ইয়েস ব্যাঙ্ক ২০২৬ অর্থবর্ষের চতুর্থ ত্রৈমাসিকের এবং সম্পূর্ণ বছরের জন্য শক্তিশালী আর্থিক ফলাফল ঘোষণা করেছে, যা লাভের ধারাবাহিক বৃদ্ধি, সম্পদের গুণমানের উন্নতি এবং বৃদ্ধির গতি নির্দেশ করে। এই প্রসঙ্গে এই বেসরকারি ব্যাঙ্কের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এই ত্রৈমাসিকে ব্যাঙ্কের মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১,০৬৮ কোটি টাকা। যা গত বছরের তুলনায় ৪৪.৭% বেশি। অন্যদিকে পুরো অর্থবর্ষে মুনাফা ৪৪.৫% বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৩,৪৭৬ কোটি টাকায়। ২০২৬ অর্থবর্ষের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে ব্যাংকটির নিট সুদ আয় (Net Interest Income) ছিল ২,৬৩৮ কোটি টাকা, যা বার্ষিক ভিত্তিতে (Y-o-Y) ১৫.৯% বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ত্রৈমাসিকে নিট সুদের মার্জিন (Net Interest Margins) বার্ষিক ভিত্তিতে ২০ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ২.৭% দাঁড়িয়েছে। পুরো বছরের জন্য ব্যাঙ্কটির অ-সুদ আয় (Non-Interest Income) ১৫.৪% বৃদ্ধি পেয়ে ৬,৭৫৯ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
এর পাশাপাশি ব্যাঙ্কের তরফ থেকে এও জানানো হয়েছে, ২০২৬ অর্থবর্ষের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে ইয়েস ব্যাঙ্কের পরিচালন মুনাফা গত বছরের তুলনায় (Y-o-Y) ২৩.১% বৃদ্ধি পেয়ে ১,৬১৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ব্যাংকটির ব্যয়-আয় অনুপাত (cost-to-income ratio) ৬৩%, যা গত অর্থবর্ষের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে ছিল ৬৭.৩%। ২০২৬ অর্থবর্ষের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে সম্পদের ওপর আয়ের হার (RoA) ছিল ১.০%, যেখানে গত অর্থবর্ষের একই সময়ে তা ছিল ০.৭%। মোট আমানত গত বছরের তুলনায় ১২.১% বৃদ্ধি পেয়ে ৩ লক্ষ কোটি টাকার মাইলফলক অতিক্রম করেছে এবং ৩,১৮,৯৬৯ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। CASA আমানত গত বছরের তুলনায় ১৪.৯% বৃদ্ধি পেয়ে ১,১১,৯৫৯ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। CASA অনুপাত ৩৫.১%, যা ২০২৫ অর্থবর্ষের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে ছিল ৩৪.৩%।
ইয়েস ব্যাঙ্কের এই ফলাফল সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে ইয়েস ব্যাঙ্কের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার বিনয় এম টনসে জানান, ‘ইয়েস ব্যাংক ২০২৬ অর্থবর্ষ একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর শেষ করেছে এবং আমাদের যাত্রার সাথে সঙ্গতি রেখে চতুর্থ ত্রৈমাসিকে ১.০% রিটার্ন অন অ্যাসেট (RoA) অর্জন করেছে। এটি সম্ভব হয়েছে NIM-এ ২০ বেসিস পয়েন্টের উন্নতি, ব্যয়–আয় অনুপাতে উন্নতি এবং ২০২০ অর্থবর্ষের পর থেকে সর্বনিম্ন GNPA ও NNPA স্তরের কারণে। অগ্রিম ও আমানত উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাপক বৃদ্ধির সাথে ব্যবসার গতি অব্যাহতভাবে শক্তিশালী হয়েছে, যার মূলে ছিল একটি মজবুত CASA-চালিত আমানত ব্যবস্থা যা আমানতের ব্যয় কমাতে অবদান রেখেছে। ২০২৬ অর্থবর্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত মাইলফলক হলো, SMBC-র আমাদের বৃহত্তম শেয়ারহোল্ডার হওয়া, যা ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদী সম্ভাবনার প্রতি বিশ্বব্যাপী প্রাতিষ্ঠানিক আস্থাকে পুনঃনিশ্চিত করেছে। আমরা যখন ২০২৭ অর্থবর্ষে প্রবেশ করছি, তখন আমাদের অগ্রাধিকারগুলো দৃঢ়ভাবে নিবদ্ধ রয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিকে শক্তিশালী করা, উচ্চ মানের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা এবং একটি স্থিতিস্থাপক ইয়েস ব্যাংক গড়ে তোলার পথে এগিয়ে যাওয়ার ওপর, যা ধারাবাহিকভাবে সকল অংশীদারদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী মূল্য তৈরি করবে।’

