হতে চলেছে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি

শুভাশিস বিশ্বাস

ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে এবার ভোটের লড়াই যেন এক অনন্য আবেগের। বিজেপি প্রার্থী শিখা চট্টোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী রঞ্জন শীল শর্মার মধ্যে এই লড়াই ইতিমধ্যেই শিলিগুড়ির রাজনৈতিক মহলে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে। কারণ, উত্তরবঙ্গের এই ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি কেন্দ্রে মা-ছেলে এবার ভোটের রাজনীতিতে নামছেন একে অপরের বিরুদ্ধে। এমন সম্মুখসমরের ঘটনা অতীতেও বঙ্গ রাজনীতিতে যে দেখা যায়নি তা নয়। ভোটের লড়াইয়ে একই বাড়ির সদস্যরা ভিন্ন রাজনৈতিক দলের থেকে ভোট যুদ্ধের ময়দানে মুখোমুখি লড়েছেন।কিন্তু মা-ছেলের এ লড়াই যেন পৌঁছেছে এক ভিন্ন মাত্রায়।

ছোটবেলা থেকে যাঁর কাছে কার্যত মানুষ, যাঁর হাত ধরে রাজনীতিতে প্রবেশ, ভোট ময়দানে তিনিই যদি প্রতিপক্ষ হন তাহলে অস্বস্তিতে কি পড়বেন দু’জনই, এখন এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে। কারণ, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির তৃণমূল প্রার্থী রঞ্জনশীল শর্মা ‘মা’ বলেই ডাকেন বিজেপি প্রার্থী শিখা চট্টোপাধ্যায়কে। আর তৃণমূলের টিকিট পাওয়ার পরই তিনি জানিয়ে দিলেন, মা শিখা চট্টোপাধ্যায়ের আশীর্বাদ নিয়েই প্রচারে নামবেন। আর জয়লাভের জন্য আশীর্বাদ প্রার্থনাও করেন মায়ের কাছে। আর এখানেই বুঝি সবথেকে বড় প্রশ্ন, কী করবেন বিজেপির শিখা? ছেলের বিরুদ্ধে তাঁর প্রচারের হাতিয়ার কী হবে? এই নিয়ে এখনও কিছু বলেননি বিজেপির বিদায়ী বিধায়ক। তবে লড়াইয়ের শুরুতেই প্রাক্তন বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর কাছে পরিবারের আগে দলই অগ্রাধিকার পাবে। প্রয়োজনে ছেলে বা স্বামী, কাউকেই আলাদা করে বিবেচনা করবেন না। লক্ষ্য একটাই, দলকে জয়ী করা। সঙ্গে এও জানান, রঞ্জনের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক আগের মতোই থাকবে। কিন্তু রাজনৈতিক লড়াইয়ে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। কে কী কাজ করেছে, তার জবাব দেবে ভোটবাক্স। যদিও রঞ্জন জানিয়েছেন, পারিবারিক সম্পর্ককে সম্মান জানিয়েই তিনি প্রচারে নামবেন। সঙ্গে এও জানান, তাঁর লড়াই হবে উন্নয়ন ও আদর্শের ভিত্তিতে। জিততে পারলে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িকে পুরসভায় রূপান্তর করার চেষ্টা করবেন তিনি। তবে এমন এক ঘটনায় অনেকে রঞ্জনের স্ট্যাটেজির প্রশংসা করে বলেন, এ যেন লড়াইয়ের আগে বিপক্ষের কিলিং ইনস্টিনক্টকে ধ্বংস করা।

ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি কেন্দ্রের স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গিয়েছে, খুব ছোটবেলায় বাবাকে হারান রঞ্জন। এরপর শিখা চট্টোপাধ্যায়ের কাছে ছোট রঞ্জনকে নিয়ে গিয়েছিলেন তাঁর মা। শিখাকে অনুরোধ করেন, ছেলেকে দেখভাল করার জন্য। তারপর রঞ্জনের মা-ও মারা যান। কার্যত ছোটবেলা থেকে রঞ্জনকে মানুষ করেছেন শিখা। আর সেই কারণেই তাঁকে মা বলেই ডাকেন রঞ্জন। শুধু বড় করা নয়, রঞ্জনের রাজনীতিতেও প্রবেশ শিখা চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে। এই প্রসঙ্গে বলে রাখা শ্রেয়, শিখাও একসময় তৃণমূলই করতেন। তবে ২০২১ সালে দলীয় টিকিট না পেয়ে তৃণমূল ছাড়েন শিখা চট্টোপাধ্যায়। যোগ দেন বিজেপিতে। দল বদলালেও রঞ্জন তৃণমূলেই থেকে যান। দার্জিলিং তৃণমূল কংগ্রেসের সমতলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পান রঞ্জন। এদিকে এই মুহূর্তে শিলিগুড়ি পৌরনিগমের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রঞ্জন।

