অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক এবং আইআইএস-এর যৌথ উদ্যোগে ভারতের জুডো প্রতিভা বিকাশ

ভারতের খেলাধুলোর সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক সাফল্যের মঞ্চে পৌঁছে দিতে বড় পদক্ষেপ করল অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি ব্যাঙ্ক অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক। ‘ইনস্পায়ার ইনস্টিটিউট অফ স্পোর্ট’ (আইআইএস)-এর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক জুডো ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম’-এর মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে দেশের আগামী দিনের জুডো তারকারা। তৃণমূল স্তর থেকে শুরু করে অলিম্পিক প্রস্তুতির স্তর পর্যন্ত ইতিমধ্যেই ৫০০-রও বেশি প্রতিভাবান অ্যাথলিটকে সাহায্য করেছে এই কর্মসূচি। সম্প্রতি ২০২৬ গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্যতা অর্জন করেছেন চার জন মহিলা জুডোকা— যা এই প্রকল্পের সাফল্যের মুকুটে এক নতুন পালক যোগ করল।

কমনওয়েলথ গেমসের ভারতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছেন মধ্যপ্রদেশের ইয়ামিনী মৌর্য (৫৭ কেজি), উত্তরাখণ্ডের উন্নতি শর্মা (৬৩ কেজি), মণিপুরের তাখেলম্বম ইনুঙ্গানবি (৭০ কেজি) এবং পাঞ্জাবের ইশরূপ নারং (৭৮ কেজি)। অ্যাথলিটদের দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ, বিশ্বমানের কোচিং, স্পোর্টস সায়েন্সের সঠিক ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক এক্সপোজারের ফলেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছে ক্রীড়া মহল।

প্রকল্পটির ঝুলিতে এসেছে আরও এক ঐতিহাসিক কৃতিত্ব। পেরুতে আয়োজিত ২০২৫ সালের ‘ওয়ার্ল্ড জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপ’-এ ব্রোঞ্জ পদক জিতে ভারতের প্রথম জুডোকা হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন লিংথোই চানামবাম।

এখানেই শেষ নয়, ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি ভারতের সামগ্রিক জুডো পরিকাঠামো শক্তিশালী করতে কাজ করে চলেছে এই যৌথ উদ্যোগ। বিশেষ করে মণিপুর এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের তৃণমূল স্তরীয় উদ্যোগ এবং ‘আইআইএস হাই পারফরম্যান্স সেন্টার’-এর সাহায্যে এ পর্যন্ত ৪৭১ জন তরুণ জুডোকা এবং ৫৩ জন শীর্ষস্তরের মহিলা অ্যাথলিটকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এই কর্মসূচির অধীনে থাকা অ্যাথলিটরা রাজ্য, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ১৪০টিরও বেশি পদক জয় করেছেন। এ ছাড়া জাপান, জর্জিয়া এবং উজবেকিস্তানের মতো বিশ্বসেরা জুডো কেন্দ্রগুলিতে ১১টি আন্তর্জাতিক ট্রেনিং ক্যাম্পের সুযোগ পেয়েছেন তাঁরা।

শুধু খেলার মাঠেই নয়, ক্রীড়াবিদদের সামগ্রিক বিকাশের লক্ষ্যে এখানে রয়েছে পুষ্টিবিদ, স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং বিশেষজ্ঞ, মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সহায়তা এবং পড়াশোনার সুযোগ সুবিধা। উত্তর-পূর্ব ভারতে মণিপুর জুডো অ্যাসোসিয়েশনের মতো স্থানীয় সংস্থার সহায়তায় এবং অলিম্পিয়ান সুশীলা দেবীর তত্ত্বাবধানে প্রতিভাদের নতুন করে তুলে আনা হচ্ছে। এর ফলে অশান্ত বা প্রতিকূল পরিবেশের তরুণেরাও একটি নিরাপদ ও সুনির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ পরিকাঠামোর সুযোগ পাচ্ছেন।

এই সাফল্য প্রসঙ্গে অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কের ‘গ্রুপ হেড – হোলসেল ব্যাঙ্ক কভারেজ, কর্পোরেট স্যালারি, সাসটেইনেবিলিটি ও সিএসআর’ বিজয় মূলবাগল জানান,“দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বের মাধ্যমেই স্থায়ী প্রভাব ফেলা সম্ভব বলে আমরা মনে করি। ‘ইনস্পায়ার ইনস্টিটিউট অফ স্পোর্ট’-এর সঙ্গে আমাদের এই উদ্যোগ উদীয়মান প্রতিভাদের বিশ্বমানের কোচিং ও পরিকাঠামো পেতে সাহায্য করছে। চার জন কমনওয়েলথ গেমসে যোগ্যতা অর্জন করার মাধ্যমে এটিই স্পষ্ট যে, সঠিক পরিকাঠামো ও বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণ পেলে ভারতীয় ক্রীড়াবিদরাও বিশ্বমঞ্চে নাম উজ্জ্বল করতে প্রস্তুত।”

আইআইএস-এর সভাপতি মণীষা মলহোত্রার কথায়, ‘খেলোয়াড়দের প্রতিটি ধাপে পাশে থাকার উদ্দেশ্য নিয়েই অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কের সঙ্গে এই কর্মসূচির সূচনা হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি একটি সমন্বিত প্রশিক্ষণ পরিকাঠামোয় পরিণত হয়েছে। সমান সুযোগ তৈরি করা, মহিলা অ্যাথলিটদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং খেলাধুলোর এক টেকসই পরিবেশ গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’

আগামী দিনে উত্তর-পূর্ব ভারতে নিজেদের নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত করা এবং বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় জুডোকাদের পারফরম্যান্স আরও উন্নত করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক ও আইআইএস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

thirteen − ten =