ভারতের বৃহত্তম স্ট্যান্ডঅ্যালোন রিটেল হেলথ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি স্টার হেলথ অ্যান্ড অ্যালাইড ইন্স্যুরেন্স পশ্চিমবঙ্গে তাদের উপস্থিতি আরও সুদৃঢ় করেছে। স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সংগঠিত স্বাস্থ্য বিমার প্রসার রাজ্যে বিমা গ্রহণের প্রবণতাকে আরও শক্তিশালী করছে। প্রসঙ্গত, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে পশ্চিমবঙ্গে কোম্পানির গ্রস রিটেন প্রিমিয়াম (GWP) দাঁড়িয়েছে প্রায় ১,১০০ কোটি টাকা, যা গত বছরের তুলনায় ১০% বেশি। একই সময়ে বিমা নীতির সংখ্যা ৩% বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সুরক্ষিত জীবনের সংখ্যা পৌঁছেছে ১৪.৭ লক্ষেরও বেশি। নতুন গ্রাহক এবং গভীরতর ভৌগোলিক বিস্তারের মাধ্যমে ব্যবসার প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে,
- ৭৫টিরও বেশি শাখা
- ৬২,০০০-এর বেশি উপদেষ্টা
- ৮০০+ কর্মী
- ৭৫+ স্টার গ্রামীণ বিমা কেন্দ্র
- ১,৮৮০+ পিন কোডে বিস্তার
- ৬০০+ নেটওয়ার্ক হাসপাতাল
পাশাপাশি সংস্থার তরফ থেকে এও জানানো হয়েছে যে, গ্রাহক আস্থার অন্যতম প্রমাণ হলো দাবি নিষ্পত্তি। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে পশ্চিমবঙ্গে ৯২,৭০০-এর বেশি দাবি নিষ্পত্তি করা হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৪৬০ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৭১,৯০০ দাবি এবং ৩৯১ কোটি টাকা। প্রতিদিন গড়ে ৫,৮০০ দাবি নিষ্পত্তি হয়, যার মধ্যে ৯৬% ক্যাশলেস দাবি তিন ঘণ্টার মধ্যে সম্পন্ন হয়। এআই-নির্ভর প্রক্রিয়া আরও দ্রুততা ও দক্ষতা আনছে।
এই প্রসঙ্গে কোম্পানির এমডি ও সিইও আনন্দ রায় বলেন, “স্বাস্থ্য বিমা এখন পরিবারের আর্থিক প্রস্তুতি, স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি এবং ধারাবাহিক যত্নের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠছে। গ্রাহকরা কেবল বিমা পণ্য নয়, বরং সেবার মান, নির্ভরযোগ্য দাবি নিষ্পত্তি এবং হাসপাতাল অ্যাক্সেসকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।”
অন্যদিকে, কোম্পানির হোল-টাইম ডিরেক্টর হিমাংশু ওয়ালিয়া মন্তব্য করেন, “পশ্চিমবঙ্গে গ্রাহকরা হাসপাতালাইজেশনের বাইরে গিয়ে ওয়েলনেস, টেলিমেডিসিন ও হোম হেলথকেয়ার সেবার প্রতি বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। আমরা স্থানীয় পর্যায়ে সেবা আরও সহজলভ্য করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছি।”
সঙ্গে এও জানানো হয়েছে, জাতীয় স্তরে স্টার হেলথের বাজার অংশীদারিত্ব রিটেল হেলথ ইন্স্যুরেন্সে ৩১% এবং স্ট্যান্ডঅ্যালোন হেলথ ইন্স্যুরারদের মধ্যে ৫৩%। FY26-এ কোম্পানির মোট GWP দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮,৬০০ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ১১% বেশি। বর্তমানে তারা সারা দেশে ২.৫ কোটি+ জীবন সুরক্ষিত করছে।
সংস্থার তরফ থেকে এও জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে কোম্পানির ডিজিটাল হেলথ ইকোসিস্টেম পৌঁছেছে ৯৪০ পিন কোডে। হোম হেলথকেয়ার সাপোর্ট ইতিমধ্যেই প্রায় ৫,৭৫০ গ্রাহককে সেবা দিয়েছে। এছাড়া আসানসোল ও শিলিগুড়ির আরোগ্য সেবা কেন্দ্র বিনামূল্যে প্রাথমিক ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করছে—যার মধ্যে রয়েছে চিকিৎসক পরামর্শ, ওষুধ, ডায়াগনস্টিকস এবং নিউমোকক্কাল ভ্যাকসিনেশন।