উল্টোদিকে একুশের বিধানসভা নির্বাচনে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে শিখাকে প্রার্থী করেছিল বিজেপি। ওই আসনে তৃণমূলের প্রার্থী হন গৌতম দেব। যিনি আবার ওই কেন্দ্রের ২ বারের বিধায়ক। নিঃসন্দেহে হেভিওয়েট প্রার্থী। কিন্তু, শিখা ২৭ হাজারের বেশি ভোটে গৌতম দেবকে হারিয়ে দেন। এদিকে তৃণমূলের স্থানীয় নেতারা দাবি করেন, একুশের বিধানসভা নির্বাচনের সময় শিখার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে প্রচারে নামেননি রঞ্জন।

২০২৬-এও ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে শিখাকে প্রার্থী করেছে বিজেপি।এরপর মঙ্গলবার ওই আসনে রঞ্জনের নাম ঘোষণা করে তৃণমূল। ফলে মা-ছেলের লড়াই হতে চলেছে এই কেন্দ্রে। কী হবে এবার? মা শিখার বিরুদ্ধে কীভাবে প্রচার করবেন ছেলে রঞ্জন?

আবেগ ও রাজনীতি একসঙ্গে মিশে যাওয়া এই বিধানসভা কেন্দ্রটির অবস্থান জলপাইগুড়ি জেলায়। রাজনৈতিক দিক থেকে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা আসনটি একটি সাধারণ শ্রেণীর নির্বাচনী এলাকা। এটি শিলিগুড়ি পৌর কর্পোরেশনের ৩১ থেকে ৪৪ নম্বর ওয়ার্ড এবং রাজগঞ্জ সম্প্রদায় উন্নয়ন ব্লকের ডাবগ্রাম-১, ডাবগ্রাম-২, ফুলবাড়ি-১ ও ফুলবাড়ি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি নিয়ে গঠিত। এটি জলপাইগুড়ি লোকসভা কেন্দ্র গঠনকারী সাতটি কেন্দ্রের মধ্যে একটি। ২০১১ সালের নির্বাচনের আগে সীমানা নির্ধারণ কমিশনের আদেশে, শিলিগুড়ির চারপাশে দ্রুত নগরায়ণ এবং জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়ায় এই নির্বাচনী এলাকাটি গঠন করা হয়। এই প্রসঙ্গে আরও একটা কথা বলতেই হয়, বর্তমানে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি নামে পরিচিত এলাকাগুলি আগে প্রধানত রাজগঞ্জ বিধানসভা আসনের অধীনে ছিল।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে মেলা তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ছিল ৩২১,২০১, যা ২০২১ সালের ৩১০,৩৫৪ এবং ২০১৯ সালের ২৮৩,৫৭৭ থেকে বেশি। মোট ভোটারের প্রায় ৩৭ শতাংশ মুসলিম, ৩২.৩৫ শতাংশ তফসিলি জাতি এবং ১.১৬ শতাংশ তফসিলি উপজাতি। মুসলিম ভোটাররা মূলত শিলিগুড়ির দিকের ডাবগ্রাম অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত, অন্যদিকে ফুলবাড়িতে তফসিলি জাতি ভোটারদের ঘনত্ব বেশি।

সঙ্গে এটা মনে রাখা দরকার এই ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি একটি সম্পূর্ণ শহুরে আসন, এখানকার ভোটার তালিকায় কোনো গ্রামীণ ভোটার নেই। ভোটার উপস্থিতি বেশ ভালো, তবে সময়ের সাথে সাথে এতে কিছুটা ওঠানামাও নজরে এসেছে। যেমন, ২০১১ সালে এই হার ছিল ৭৬.২০ শতাংশ, যা ২০১৬ সালে বেড়ে ৮৫.৫৪ শতাংশ হয়। এরপর ২০১৯ সালে তা কমে ৮৪.৩৯ শতাংশ, ২০২১ সালে ৮৩.৫৫ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে তা গিয়ে দাঁড়ায় ৮০.৫৫ শতাংশে।

ভৌগোলিকভাবে, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর সমভূমিতে, পূর্ব হিমালয়ের পাদদেশে, জলপাইগুড়ি শহরের উত্তরে এবং শিলিগুড়ি মহানগর এলাকার আশেপাশে অবস্থিত। এখানকার ভূখণ্ড সমতল থেকে সামান্য ঢালু এবং এর মাটি পলিমাটিযুক্ত। পাহাড় থেকে তিস্তার দিকে বয়ে আসা নদী ও ঝর্ণার জলে পুষ্ট এই মাটি। বৃহত্তর এই এলাকাটি ডুয়ার্স-তরাই অঞ্চলের অংশ, যেখানে কৃষিকাজের পাশাপাশি চা বাগান, নগর পরিষেবা, বাণিজ্য ও পরিবহন ব্যবস্থার প্রাধান্য রয়েছে।

