মালাবার গ্রুপের চেয়ারম্যান এম. পি. আহম্মদকে ‘মহারাষ্ট্রীয়ান অফ দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ড  ২০২৬’ সম্মানে ভূষিত করলেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনভিস

মালাবার গ্রুপের চেয়ারম্যান এম. পি. আহম্মদ লোকমত মহারাষ্ট্রীয়ান অফ দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ড  ২০২৬  অনুষ্ঠানে মর্যাদাপূর্ণ ‘বিজনেস ভূষণ অ্যাওয়ার্ড  ‘ (Business Bhushan Award) পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। বিশ্বব্যাপী জুয়েলারি খুচরা বিক্রয় শিল্পে আমূল পরিবর্তন আনা এবং সমাজের সার্বিক উন্নয়নে তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই সম্মান প্রদান করা হয়।

ঐতিহাসিক গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়াতে আয়োজিত এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনভিস, উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে এবং লোকমতের চেয়ারম্যান  বিজয় দর্দা সহ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন মন্ত্রকের মন্ত্রী, আমলা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট গুণীজনরা। এছাড়াও এদিনের এই অনুষ্ঠানে দেশের প্রথম সারির নীতিনির্ধারক, শিল্পপতি এবং ব্যবসা ও বিনোদন জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকেও উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।

লোকমত মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রবর্তিত এই পুরস্কারটি মূলত সেই সকল ব্যক্তিদের সম্মান জানায়, যাঁদের দূরদর্শী ভাবনা, নেতৃত্ব এবং কৃতিত্ব বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রকে নতুন রূপ দেওয়ার পাশাপাশি সমাজে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রেখেছে। আহম্মদের এই স্বীকৃতি তাঁর অসাধারণ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার পথচলাকে উজ্জ্বল করে তোলে। তাঁর নেতৃত্বেই মালাবার গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডস আজ বিশ্বের ৫ম বৃহত্তম জুয়েলারি রিটেলার এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত বৃহত্তম জুয়েলারি রিটেলারে পরিণত হয়েছে।

এই সম্মান পাওয়ার পর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মালাবার গ্রুপের চেয়ারম্যান এম. পি. আহম্মদ জানান, ‘লোকমত ‘মহারাষ্ট্রীয়ান  অফ দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ড  অনুষ্ঠানে  বিজনেস ভূষণ  অ্যাওয়ার্ড পেয়ে আমি গভীরভাবে সম্মানিত। এই স্বীকৃতি পুরো মালাবার পরিবারের সম্মিলিত নিষ্ঠা এবং বছরের পর বছর ধরে আমাদের ওপর গ্রাহকদের রাখা আস্থার প্রতিফলন। আমাদের এই পথচলা দায়বদ্ধতা, সততা এবং সমাজের জন্য স্থায়ী মূল্য তৈরির অঙ্গীকারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। আমরা আমাদের প্রতিটি কাজে উৎকর্ষ বজায় রাখার পাশাপাশি সকল অংশীদারদের  সম্মিলিত উন্নয়নে বিশ্বাসী।’

এই প্রসঙ্গে বলে রাখা শ্রেয়, ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত মালাবার গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডস গয়না রিটেল বিক্রয় শিল্পে দায়িত্বশীলতা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সংগঠিত রিটেল ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করা এবং বিশ্বমানের ডিজাইন ও পরিষেবার মাধ্যমে গ্রাহকদের অভিজ্ঞতা উন্নত করতে এই প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। বর্তমানে ১৪টি দেশে ৪২৫টি শোরুমের মাধ্যমে ব্র্যান্ডটি ভারতের শিল্পকলা ও প্রাণশক্তিকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরে প্রকৃত নেতৃত্ব হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। নকশা তৈরি এবং উৎপাদন থেকে শুরু করে খুচরা বিক্রয়—পুরো সাপ্লাই চেইনকে একত্রিত করে এই ব্র্যান্ডটি গয়না শিল্পকে এক নতুন রূপ দিয়েছে। পাশাপাশি মহারাষ্ট্র মালাবার গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডসের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে রয়ে গেছে, যেখানে বর্তমানে প্রধান শহরগুলো জুড়ে তাদের ৩৪টি শোরুম রয়েছে। এই প্রবৃদ্ধি কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করেছে, সংগঠিত জুয়েলারি ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করেছে এবং উন্নত মানের ডিজাইনের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করেছে। রাজ্যে তাঁর এই অসামান্য অবদানের জন্যই তাঁকে এই সম্মান প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও, মালাবার গ্রুপ মহারাষ্ট্রে তাদের ব্যবসার আরও প্রসারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ২০২৯ সালের মধ্যে মহারাষ্ট্রে মোট ৬৪টি স্টোর খোলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

ব্যবসায়িক বৃদ্ধির ঊর্ধ্বে গিয়ে মালাবার গ্রুপের চেয়ারম্যান এম. পি. আহম্মদ একটি উদ্দেশ্যচালিত মডেলকে এগিয়ে নিয়েছেন। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই তিনি কোম্পানির মূল কাঠামোর সঙ্গে সিএসআর/ইএসজি অঙ্গীকারগুলোকে যুক্ত করেছেন। মালাবার গ্রুপ তাদের লভ্যাংশের ৫% নিয়মিতভাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন সহায়তা এবং নারী ক্ষমতায়ন কর্মসূচিতে অনুদান দিয়ে আসছে, যা তাদের ব্যবসায়িক অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। এরপর এদিনের এই বিজনেস ভূষণ অ্যাওয়ার্ডে  তাঁর এই স্বীকৃতি ভারত অন্যতম সম্মানিত ব্যবসায়িক নেতা হিসেবে তাঁর অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে। তাঁর উদ্যোক্তা সুলভ দূরদৃষ্টি এবং মূল্যবোধভিত্তিক নেতৃত্ব আগামীদিনের বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এক অনুপ্রেরণা এবং সম্মিলিত অগ্রগতির পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × two =