এই নির্বাচনী এলাকাটি শিলিগুড়ি থেকে জলপাইগুড়ি এবং সেখান থেকে আরও এগিয়ে ডুয়ার্স পর্যন্ত বিস্তৃত ব্যস্ত করিডোরটির দুই পাশেই অবস্থিত। ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ডাবগ্রাম শিল্প পার্ক এই অঞ্চলের মধ্যেই অবস্থিত, এবং শিলিগুড়ির বাইরে সবচেয়ে কাছের প্রধান শহর হল জলপাইগুড়ি, যা ফুলবাড়ি হয়ে সড়কপথে প্রায় ৪৮ কিমি দূরে অবস্থিত। জলপাইগুড়ি জেলা সদর এবং জেলার প্রধান প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রও বটে। রাজ্যের রাজধানী কলকাতা সড়ক ও রেলপথে প্রায় ৫৬০ থেকে ৬০০ কিমি দূরে অবস্থিত, যেখানে নিউ জলপাইগুড়ি জংশন এবং উত্তরবঙ্গের প্রধান সংযোগকারী সড়কগুলির মাধ্যমে পৌঁছানো যায়।

জলপাইগুড়ি সেক্টরে বাংলাদেশ সীমান্ত বৃহত্তর ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি অঞ্চল থেকে অল্প দূরত্বে অবস্থিত, যা একে সরাসরি সীমান্তবর্তী নির্বাচনী এলাকা না বানিয়েও উত্তরবঙ্গের কৌশলগত করিডরে এর অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে। বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে রংপুর বিভাগের শহরগুলি সীমান্তের ওপারে অবস্থিত, যা সড়ক ও অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক সংযোগের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের বাণিজ্য পথের সাথে যুক্ত। সব মিলিয়ে এই ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির মূল পরিচয় হলো একটি ক্রমবর্ধমান শহুরে নির্বাচনী এলাকা, যা শিলিগুড়ির উন্নয়নের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত।

এই বিধানসভা তৈরি হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত তিনবার নির্বাচন হয়েছে। প্রথম দুটি বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস জেতে। এরপর জোড়াফুলকে সরিয়ে ২০২১-এর নির্বাচনে ফোটে পদ্ম। ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের গৌতম দেব সিপিআই(এম)-এর দিলীপ সিংকে ১১,২৩৬ ভোটে পরাজিত করেন এবং ২০১৬ সালে তিনি আবারও সিংকে হারান, এবার ২৩,৮১১ ভোটের ব্যবধানে। এই দুটি নির্বাচনে বিজেপি যথাক্রমে মাত্র ৬.০৭ শতাংশ এবং ১১.৭৭ শতাংশ ভোট পেলেও ২০২১ সালে রাজনৈতিক পাশা উল্টে যায়।  সবাইকে চমকে দিয়ে বিজেপি প্রার্থী শিখা চট্টোপাধ্যায় দুইবারের বিধায়ক গৌতম দেবকে ২৭,৫৩৯ ভোটে পরাজিত করেন। এই জয়ে সিপিআই(এম)-এর দিলীপ সিং ৬.৯৫ শতাংশ ভোট পেয়ে অনেক পিছিয়ে তৃতীয় স্থানে চলে যান, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেস পায় ৩৯.২০ শতাংশ এবং বিজেপি পায় ৪৯.৮৫ শতাংশ ভোট। শুধু ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচন-ই নয়,  ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি কেন্দ্রের লোকসভা নির্বাচনের প্রবণতাও প্রান্তিক অবস্থা থেকে বিজেপির উত্থানের দিকেই ইঙ্গিত করছে। ২০০৯ সালে, এখানে সিপিআই(এম) কংগ্রেসের চেয়ে ২৪,৪৫৪ ভোটে এগিয়ে ছিল; ২০১৪ সালে, তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপির চেয়ে ৪,৭১০ ভোটে এগিয়ে যায়। ২০১৯ সালে পরিস্থিতি পাল্টে যায়, যখন এই কেন্দ্রে বিজেপি তৃণমূলের চেয়ে ৮৬,১১৭ ভোটের বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে যায় এবং ২০২৪ সালেও তাদের আধিপত্য বজায় থাকে, যেখানে তারা তৃণমূলের চেয়ে ৭২,২৪৫ ভোটে এগিয়ে থাকে।

এদিকে সম্প্রতি গৌতম দেব ঘোষণা করেন, তিনি আর ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না, যেখান থেকে তিনি দু’বার জিতেছিলেন। সঙ্গে এও জানান, তিনি তাঁর নিজ গ্রাম শিলিগুড়িতে ফিরে যাবেন বলেও। পাশাপাশি এও জানাতে ভোলেননি যে,  এই ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বাসিন্দাদের কাছ থেকে তিনি ভালোবাসা ও প্রত্যাখ্যান দুটোই পেয়েছেন, যা তিনি বিনয়ের সাথে মাথা পেতে নিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে আরও একটা কথা বলতেই হয় ২০১১ এবং ২০১৬ সালে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি থেকে তৃণমূলের তরফে জয়ী হওয়ার পর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের প্রথম মেয়াদে গৌতম দেব উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী হন। এরপর দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি পর্যটন মন্ত্রীর দায়িত্ব সামলান। এরপর ২০২১-এ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হলেও ২০২২ সালে শিলিগুড়ি পৌরসভা (এসএমসি) নির্বাচনে তৃণমূল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর গৌতম দেব মেয়র হন।

এদিকে হাত গুটিয়ে বসে নেই বামেরাও।শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্র ও ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিআই(এম) প্রার্থীদের সমর্থনে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রচারে নেমেছে বাম শিবির। প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার পর সকাল থেকেই নিজ নিজ কেন্দ্রে নিবিড় প্রচারে অংশ নেন প্রার্থীরা। ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি কেন্দ্রে বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিআই(এম) প্রার্থী দিলীপ সিং-কে বুধবার সকালে শালুগাড়া ভক্তিনগর এলাকায় বাড়ি বাড়ি প্রচার করতে যেমন দেখা যায় তেমনই ও সন্ধ্যায় পূর্ব চয়নপাড়া এলাকায় বাড়ি বাড়ি নিবিড় প্রচার সারেন।প্রার্থীর সাথে প্রচারে ছিলেন কমল বাড়ৈ, সুষেন রায়, ধীরেশ রায় সহ অন্যান্যরা। তৃণমূল কংগ্রেসও বিজেপি’কে পরাস্ত করতে মানুষের ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ে আহ্বান জানিয়ে শিলিগুড়ি মহকুমার গ্রামীণ এলাকায় বাড়ি বাড়ি, দোকানপাট, বাজার, বস্তি, গলি সর্বত্র প্রচারে যান মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিআই(এম) প্রার্থী ঝরেন রায়। এর পাশাপাশি ভবেশ ঘোষের সভাপতিত্বে কর্মিসভার পর মাটিগাড়া বাজার এলাকায় প্রার্থীকে নিয়ে প্রচার মিছিলে পা মেলাতে দেখা যায় এলাকার সিপিআই(এম) কর্মী সমর্থকদের। এদিন মাটিগাড়া বাজার হাটের বিভিন্ন দোকানের ব্যবসায়ী, স্থায়ী মানুষের সাথে কথাও বলেন বাম প্রার্থী। সাথে ছিলেন গৌতম ঘোষ, ভবেন্দু আচার্য্য, ঝরিয়া ওঁরাও, তাপস সরকার, মনি থাপা প্রমূখ। এছাড়াও সন্ধ্যায় নকশালবাড়ির বাবুপাড়া এলাকায় বাড়ি বাড়ি প্রচার চালান প্রার্থী।

ডাবগ্রামফুলবাড়িতে রাজনৈতিক দলগুলোর পারফরম্যান্সের দিকে একনজরে তাকালে মনে হতে পারে যে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি সমানে সমান, কারণ গত সাতটি বড় নির্বাচনের মধ্যে তিনটিতেই উভয় দল এগিয়ে ছিল। তবে, খুব খুঁটিয়ে দেখলে নজরে আসবে, বিজেপি গত তিনটি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ২০১৯ ও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের থেকে এগিয়ে ছিল এবং তাদের জয়ের ব্যবধান তৃণমূলের আগের জয়ের ব্যবধানের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। আর বামফ্রন্টকংগ্রেস জোট এখন মোট ভোটের ৪ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আর ২০২৬এর নির্বাচনে বিজেপি চেষ্টা করবে মুসলিম ভোট বিভক্ত করার জন্য। কারণ, এই ভোটগুলো সাধারণত তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে ঝুঁকে থাকে। সুতরাং, এটা স্পষ্ট যে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ডাবগ্রামফুলবাড়িতে বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে লড়াই হবে কাঁটায়কাঁটায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

11 − 1 =